ইসলামে ওয়াক্বফ আইন : কী ও কেন!

ইহসান ইলাহী যহীর 1645 বার পঠিত

ভূমিকা : আদিকাল থেকেই পৃথিবীতে আল্লাহর রাস্তায় ওয়াক্বফ করার বিধান রয়েছে। জাহান্নাম থেকে মুক্তিকামী মুমিনরা মৃত্যুর পরেও যেন তার সৎকর্মের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যেই মূলত আললাহর রাহে সম্পদ ওয়াক্বফ করে থাকেন। সেকারণ বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে আমরা ইসলামে ওয়াক্বফের বিধান, পার্শ্ববর্তী দেশে ওয়াক্বফ সম্পত্তির উপর অন্যায় হস্তক্ষেপ ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করবো ইনশাআল্লাহ।

ওয়াক্বফের পরিচয় : আভিধানিক অর্থে اَلْوَقْفُহ’লالْحَبْسُ وَالْمَنْعُ، বা উৎসর্গ, সীমাবদ্ধকরণ, অবস্থান, বিরতি, আটক, থামা, নিবৃত্তি ইত্যাদি। বহুবচন أَوْقَافٌ।[1] পারিভাষিক অর্থে اَلْوَقْفُ হ’ল এমন দান, যা আল্লাহর রাস্তায় পরিপূর্ণভাবে স্বত্ব প্রদান করা হয় এবং এর উপকারিতা মুসলিমগণ সমানভাবে পেয়ে থাকেন’।[2]

ওয়াক্বফের প্রকারভেদ : ওয়াক্বফ দুইভাগে বিভক্ত। যেমন (ক) الوَقْفُ الخَيْرِيُّ বা জনকল্যাণমূলক ওয়াক্বফ। এটি মূলত একটি দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রদত্ত। জনগণের মধ্যে কারও মালিকানাধীন থাকে না এবং এটি সকল মুসলমানের উপকারের জন্য লিল্লাহ উৎসর্গীত হয়। যেমন দরিদ্র-অভাবীদের জন্য দাতব্য প্রতিষ্ঠান, ইয়াতীমখানা, মসজিদ, দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, হাসপাতাল নির্মাণ এবং সকল মুসলমানের জন্য কল্যাণকর সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। (খ) الوَقْفُ الأَهْلِيُّ أَوِ الذُّرِّيُّ বা পারিবারিক ওয়াক্বফ। যেমন কেউ ওয়াক্বফ করল এই শর্তে যে, আমি এই জমি বা প্রতিষ্ঠান আমার জীবদ্দশায় নিজের তত্ত্বাবধানে এবং আমার মৃত্যুর পর আমার সন্তানদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে মর্মে দান করছি। একে ওয়াক্বফ ‘আলাল আওলাদ’ তথা ব্যক্তিগত ওয়াক্বফ বলা হয়।

ওয়াক্বফ সম্পত্তি কী? যে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তিকে পরকালীন মুক্তির স্বার্থে আল্লাহর নামে তাঁর রাস্তায় চিরকালের জন্য স্বত্ব দান করে দেওয়া হয়, তাকে ওয়াক্বফ সম্পত্তি বলা হয়। যা চ্যারিটি বা মানবকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়। নথিপত্রের যুগ শুরু হওয়ার বহু আগ থেকে এই ওয়াক্বফ পদ্ধতি দুনিয়ায় প্রচলিত আছে।

ওয়াক্বফ সম্পত্তি কারা ব্যবহার করেন? সাধারণত যে কোন জনসেবার কাজে ব্যবহৃত হয় এই সম্পত্তি। তবে কেউ উত্তরসূরী হিসাবে এই ওয়াক্বফ সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করেন। এই সম্পত্তি কখনও বিক্রয় বা মালিকানা হস্তান্তর করা যায় না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মুসাফিরখানা, ইয়াতীমখানা, কবরস্থান, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থল, দাওয়াহ সেন্টার প্রভৃতি জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য এই জমি ব্যবহার করা হয়।

