কাশ্মীর ট্রাজেডি ও হিন্দুত্ববাদের নীলনকশা

মুহাম্মাদ মুত্ত্বালিব 572 বার পঠিত

গত ২২শে এপ্রিল ২০২৫ ভারত শাসিত ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। যেখানে ২৬ জন পর্যটক নিহত এবং ২০ জনের অধিক আহত হয়। আর নাটকীয় ঘটনা ছিল ভারতেরই সাজানো। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। তবে তার আগে কাশ্মীর ও হিন্দুত্ববাদের রাজনীতি সম্পর্কে আমাদের অবগত হওয়া যরূরী।

কাশ্মীরের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :

(ক) নামকরণ : কাশ্মীর নামকরণ নিয়ে অনেক ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন কথা বলেছেন। তবে মুসলিম ঐতিহাসিকগণের মতে নূহ (আঃ) এর তিন জন ছেলে ছিলেন যাদের নাম যথাক্রমে ১. সাম ২. হাম ৩. ইয়াফেস। আর হামের ছেলের নাম ছিল কাশ। ধারণা করা হয় তার নামকরণে এই বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন জায়গার নাম রাখা হয়। যেমন : কাশগড়, কাশিপুর ও কাশ্মীর ইত্যাদি’।[1]

(খ) কাশ্মীর বলতে যা বুঝায় : তা মূলত ৩টি অঞ্চলে বিভক্ত। (১) জম্মু : যা হিমালয়ের পাদদেশে সমতল ভূমি। (২) কাশ্মীর : যার অবস্থান হিমালয়ের মাঝখানে বিস্তৃত এক উপত্যকা। (এই দুই যায়গায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই মুসলিম) (৩) লাদাখ : হিমালয়ের সুউচ্চ পর্বতমালার মধ্যে লাদাখ। যেখানে জনবসতি তুলনামূলক কম। আর এই জায়গায় শিখ ও বৌদ্ধ ধর্মের লোকদের সংখ্যা বেশি।

(গ) কাশ্মীরের বর্তমান ভৌগোলিক অবস্থা : কাশ্মীর যে অঞ্চলকে বুঝায় তা মূলত তিনটি দেশের মধ্যে ভাগ হয়ে আছে। যার প্রায় ৫৫% আছে ভারতে, যাকে জম্মু ও কাশ্মীর বলা হয়। প্রায় ৩০-৩৫% আছে পাকিস্তানে, যাকে আযাদ কাশ্মীর বলা হয়। আর প্রায় ১৫% চীনের কাছে আছে’।[2]

কাশ্মীর ভারত, পাকিস্তান ও চীনের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ভৌগোলিকভাবে কাশ্মীর তার পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের জন্য কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ বুঝতে চাইলে আমাদের এটা বুঝতে হবে যে, আজকে পাকিস্তানের যতটুকু কাশ্মীর আছে তা যদি ভারত নিয়ে নেয় আফগানিস্তানের সাথে সরাসরি ভূ-সংযোগ তৈরি হবে, যা ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন ভারতকে আফগানিস্তান যেতে হয় বা আফগানিস্তানের সাথে লেনদেন ইরাকের ট্রানজিট ব্যবহার করতে হয়। যা অনেক ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। আর পাকিস্তান যে অঞ্চল দখল রেখেছে তা যদি হারিয়ে ফেলে তাহ’লে চীনের সাথে আর ভূ-যোগাযোগ থাকবে না। চীন কাশ্মীরের কিছু অংশ দখলে রাখার কারণে গুয়াদার পোর্ট দিয়ে ইউরোপ, আমেরিকা ও সৌদি আরব থেকে যে সকল জিনিসপত্র আসে তা সহজেই নিজেদের দেশে নিয়ে আসতে পারে। যা তাদের জন্য ব্যবসায়িক একটা রাস্তা খুলে দিয়েছে। যার ফলে তাদেরকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া আর ওই থাইল্যান্ডের সমুদ্র হয়ে মালামাল নিয়ে আসা লাগেনা। তাছাড়া কাশ্মীরের ফলমূল ও পর্যটকদের থেকে তিনটি দেশই লাভবান হয়ে থাকে। এক্ষণে হয়তো আমরা বুঝে গেছি ভৌগোলিকভাবে কাশ্মীর ভারত, পাকিস্তান ও চীনের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত শাসিত কাশ্মীরের নিরাপত্তা :

