নিয়তের শক্তি

তাওহীদের ডাক ডেস্ক 596 বার পঠিত

আল্লাহ হলেন মহাপরাক্রমশালী। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। আল্লাহর কাছে চাইলে তিনি মানুষের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করে থাকেন। তাঁর কাছে চাইলে খুশী হন এবং বান্দার দো‘আ কবুল করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّيْ فَإِنِّيْ قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوْا لِيْ وَلْيُؤْمِنُوْا بِيْ لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُوْنَ- ‘আর যখন আমার বান্দারা তোমাকে আমার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে, (তখন তাদের বল যে,) আমি অতীব নিকটবর্তী। আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে আমাকে আহবান করে। অতএব তারা যেন আমাকে আহবান করে এবং আমার উপরে নিশ্চিন্ত বিশবাস রাখে। যাতে তারা সুপথপ্রাপ্ত হয়’ (বাক্বারাহ ২/১৮৬)। আর আল্লাহ চাইলেই তা হয়ে যায়। যেমন তিনি বলেন,إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ ‘যখন তিনি কিছু করতে ইচ্ছা করেন তখন তাকে কেবল বলেন, হও। অতঃপর তা হয়ে যায়’ (ইয়াসীন ৩৬/৮২)

হজ্জ-২০২৫-এর শুরুতেই ঘটে গেল এক বিস্ময়কর ঘটনা। বিশ্বের সকল মুসলিম অন্তত জীবনে একবার হলেও হজ্জ পালনের আকাংখা রাখেন। মে মাস থেকেই বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে মানুষ যখন মক্কার পানে যেতে আরম্ভ করেছেন, তখন লিবিয়ান একজন অতি সাধারণ যুবক আমের মাহদী মনছুর আল-গাদ্দাফী। এই বছর হজ্ব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ২৩শে মে হজ্জব্রত পালনের উদ্দেশ্যে লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সাবহা বিমানবন্দর পৌঁছলেন। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছেই সমস্যা শুরু হ’ল আমেরের নামের শেষে আল-গাদ্দাফী থাকার কারণে। ‘আল-গাদ্দাফী’ নামটি এখনও কিছু সিস্টেমে সন্দেহজনক হিসাবে চিহ্নিত রয়েছে, যা লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের প্রায় দশ বছর পরও অব্যাহত আছে। ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা দেখিয়ে ইমিগ্রেশনে তাকে আটকে রাখা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরা তাকে বলল, ‘একটু অপেক্ষা করুন, আমরা চেষ্টা করছি সমস্যাটা সমাধান করতে’।

এই সময়ে অন্যান্য হজ্জযাত্রীরা তাদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করে প্লেনে উঠে পড়ে। নির্ধারিত সময়ে পাইলট প্লেনের দরজা বন্ধ করে দেয়। কিছু সময় পর আমেরের সমস্যা সামাধান হলেও সময় ও নিরাপত্তার অযুহাত দেখিয়ে পাইলট দরজা খুলতে রাযী হ’ল না। তাই আমেরকে ফেলে রেখেই প্লেন চলতে শুরু করল এবং উড়ে গেল!

প্লেন উড়ে গেলে এক অফিসার তাকে বলল, এ বছর আল্লাহ তোমার জন্য তা ইচ্ছা করেননি। তখন আমের দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমার নিয়ত হজ্জের, ইনশাআল্লাহ আমি যাব। আর হজ্জ করতে না পারলে বাড়ি ফিরব না। অফিসার তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, মন খারাপ করো না, হয়তো এটা তোমার কপালে ছিল না। কিন্তু আমের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তিনি বললেন, ‘ইনশাআল্লাহ বিমান আবার আমার জন্য ফিরবে। এখান থেকে সরব না যতক্ষণ না আমার হজ্জে যাওয়া হচ্ছে’।

কিছুক্ষণ পর ফ্লাইটে একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয় এবং তা ফিরে আসতে বাধ্য হয়। একটু দেরি ও সামান্য মেরামতের পর আবার ফ্লাইটটি যাত্রা শুরু করলেও পাইলট আমেরের জন্য দরজা খুলতে রাযী হয়নি। অফিসার আবার বলল, হয়তো তোমার ভাগ্যে নেই’। কিন্তু আমের ছিল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, স্থির ও দৃঢ়চেতা। হতাশার ভেতরেও ঈমানের আলো জ্বেলে উঠে। সে বলল, আমার নিয়ত হজ্জের, ইনশাআল্লাহ আমি যাবই’।

প্লেনটি আবার উড়ে গেল এবং কিছুক্ষণ পর আরেকটি খবর এল যে প্লেনটিতে আবারও যান্ত্রিক সমস্যা হয়েছে এবং তা ফিরে আসছে! প্লেনটি ফিরে এল, মেরামত করা হ’ল। কিন্তু এবার পাইলট নিজেই বললেন, ‘আমি আর উড়ব না, যতক্ষণ না আমের প্লেনে ওঠে’। শেষ পর্যন্ত আমের প্লেনে উঠল। পাইলট স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে তার একটি ছবি তুলেছিল এবং তারা নিরাপদে সউদী আরবে পৌঁছেছিল। অতঃপর আমের সউদী আরবে পৌঁছে ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় তার এই কাহিনী বর্ণনা করেন। যেখানে তাকে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে হাসতে দেখা যায়। যা মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

এজন্য আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের একটি ‘আল-কাহ্হার’ (পরাভূতকারী, বশীভূতকারী)। অর্থাৎ তিনি কারণ সমূহকে পরাভূত করেন। আপনার জন্য সব নিয়ম ভেঙে দিতে পারেন, কেবল আপনাকে সন্তুষ্ট করার জন্য। তাই ‘কীভাবে’, ‘কখন’ এসব নিয়ে বেশি চিন্তা না করে বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। তিনি চাইলে যেকোন পরিস্থিতি উল্টে দিতে পারেন এবং পথ সহজ করে দিবেন। এমনকি অসম্ভবকেও বাস্তবে রূপ দেবেন। শর্ত একটাই নিয়ত হোক পবিত্র, আর ঈমান হোক অটল।



আরও