ওয়াক্বফের উদ্দেশ্য : ওয়াক্বফের সবচাইতে বড় উদ্দেশ্য হ’ল দানকারীর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং এর দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদের উপকারের মাধ্যমে ছাদাক্বায়ে জারিয়ার পথ উন্মুক্ত রাখা। নিজের সম্পদকে সবসময় আল্লাহর পথে সম্পৃক্ত রাখা। এর মাধ্যমে মসজিদ, মাদ্রাসা, ইয়াতীমখানা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি ক্বিয়ামত পর্যন্ত রাহে লিল্লাহ ব্যবহৃত হওয়া।

কুরআনে ওয়াক্বফের দলীল : পবিত্র কুরআন মাজীদে সাধারণভাবে দানের প্রতি যথেষ্ঠ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নফসে আম্মারার কুপ্রবৃত্তি হ’তে নিবৃত্ত হয়ে কৃপণতাকে বর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৃত্যু আসার পূর্বেই যথাসাধ্য দান করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। আর জনকল্যাণমূলক এ সকল কাজের মূল উৎস রাহে লিল্লাহ ওয়াক্বফ করা।

(১) যেমন আল্লাহ বলেন, إِنْ تُقْرِضُوا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا يُّضَاعِفْهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ- ‘যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তাহ’লে তিনি তোমাদের জন্য সেটি বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন ও তোমাদের ক্ষমা করবেন। বস্ত্তত আল্লাহ গুণগ্রাহী ও সহনশীল’ (তাগাবুন ৬৪/১৭)

(২) তিনি বলেন,وَأَقِيمُوا الصَّلاَةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللهِ إِنَّ اللهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ- ‘তোমরা ছালাত কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর। আর তোমরা নিজেদের জন্য যেসব সৎকর্ম অগ্রিম প্রেরণ কর, তা তোমরা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সকল কৃতকর্ম প্রত্যক্ষ করেন’ (বাক্বারাহ ২/১১০)

(৩) তিনি অন্যত্র বলেন, وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَلِأَنْفُسِكُمْ وَمَا تُنْفِقُونَ إِلاَّ ابْتِغَآءَ وَجْهِ اللهِ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ يُّوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لاَ تُظْلَمُونَ- ‘আর তোমরা ধন-সম্পদ হ’তে যা ব্যয় কর, তা তোমরা নিজেদের জন্যেই করে থাক। অধিকন্তু তোমরা তো আললাহর চেহারা অন্বেষণ ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যয় করো না। বস্ত্তত উত্তম সম্পদ হ’তে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তার পুরস্কার তোমরা পুরাপুরি পেয়ে যাবে। তোমাদের প্রতি কোনরূপ অবিচার করা হবে না’ (বাক্বারাহ ২/২৭২)

(৪) তিনি আরও বলেন,يَآأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوآ أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُمْ مِّنْ قَبْلِ أَنْ يَّأْتِيَ يَوْمٌ لاَّ بَيْعٌ فِيهِ وَلاَ خُلَّةٌ وَّلاَ شَفَاعَةٌ وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ- ‘হে বিশ্বাসীগণ! আমরা তোমাদের যে রূযী দান করেছি তা থেকে তোমরা (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর সেদিন আসার আগেই, যেদিন নেই কোন ক্রয়-বিক্রয়, নেই কোন বন্ধুত্ব, নেই কোন সুফারিশ। বস্ত্তত কাফেররাই হ’ল যালেম’ (বাক্বারাহ ২/২৫৪)

(৫) অন্যত্র তিনি আরও বলেন,لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فَإِنَّ اللهَ بِهِ عَلِيمٌ- ‘তোমরা কখনোই কল্যাণ লাভ করবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্ত্ত থেকে দান করবে। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, আল্লাহ তা সবই জানেন’ (আলে ইমরান ৩/৯২)