কাশ্মীর এমন এক অপার সম্ভাবনাময় জায়গা যা কারোর যদি হাতছাড়া হয়, তাহ’লে তা হবে তাদের জন্য বড় দুঃখের কারণ। সেজন্য দেখা যায়, হিমালয়ের কঠিন তুষারপাতের সময়ও অতি কষ্টে দুই দেশের সেনাবাহিনী কঠোর পাহারায় থাকে। উল্লেখ্য যে, ভারত কাশ্মিরে নয় লক্ষ সেনা মোতায়েন করে রেখেছে।[3] যদিও ভারতীয় হলুদ মিডিয়া সেনাবাহিনীর এই তথ্যকে অতিরঞ্জিত বাড়াবাড়ি বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, কাশ্মীরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী সংখ্যা ৩ লক্ষ ৪৩ হাযার।[4] এই তথ্যকেই যদি আমরা তথ্য হিসাবে ধরি, তবুও তা প্রায় ৫৫,৫৩৮ বর্গকিলোমিটারের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট।

ভূস্বর্গ থেকে যুদ্ধক্ষেত্র :

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উত্তপ্ত, সংঘর্ষপ্রবণ ও বিক্ষত এক জনপদ হ’ল এই কাশ্মীর। গত প্রায় ৭১ বছর ধরে কাশ্মীর লড়াই করছে তাদের আত্মপরিচয়ের জন্য। কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের মতামত বা অংশগ্রহণ ছাড়াই এই কাশ্মীরের মালিকানা কিংবা নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হয়েছে বহুবার। এত বছর ধরে কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা সমস্যা চললেও কাশ্মীর সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি আজও। কাশ্মীরের সাধারণ মানুষেরা এখনো স্বপ্ন দেখেন এক স্বাধীন জন্মভূমির। বর্তমানে কাশ্মীর নামটি শুনলেই ভেসে উঠে আর্তনাদ করা ভয়ানক এক নগরীর। যেখানে প্রতিটি সেকেন্ড কাটাতে হয় সীমাহীন অনিরাপত্তার মধ্য দিয়ে’।[5]

কাশ্মীরে হিন্দুত্ববাদী ভারত কর্তৃক নির্যাতন :

১৯৮৯ সাল থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত কাশ্মীরে হিন্দুত্ববাদী ভারত কর্তৃক নির্যাতনের উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস। এই প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় এই ৩০ বছর সময়ে ভারতীয় বাহিনীর হাতে- (১) খুন হয়েছে ৯৫ হাযার ৭৪৭ জন। (২) যৌন নির্যাতন ও গধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১ হাযার ২৩৫ জন নারী। (৩) গ্রেফতার হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাযার ৪৭০ জন। (৪) কারাগারে খুন হয়েছে ৭ হাযার ১৬৬ জন। (৫) স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে ১ লাখ ১০ হাযার ৩৩৮ টি’।[6]

কাশ্মীরে লৌমহর্ষক নৃশংসতা :

জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া যেলার রাসানা গ্রামে আসিফাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। এতে নেতৃত্ব দেয় স্থানীয় মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক সাঞ্জি রাম, স্পেশাল পুলিশ কর্মকর্তা দীপক খাজুরিয়া ও সুরেন্দ্র বর্মা, সাঞ্জি রামের বন্ধু পরভেশ কুমার ওরফে মন্নু, রামের নাবালক ভাতিজা ও ছেলে বিশাল জঙ্গোত্র ওরফে শম্মা। কত জঘন্য চিন্তা করুন- বাপ, ছেলে, ভাতিজা, বন্ধু মিলে এক মুসলিম নাবালিকাকে তাদের উপসানালয় মন্দিরে রেখে গণধর্ষণ করেছে, পরে মাথা থেতলে হত্যা করেছে। এই বর্বরোচিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মন্দির তত্ত্বাবধায়ক সাঞ্জি রাম তদন্ত কর্মকর্তাদের ঘটনার তদন্ত প্রভাবিত করতে ঘুষ দেয়। এ বিষয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে হেড কনস্টেবল তিলক রাজ ও সাব-ইন্সপেক্টর আনন্দ দত্ত অভিযুক্ত সাঞ্জি রামের কাছ থেকে চার লাখ রুপি ঘুষ দিয়ে ঘটনার প্রমাণ নস্যাৎ করেছে’।[7]