হাদীছে ওয়াক্বফের দলীল : মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জীবদ্দশাতে বহু ছাহাবী এমনকি নবী করীম (ছাঃ) নিজেও আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ ওয়াক্বফ করেছেন। যেমন- (১) যেমন উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়াহ বিনতে হারেছের ভাই ‘আমর ইবনু হারেছ (রাঃ) বলেন, مَا تَرَكَ رَسُولُ اللهِ -صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا وَلاَ عَبْدًا وَلاَ أَمَةً، إِلاَّ بَغْلَتَهُ الْبَيْضَاءَ الَّتِى كَانَ يَرْكَبُهَا وَسِلاَحَهُ وَأَرْضًا جَعَلَهَا لاِبْنِ السَّبِيلِ صَدَقَةً- ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর মৃত্যুর সময় কোন দীনার, দিরহাম, ক্রীতদাস, ক্রীতদাসী এবং কোন বস্ত্তই ছেড়ে যাননি। তবে তিনি ঐ সাদা খচ্চরটি ছেড়ে গেছেন, যার উপর তিনি সওয়ার হ’তেন এবং তাঁর যুদ্ধাস্ত্র ও এক খন্ড জমি। যেগুলো তিনি সবই আল্লাহর রাস্তায় মুসাফিরদের জন্য ছাদাক্বাহ করে গেছেন’।[3]

(২) হাদীছে এসেছে, ‘আবু তালহা আনছারী (রাঃ) মদীনাতে খেজুর বাগান ওয়ালা বড় সম্পদশালী ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় ছিল ‘বায়রাহা’ কূপ। তা ছিল মসজিদে নববীর সম্মুখে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাতে যেতেন এবং তার মিঠা পানি পান করতেন। আনাস বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হ’ল, لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ، ‘তোমরা কখনোই কল্যাণ লাভ করবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্ত্ত থেকে দান করবে’ (আলে ইমরান ৩/৯২)। আবু তালহা রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা কখনও নেকী লাভ করতে পারবে না, যে পর্যন্ত না তোমরা দান কর যা তোমরা ভালবাস’। আর আমার নিকট আমার সর্বাপেক্ষা ভালবাসার বস্ত্ত হ’ল এই ‘বায়রাহা’। অতএব, আমি তা আল্লাহর নামে দান করলাম নেকী লাভ ও পরকাল আল্লাহর নিকটে তাকে সঞ্চিত ধনরূপে পাবার আশায়। হে আল্লাহর রাসূল! এটা নিয়ে যাকে ইচ্ছা তাকে দিয়ে দিন! এটা অনেক লাভজনক দান। আমি শুনলাম যা তুমি বললে, তবে আমি পসন্দ করি তুমি নিজেই তা তোমার আত্মীয়দের মধ্যে দান করে দিবে। এটা শুনে আবু তালহা বললেন, আচ্ছা, তবে আমি তা করব। অতঃপর তিনি তার নিকটাত্মীয় ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে ভাগে দান করে দিলেন’।[4]

(৩) রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ- ‘যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু ৩টি আমল ব্যতীত (ক) ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ (খ) এমন ইলম, যার দ্বারা উপকার সাধিত হয় এবং (গ) সুসন্তান যে তার জন্য দো‘আ করে’।[5]

(৪) ওমর (রাঃ) খায়বার যুদ্ধে গণীমতের একখন্ড জমি লাভ করলেন। অতঃপর তিনি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বললেন, يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أَصَبْتُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ لَمْ أُصِبْ مَالاً قَطُّ أَنْفَسَ عِنْدِي مِنْهُ فَمَا تَأْمُرُنِي بِهِ؟ قَالَ : إِنْ شِئْتَ حَبَسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا. فَتَصَدَّقَ بِهَا عُمَرُ : إِنَّهُ لاَ يُبَاعُ أَصْلُهَا وَلاَ يُوهب وَلاَ يُورث وَتصدق بهَا فِي الْفُقَرَاءِ وَفِي الْقُرْبَى وَفِي الرِّقَابِ وَفِي سَبِيلِ اللهِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَالضَّيْفِ لاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا أَنْ يَّأْكُلَ مِنْهَا بِالْمَعْرُوفِ أَوْ يُطْعِمَ غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ قَالَ ابْنُ سِيرِينَ : غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً- ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি খায়বারে একখন্ড জমি পেয়েছি, তার চেয়ে উত্তম কোন সম্পদ আমি আর কখনো লাভ করিনি। হে আল্লাহর রাসূল! এখন আমাকে এতে কি করতে বলেন? তখন তিনি বললেন, তুমি যদি চাও তবে এর মূলস্বত্ব রক্ষা করে উপার্জিত লভ্যাংশ দান করে দিতে পার। তাই ওমর (রাঃ) তা এরূপে দান করলেন যে, তার মূলস্বত্ব বিক্রি করা যাবে না, কাউকে হেবা তথা দান করা যাবে না এবং তাতে উত্তরাধিকার প্রবর্তিত হবে না। তা হ’তে উৎপাদিত ফল-ফসল দান করা হবে অভাবগ্রস্তদের মাঝে, আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে, দাস মুক্তকরণে, আল্লাহর পথে জিহাদে, মুসাফিরদের জন্য এবং মেহমানদের জন্য। যিনি উক্ত জমির মুতাওয়াল্লী হবেন, তিনি জমা না করে তা হ’তে ন্যায্যভাবে খেতে বা নিজ পরিবারকে খাওয়াতে পারবেন। এতে কোনো দোষ নেই’।[6]

(৫) যখন ওছমান (রাঃ) বিদ্রোহীদের শান্ত করার জন্য স্বীয় ঘরের ছাদে ওঠেন। ছাদের উপর হ’তে ওছমান (রাঃ) তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, ‘আমি তোমাদেরকে আল্লাহ এবং দ্বীন ইসলামের কসম দিয়ে প্রশ্ন করছি তোমরা কি জান যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হিজরত করে মদীনায় এলেন এবং রূমার কূপ ছাড়া এখানে অন্য কোথাও মিষ্টি পানির বন্দোবস্ত ছিল না? তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, যে ব্যক্তি রূমার কূপটি ক্রয় করে মুসলিমদের জন্য ওয়াক্বফ করে দিবে, সে জান্নাতে তার তুলনায় অধিক উত্তম প্রতিদান পাবে। অতঃপর আমি আমার মূল সম্পত্তি দিয়ে তা ক্রয় করি এবং দান করে দেই। অথচ আজ আমাকে সেই কূপের পানি পান করতে তোমরা বাধা দিচ্ছ?’।[7]

(৬) জাবের (রাঃ) বলেন,لَمْ يَكُنْ أَحَدٌ مِّنْ أَصَحَابِ النَّبِي -صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- ذُوْ مقدرة إِلاَّ وَقَفَ- ‘নবী করীম (ছাঃ)-এর এমন কোন সামর্থবান ছাহাবী ছিলেন না যে, তারা ওয়াক্বফ করেননি’।[8]

ওয়াক্বফের ক্ষেত্রে কতিপয় লক্ষণীয় বিষয় : ওয়াক্বফকারী যে সম্পত্তি দান করবেন, তা অবশ্যই বৈধ মালিকানার সম্পত্তি হ’তে হবে। ওয়াক্বফকারীকে অবশ্যই বালেগ ও সুস্থ মস্তিস্কের অধিকারী হ’তে হবে। ওয়াক্বফের উদ্দেশ্যে যে সম্পত্তি প্রদান করা হবে, তা অবশ্যই চিরস্থায়ীভাবে রাহে লিল্লাহ দান করতে হবে। ওয়াক্বফটি সম্পূর্ণ হওয়ার পর তার মালিকানা হস্তান্তর অযোগ্য হয়ে যায়। তবে ক্ষেত্রবিশেষ এর মোতাওয়াল্লী আদালত কিংবা ওয়াক্বফ প্রশাসকের লিখিত অনুমতিক্রমে রক্ষণাবেক্ষণকারীর দায়িত্ব হস্তান্তর করা যেতে পারে। ওয়াক্বফের উদ্দেশ্যে অবশ্যই মুসলিম আইন অনুযায়ী ইসলামী বা দাতব্য প্রকৃতির হবে। স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি উভয়ই ওয়াক্বফ করা যেতে পারে।