(৪) হিন্দুত্ববাদ ও তাদের পরিকল্পনা :

প্রথমত হিন্দু ধর্ম বা Hinduism হ’ল ভারতীয় উপমহাদেশে উদ্ভূত একটি প্রাচীন ধর্ম ও জীবনদর্শন যা বেদ, উপনিষদ, গীতা ও অন্যান্য শাস্ত্রের উপর ভিত্তি করে গঠিত’।[8] আর যিনি হিন্দু ধর্ম পরিচয়, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি মেনে চলেন তিনি হচ্ছেন হিন্দু ধার্মিক।

দ্বিতীয়ত হিন্দুত্ববাদ হ’ল ভারতীয় হিন্দু সন্ত্রাসীদের এমন এক মতবাদ, যা সকল নাগরিকদের উপর চাপিয়ে দিতে চায়। ধর্ম ও জাতীয়তাবাদকে এক করে দেখা হয় হিন্দুত্বে। মনে করা হয়, হিন্দু ধর্মীয় পরিচয় এবং ভারতীয় জাতীয় পরিচয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হিন্দুরা হবে সেখানকার প্রথম শ্রেণীর নাগরিক। আর বাকি সব গরু ছাগলের চেয়েও নিচু শ্রেণীর। তারা সকলকে এক জাতিগত পরিচয় ‘হিন্দু’ হিসাবে পরিচিত করতে চায়। এজন্য তারা মুসলিম তথা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপর খুন, গুম, লুট সহ সব ধরনের ত্রাস চালায়। এনিয়ে তাদের একটু সুদুর পরিকল্পনাও আছে আর তাহ’ল, হিন্দুত্ববাদ এর উপর প্রতিষ্ঠিত অখন্ড ভারত। যা হবে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান সহ আশেপাশের সকল দেশ মিলিয়ে। এ লক্ষ্য পূরণে তারা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এই মতবাদকে পুঁজি করে বিজেপি তথা মোদী সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং আগামীতেও থাকার চেষ্টা করছে। ভারতের অধিকাংশই হিন্দু। আর হিন্দুত্ববাদী মতবাদ প্রতিষ্ঠা করে হিন্দুদের ভোট পেলেই সে সারা জীবন ক্ষমতায় থাকতে পারবে বলে মনে করছে। যেমনটা প্রচলিত গণতন্ত্রে হয়ে থাকে’।[9]

(৫) কাশ্মীর ট্রাজেডি ও হিন্দুত্ববাদের রাজনীতি :

গত ২২শে এপ্রিল পেহেলগামে যে হামলা সংগঠিত হয় তা কিন্তু কাশ্মীরের ইতিহাসে নতুন নয় বরং সর্বশেষ ২০১৯ সালেও এর থেকে ভয়াবহ হামলা হয়। যেখানে প্রায় ৪০ জন নিহত হন।[10] শুধু তাই নয় এর আগেও ২০১৭, ২০০০, ২০০১, এমনকি ১৯৮৫ সালেও হয়েছিল। তবে ২০১৯ সালের হামলাটি ছিল বেশ সাড়া জাগানো। এ হামলার পিছনের কারণ হিসাবে অনেকেই বলেন, ২০১৯ সালে কাশ্মীরকে দেওয়া ভারতের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়। ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা এবং ধারা-৩৫ ছিল, কাশ্মীরে কোন ভারতীয় নাগরিক যিনি কাশ্মীরের নাগরিক নন এমন কেউ কাশ্মীরে জমি ক্রয় ও বসতি স্থাপন করতে পারবে না। যা ২০১৯ সালে বাতিল করা হয় এবং সেই সাথে কাশ্মীরের স্বায়ত্ত্বশাসনও বাতিল করা হয়। যা কাশ্মীরীদের স্বার্থ বিরোধী। যা নিয়ে কাশ্মীর আন্দোলনও করেছিল। যার ফলে অনেকে মনে করেন সে হামলাটি নিরব এক প্রতিবাদ ছিল।

উল্লেখ্য যে, জঙ্গলের ভেতর থেকে সামরিক পোশাক পরা চারজন সশস্ত্র লোক বেরিয়ে এসে পেহেলগামের পর্যটকদের উপর গুলে ছুড়ে। এতে করে ২৬ জন সাধারণ পর্যটক সেখানে প্রাণ হারায়। ভারত সরকার এবং মিডিয়া এই ২৬ জনকে সাধারণ পর্যটক বললেও হামলাকারী গোষ্ঠীর ভাষ্যমতে এরা সাধারণ পর্যটক না। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে এদের যোগাযোগ আছে। এরা ছদ্মবেশে পেহেলগামের তথ্য সংগ্রহ করতে এসেছিল। তারা আরো জানায় এই হামলার মূল কারণ হচ্ছে এই যে ভারত সরকার কাশ্মীরে অন্যান্য ভারতীয়দেরকে থাকার এবং বসতি গড়ে তোলার অনুমতি দিচ্ছে এইটা।

কাশ্মীর খুব সিকিউরড্ একটা জায়গা। বিশেষ করে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র পেহেলগামও কিন্তু অনেক সিকিউরড্। পুরো কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সময়ে সেনা উপস্থিতি আরো বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এবারের ঘটনা ঘটার সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি পেহেলগামে কোন সেনাবাহিনী ছিল না। একজন পর্যটক বললেন যে পুরো কাশ্মীরে নাকি ২০ মিনিট অন্তর অন্তর আর্মির দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু পেহেলগামে তখন কোন আর্মি ছিল না। এইটা কি করে সম্ভব? এমনকি আর্মি ততটা দ্রুত সময়ের মধ্যেও সেখানে আসতে পারেনি যতক্ষণে পর্যটকদেরকে ধর্ম জিজ্ঞেস করে তাদের ২৬ জনকে মেরে হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। ওইটুকু সময়ের মধ্যে তারা এমন ভাবেই পালিয়েছে এখনো তাদেরকে খুঁজে পায়নি ভারতীয় আর্মি। তার মানে এই হামলার পেছনে কোন একটা ঘাপলা তো আছেই। হ্যাঁ, হামলা প্রতিরোধে হয়তো ভারত সরকারের ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ছিল যেই গাফিলতির আবার রাজনৈতিক ফায়দাও আছে। যেমন হামলার পরপরই ছড়িয়ে পড়েছে যে হিন্দু পরিচয় জিজ্ঞেস করেই মারা হয়েছে তার মানে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা পুরো ভারতব্যাপী ক্ষেপে উঠেছে। আর এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী আইডিয়াটা নরেন্দ্র মোদির ভোট বৃদ্ধিতে কাজ করে। আবার এই হামলা এবং হামলার প্রচারণার মাধ্যমে ভারতের মুসলিমদের সম্পর্কে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। এতে করে সম্প্রতি ভারতে মুসলিমদের ওয়াক্বফকৃত সম্পত্তি নিয়ে যে আইনের নতুন ধারা এসেছে এইটাকেও বৈধতা দেওয়া যায়। এই আইনের ফলে মুসলিমদের প্রতি যে কিছু মানুষ সহানুভূতি দেখাচ্ছিল সেই জায়গাটা ভেঙে দেওয়া যায়। কারণ কাশ্মীরের ঘটনার মাধ্যমে তো এইটা প্রমাণ হচ্ছে যে মুসলিমরা হিন্দুদের রক্তের শত্রু।।[11]

আবার রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারতে পাকিস্তান বিরোধী একটা ব্যাপক সেন্টিমেন্ট কাজ করে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে এই ঘটনার জন্য ভারত পাকিস্তানকেই দায়ী করেছে এবং সেই সাথে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত পাঁচটি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিন্ধুর পানিবন্টন চুক্তি বাতিল করা, সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া, পাকিস্তানি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ বন্ধ করা এবং যারা প্রবেশ করেছে তাদের ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই এই ভারত ত্যাগ করা। ভারতে অবস্থিত পাকিস্তানি হাইকমিশনের লোকবল কমানোর সিদ্ধান্ত এবং হাইকমিশনের বিভিন্ন সামরিক যে উপদেষ্টা যারা আছে তাদেরকেও এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানে এই সরকার যে ব্যাপকভাবে পাকিস্তান বিরোধী এবং ভারতের নিরাপত্তার জন্য যেকোনো কিছু করতে পারে সেইটা প্রমাণ করা হচ্ছে এসব কাজের মধ্য দিয়ে।

কাশ্মীরকে নিয়ে হিন্দুত্ববাদের ভবিষ্যৎ প্ল্যান :