মসজিদে ওয়াক্বফ করা : নবী করীম (ছাঃ) হিজরত করে মদীনায় আগমন করেন। অতঃপর তিনি ছাহাবীদেরকে মসজিদ নির্মাণের আদেশ দিলেন। তাই তিনি বনী নাজ্জারের নেতৃস্থানীয় লোকদেরকে ডেকে পাঠালেন। তারা উপস্থিত হ’লে তিনি তাদের বললেন,يَا بَنِى النَّجَّارِ ثَامِنُونِى. فَقَالُوا لاَ نَطْلُبُ ثَمَنَهُ إِلاَّ إِلَى اللهِ. فَأَمَرَ بِقُبُورِ الْمُشْرِكِينَ فَنُبِشَتْ، ثُمَّ بِالْخِرَبِ فَسُوِّيَتْ وَبِالنَّخْلِ فَقُطِعَ، فَصَفُّوا النَّخْلَ قِبْلَةَ الْمَسْجِدِ- ‘হে বনী নাজ্জারের লোকজন! তোমরা আমার নিকট তোমাদের এই বাগানটি মূল্য নির্ধারণ করে বিক্রি করে দাও। তারা বললেন, না। আল্লাহর কসম! আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট এর মূল্য চাইনা। এটি আল্লাহর ওয়াস্তে দান করতে চাই। তাতে ছিল মুশরিকদের কবর, পুরানো কিছু ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘর-বাড়ী এবং খেজুর গাছ। নবী করীম (ছাঃ) মুশরিকদের কবরগুলো অন্যত্র স্থানান্তরিত করার আদেশ দিলেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরগুলো সমান করা হ’ল। খেজুর গাছগুলি কেটে ফেলা হ’ল এবং মসজিদের সামনে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হ’ল। দরজার উভয় পার্শ্বে পাথর বসিয়ে দিয়ে দরজার চৌকাঠ তৈরী করা হ’ল।[9]

দাওয়াত ও জিহাদে ওয়াক্বফ করা : একবার রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ওমরকে যাকাত আদায় করতে পাঠালেন। যেখানে খালেদ বিন ওয়ালীদ (রাঃ) যাকাত দেননি। এটা শুনে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন,وَأَمَّا خَالِدٌ ...قَدِ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ وَأَعْتُدَهُ فِي سَبِيلِ اللهِ- ‘কেননা খালেদ ইবনু ওয়ালীদ সে তার বর্ম এবং সমস্ত আসবাবপত্র আল্লাহর রাস্তায় ওয়াক্বফ করে রেখেছে’।[10] উক্ত হাদীছ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ফী সাবীলিল্লাহ খাতে দাওয়াত ও জিহাদের ফান্ডে ধন-সম্পদ ওয়াক্বফ করা যায়।