যেখানে কাশ্মীর একটি স্বায়ত্তশাসন বিশিষ্ট ও বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন একটি রাজ্য ছিল। সেখানে তাদের মর্যাদা কেড়ে ভারত সরকার সম্ভ্রান্ত হিন্দুদেরকে কাশ্মীরে স্থানান্তর করে নাগরিক করার প্রচেষ্টায় ব্রত হয়েছে। যা কাশ্মীরের নিয়ম ও স্বার্থ বিরোধী। কিন্তু তারা এ নিয়মকে ভঙ্গ করে কাশ্মীরে হিন্দু বসতি স্থাপন করতে উঠে পড়ে লেগেছে। কাশ্মীরের বাইরের মানুষ জমি ক্রয় করতে পারবেনা, এ সিদ্ধান্তকে বাতিল করে, কাশ্মীর ভ্যালিতে যেখানে হাযার বছর আগে ব্রাহ্মণ্য পন্ডিতরা বসবাস করত বলে জানা যায় যার দু’একটা পরিবার এখনো আছে সেই জায়গাতে সারা ভারত থেকে আবারো ব্রাহ্মণ্য পন্ডিতদেরকে নিয়ে এসে মুসলিমদেরকে উচ্ছেদ করে অর্থাৎ তাদের বক্তব্যগুলোতে দ্বিতীয় গাযা করে হিন্দুত্ববাদী আধিপত্য বিস্তার করা। মুসলমানদেরকে কৌশলে ফিলিস্তিনের মত সংখ্যালঘুতে পরিণত করা। হত্যা করে, উচ্ছেদ করে বা জমি কেড়ে নিয়ে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোই হচ্ছে তাদের পরিকল্পনা। যা আজ কারো কারো কাছে অসম্ভব মনে হ’লেও আগামীতে কিন্তু তারা সে পথেই হাঁটছে।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ক্ষয়-ক্ষতি :

অবশেষে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান ৮৭ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতে ভারতের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮৩ বিলিয়ন ডলার। ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত ভারতের শেয়ারবাজারে ক্ষতি হয়েছে ৮২ বিলিয়ন ডলার। উত্তর ভারতের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বিমান চলাচলে। আইপিএল বন্ধ হওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হয় ৫০ মিলিয়ন ডলার। সামরিক অভিযানে ব্যয় হয়েছে ১০০ মিলিয়ন ডলার, যুদ্ধবিমান হারিয়ে ক্ষতি হয়েছে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। লজিস্টিক ও বাণিজ্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ২ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে পাকিস্তানের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় চার বিলিয়ন ডলার। করাচি শেয়ারবাজারে সূচক পড়ে গিয়ে ক্ষতি হয় ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) বন্ধ থাকায় ক্ষতি হয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার। আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ক্ষতি হয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার, আর সামরিক খাতে প্রতিদিন ২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পাশাপাশি ড্রোন বিধ্বস্ত ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়তে ব্যয় হয় ৩০০ মিলিয়ন ডলার। তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানের চেয়ে ২০ গুণ বেশি ক্ষতি হয়েছে ভারতের’।[12]

শেষ কথা :

এক্ষণে মুসলিম বিশ্বের উচিত ভারত ও কাশ্মীরের মুসলিমদের সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফীক দিন এবং মুসলিম বিশ্বকে আল্লাহ যে প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়েছেন তার সঠিক ব্যবহার করার তাওফীক দিন-আমীন!

মুহাম্মাদ মুত্ত্বালিব

[ছাত্র, ছানাবিইয়াহ, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, সপুরা, রাজশাহী]


[1]. Wikipedia.

[2]. United Nation Reports.

[3]. Wikipedia.

[4]. Wikipedia : Indian Army operations in Jammu and Kashmir.

[5]. https://muslimportbd.com.

[6]. https://alfirdaws.org/2021/10/11/53202/।

[7]. https://alfirdaws.org/2021/10/11/53202/।

[8]. Wikipedia

[9]. ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদ কীভাবে ভারতের রাজনীতির নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠল?’ বিবিসি বাংলা ১১মে ২০২৪।

[10]. ৩রা মে বিবিসি নিউজ বাংলা, শিরোনাম : ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা যেভাবে ‘প্রশমিত’ হয়েছিল অতীতে।

[11]. https://rtvonline.com.

[12]. https://www.risingbd.com/international/news.



আরও