জনকল্যাণমূলক কাজে ও বিশুদ্ধ দ্বীন শিক্ষা বিস্তারে ওয়াক্বফ করা : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِنَّ مِمَّا يَلْحَقُ الْمُؤْمِنَ مِنْ عَمَلِهِ وَحَسَنَاتِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ عِلْمًا عَلَّمَهُ وَنَشَرَهُ وَوَلَدًا صَالِحًا تَرَكَهُ وَمُصْحَفًا وَرَّثَهُ أَوْ مَسْجِدًا بَنَاهُ أَوْ بَيْتًا لِابْنِ السَّبِيلِ بَنَاهُ أَوْ نَهْرًا أَجْرَاهُ أَوْ صَدَقَةً أَخْرَجَهَا مِن مَاله فِي صِحَّتِهِ وَحَيَاتِهَ يَلْحَقُهُ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِ- ‘মুমিনের মৃত্যুর পরও তার আমল ও নেক কাজসমূহের মধ্যে যে ছওয়াব তার নিকট বরাবর পৌঁছাতে থাকবে সেগুলি হ’ল (১) ইলম, যা সে শিক্ষা করেছে অতঃপর তা বিস্তার করেছে। (২) নেক সন্তান, যাকে সে দুনিয়ায় রেখে গিয়েছে অথবা (৩) কুরআন, যা মীরাছরূপে রেখে অথবা ওয়াকফ করে গিয়েছে অথবা (৪) মসজিদ, যা সে নির্মাণ করে গিয়েছে, অথবা (৫) মুসাফিরখানা, যা সে মুসাফিরদের জন্য তৈরী করে গিয়েছে, অথবা (৬) খাল, কূপ, পুকুর প্রভৃতি যা সে খনন করে গিয়েছে অথবা (৭) দান, যা সে সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় তার মাল হতে করে গিয়েছে। তার মৃত্যুর পরও এগুলির ছওয়াব তার নিকট সর্বদা পৌঁছতে থাকবে’।[11]

উৎপাদিত বস্ত্ত ওয়াক্বফ করা : ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) খায়বারের আমি যে একশত অংশ জমি পেয়েছি, তার চেয়ে অধিক প্রিয় কোন সম্পত্তি আমি আর কখনো পাইনি। আমি তা দান করার সংকল্প করেছি। নবী (ছাঃ) বলেন, اِحْبِسْ أَصْلَهَا وَسَبِّلْ ثَمَرَتَهَا- ‘তুমি মূল সম্পত্তি বহাল রেখে দাও এবং তার উপার্জন দান করো’।[12]

ভারতে বিতর্কিত ওয়াক্বফ সংশোধনী আইন : ভারতের ওয়াক্বফ বোর্ড মূলত মুসলিমদের ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত একটি সংস্থা। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে অন্যায্য ও বিতর্কিত ওয়াক্বফ সংশোধনী আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে। এই ধৃষ্ট সিদ্ধান্ত ভারতের ওয়াক্বফ সম্পত্তি পুনরুদ্ধারকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। আইনটি কার্যকর হ’লে মুসলিমরা নিজেদের পিতৃপুরুষের ওয়াক্বফকৃত জমির ওপর কর্তৃত্বহীন ‘ভিজিটর’ হয়ে যাবে। ওয়াক্বফ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যে বিতর্কিত ওয়াক্বফ নিয়ে প্রতিবাদ সহিংস হয়ে উঠেছে। বিতর্কিত এই সংশোধিত আইন বাতিল করতেই হবে। এটি শুধুমাত্র মুসলিমদের স্বাধীনতাকে খর্ব করেনি, বরং ভারতে সংখ্যালঘু সমস্ত মুসলিমদের সাংবিধানিক অধিকারেও অন্যায় হস্তক্ষেপ করছে। ‘ওয়াক্বফ বাই ইউজার’ হিসাবে মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধর্মীয় বা দানের কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিকে ওয়াক্বফ হিসাবে দাবি করতে পারে, এমনকি কাগজপত্র না থাকলেও। নতুন বিতর্কিত আইনে কেন্দ্রীয় ওয়াক্বফ কাউন্সিল ও রাজ্য ওয়াক্বফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য রাখার বিধান আছে। যেখানে মুসলিম সদস্যের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। কাউন্সিলে ২২ জনের মধ্যে ৮ জন এবং রাজ্য বোর্ডে ১১ জনের মধ্যে ৪ জন মুসলিম থাকবে। এই বিধান মুসলিম সম্প্রদায় ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।[13] সাম্প্রতিক সংশোধনের ফলে ওয়াক্বফ সম্পত্তির উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা হ্রাস পেয়েছে। দেশটির বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই আইন সংখ্যালঘু মুসলিমদের সাংবিধানিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার হরণের একটি প্রচ্ছন্ন কৌশল’।[14]

ভারতে নতুন বিতর্কিত ওয়াক্বফ আইনের ফলে কী পরিবর্তন হ’ল?

মুসলিম সমাজে ‘ওয়াক্বফ’ এবং হিন্দু সমাজের মধ্যে একে ‘দেবোত্তর সম্পত্তি’ বলে গণ্য করা হয়। ভারতের পার্লামেন্ট উত্তপ্ত তর্ক-বিতর্কের পর মুসলিম ওয়াক্বফ বিলটি পাশ করেছে। তার পর গোটা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা শত শত কোটি ডলার মূল্যের যাবতীয় ওয়াক্বফ সম্পত্তি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা হবে, তার পুরা পদ্ধতিটাই এখন বদলে যেতে চলেছে। ফলে হিন্দু ব্রাক্ষণ্যবাদী বিষাক্ত ছোবল পড়বে মুসলিমদের ওয়াক্বফকৃত সম্পত্তিতে। ধ্বংস হবে যুগ যুগ ধরে ইসলামী ঐতিহ্যের সোনালী সোপানগুলি। কর্তৃত্ব হারাবেন ওয়াক্বফ সম্পত্তির মুসলিম তত্ত্বাবধায়কগণ। আধিপত্য বিস্তার করবে উগ্র হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন।

নতুন সংশোধনী আইনে মুসলিমদের কী ক্ষতি হ’ল?

নথিপত্রের যুগ শুরু হওয়ার বহু আগ থেকে যুগযুগ ধরে একাধারে মুসলিম সমাজ ওয়াক্বফ সম্পত্তির ব্যবহার করে আসছে। তাই তাদের ওয়াক্বফ হিসাবে স্বীকৃতি পেতে অসুবিধা হয়নি। ভারতে অনেক ঐতিহাসিক ভবন ও জমিজমা বহুকাল আইনগতভাবে বৈধ ওয়াক্বফ সম্পত্তি হিসাবে স্বীকৃতি পেয়ে এসেছে। এগুলি ‘ওরাল ডিক্লারেশন’ (মৌখিক স্বীকৃতি) বা সামাজিক রীতিনীতি মেনে আল্লাহর রাস্তায় দান করা হয়েছিল। কিন্তু- (১) এখন নতুন আইনে বলা হয়েছে যে, কোনও সম্পত্তিকে ওয়াক্বফ বলে দাবি করতে হলে সংশ্লিষ্ট ওয়াক্বফ বোর্ডকে তার স্বপক্ষে বৈধ নথিপত্র জমা দিতে হবে। বিতর্কিত কেসগুলোতে বিশেষ করে সেই জমিটা যদি সরকারী মালিকানাধীন ‘খাস জমি’ বলে দাবি থাকে, সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ভারত সরকারের ওপরেই ন্যস্ত থাকবে।

(২) এতদিন ওয়াক্বফ সম্পত্তি নিয়ে কোনও বিতর্কের ক্ষেত্রে ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু নতুন আইনে বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। যার অর্থ যে কোন পক্ষ চাইলে আদালতের দ্বারস্থ হ’তে পারবে। এতে করে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হবেন।

(৩) এছাড়া নতুন আইনে দেশের সব ওয়াক্বফ সম্পত্তির জন্য একটি কেন্দ্রীয় নিবন্ধন পদ্ধতি বা ‘সেন্ট্রালাইজড রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’ গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। আইনটি বলবৎ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে সব বিদ্যমান ওয়াক্বফ সম্পত্তিকে ওই রেজিস্টারে নথিভুক্ত করাতে হবে। নতুন করে কোনও সম্পত্তিকে যদি ওয়াক্বফ হিসাবে নথিভুক্ত করাতে হয়, তাহ’লে সেটার জন্য আবেদনও এই সিস্টেমের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট ওয়াক্বফ বোর্ডের কাছে পেশ করতে হবে।

(৪) নতুন আইনে অমুসলিম ব্যক্তিরাও ওয়াক্বফ বোর্ড ও ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসাবে নিযুক্ত হ’তে পারবে। ফলে মুসলিমদের পবিত্র স্থানগুলিতে হিন্দুদের উৎপাত ও আধিপত্য বৃদ্ধি পাবে।

(৫) কোনও ওয়াক্বফ সম্পত্তির সার্ভে বা সমীক্ষা করানোর দরকার হ’লে তাতেও সরকারের ভূমিকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী তৎপর থাকবে। বস্ত্তত তারা এক্ষেত্রে ওয়াক্বফ বোর্ডের চেয়েও আধিপত্য বিস্তারকারী ও অধিক ক্ষমতাশালী হবে’।[15]

উপসংহার : পরিশেষে আমরা যেন ওয়াক্বফ নামক আল্লাহর রাস্তার আমানতের যথাযথ হেফাযত করি। ঠুনকো অজুহাতে, দেশীয় আইনের দোহাই দিয়ে এই আমানতের খেয়ানত না করি। ওয়াক্বফ প্রদানে মুসলিম সমাজকে উৎসাহিত করতে পারি। পরকালীন চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের হায়াতে আল্লাহর রাস্তায় কিছু সম্পদ ওয়াক্বফ করে যেতে পারি। আল্লাহ রববুল আলামীন আমাদেরকে জীবদ্দশায় আল্লাহর রাহে সম্পত্তি ওয়াক্বফ করার তাওফীক দান করুন, আমীন!

ড. ইহসান ইলাহী যহীর

[সভাপতি, বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ, ঢাকা দক্ষিণ ও
প্রিন্সিপ্যাল, মারকাযুস সুন্নাহ আস-সালাফী, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

 

[1]. ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, আল-মু‘জামুল ওয়াফী, ঢাকা : রিয়াদ প্রকাশনী, ৪৯তম মুদ্রণ ২০২৪, ১১৫৩ পৃ.।

[2]. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, ৫/৩৪৮, ১২/১৭৯ পৃ.।

[3]. বুখারী হা/৪৪৬১।

[4]. বুখারী হা/১৪৬১; মুসলিম হা/৯৯৮; মিশকাত হা/১৯৪৫।

[5]. মুসলিম হা/১৬৩১; মিশকাত হা/২০৩।

[6]. বুখারী হা/২৭৩৭; মুসলিম হা/১৬৩২; মিশকাত হা/৩০০৮।

[7]. তিরমিযী হা/৩৭০৩; মিশকাত হা/৬০৬৬; ইরওয়া হা/১৫৯৪।

[8]. ইরওয়াউল গালীল হা/১৫৮১।

[9]. বুখারী হা/১৮৬৮ প্রভৃতি।

[10]. বুখারী হা/১৪৬৮; মিশকাত হা/১৭৭৮।

[11]. ইবনু মাজাহ হা/২৪২; মিশকাত হা/২৫৪; ছহীহুল জামে‘ হা/২২৩১।

[12]. নাসাঈ হা/৩৬০৩; ছহীহ ইবনু হিববান হা/৪৮৯৯।

[13]. বাংলা বিডি নিউজ ২৪.কম, ২১ এপ্রিল ২০২৫।

[14]. দৈনিক যুগান্তর, ২১ এপ্রিল ২০২৫।

[15]. দিল্লী : বিবিসি নিউজ বাংলা, ৭ এপ্রিল ২০২৫।



বিষয়সমূহ: বিধি-বিধান
আরও