রিয়া বা লোক দেখানো আমল

তাওহীদের ডাক ডেস্ক 366 বার পঠিত

আল-কুরআনুল কারীম :

১- يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالْأَذَى كَالَّذِي يُنْفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ صَفْوَانٍ عَلَيْهِ تُرَابٌ فَأَصَابَهُ وَابِلٌ فَتَرَكَهُ صَلْدًا لَا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِمَّا كَسَبُوا وَاللهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ-

(১) ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা খোটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানগুলিকে বিনষ্ট করোনা। সেই ব্যক্তির মত, যে তার ধন-সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখানোর জন্য এবং সে আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস করেনা। ঐ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত একটি মসৃণ প্রস্তরখন্ডের মত, যার উপরে কিছু মাটি ছিল। অতঃপর সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হ’ল ও তাকে ধুয়ে ছাফ করে রেখে গেল। এভাবে তারা যা উপার্জন করে, তা থেকে কোনই সুফল তারা পায় না। বস্ত্তত আল্লাহ অবিশ্বাসী সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেন না ’ (বাক্বারাহ ২/২৬৪)

২- وَالَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَنْ يَكُنِ الشَّيْطَانُ لَهُ قَرِينًا فَسَاءَ قَرِينًا-

(২) ‘আর যারা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে এবং আল্লাহর প্রতি ও বিচার দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে না (তাদের জন্যেও একই শাস্তি)। বস্ত্তত শয়তান যার সঙ্গী হয়েছে, সে নিকৃষ্ট সঙ্গীই বটে!’ (নিসা ৪/৩৮)

৩- إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَى يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللهَ إِلَّا قَلِيلًا-

(৩) ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে। আর তিনিও তাদের বদলা নেন। যখন তারা ছালাতে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়। তারা লোকদের দেখায় এবং আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে’ (নিসা ৪/১৪২)

৪- وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ خَرَجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بَطَرًا وَرِئَاءَ النَّاسِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَاللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ-

(৪) ‘আর তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা তাদের বাসস্থান (মক্কা) থেকে বের হয়েছিল দর্পভরে ও লোক দেখিয়ে এবং যারা আল্লাহর পথ থেকে লোকদের বাধা দিত। অথচ আল্লাহ তাদের সকল কাজ পরিবেষ্টন করে আছেন’ (আনফাল ৮/৪৭)

৫- فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ- الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ- الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ- وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ-

(৫) অতঃপর দুর্ভোগ ঐসব মুছল্লীর জন্য’। ‘যারা তাদের ছালাত থেকে উদাসীন’। ‘যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে’। ‘এবং নিত্য ব্যবহার্য বস্ত্ত দানে বিরত থাকে’ (মা‘ঊন ১০৭/৪-৭)

৬- وَمَا مَنَعَهُمْ أَنْ تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَاتُهُمْ إِلَّا أَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ وَلَا يَأْتُونَ الصَّلَاةَ إِلَّا وَهُمْ كُسَالَى وَلَا يُنْفِقُونَ إِلَّا وَهُمْ كَارِهُونَ-

(৬) ‘আর তাদের অর্থ ব্যয় কবুল না হওয়ার এছাড়া অন্য কোন কারণ নেই যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অবিশ্বাসী। আর তারা ছালাতে আসে অলসভাবে এবং অর্থ ব্যয় করে অনিচ্ছুকভাবে’ (তাওবা ৯/৫৪)। 

৭- لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا فَلَا تَحْسَبَنَّهُمْ بِمَفَازَةٍ مِنَ الْعَذَابِ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

(৭) ‘যেসব লোকেরা তাদের কৃতকর্মে খুশী হয় এবং তারা যা করেনি, এমন কাজে প্রশংসা পেতে চায়, তুমি ভেব না যে, তারা শাস্তি থেকে বেঁচে যাবে। বস্ত্তত তাদের জন্য রয়েছে মর্মান্তিক আযাব’ (আলে ইমরান ৩/১৮৮)

হাদীছের বাণী :

৮- عَنْ جُنْدُبٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ- صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللهُ بِهِ، وَمَنْ يُرَائِي يُرَائِي اللهُ بِهِ-

(৮) জুনদুব (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি খ্যাতি অর্জনের জন্য কোন কাজ করে, আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য কোন কাজ করে, আল্লাহ তার সাথে লোক দেখানোর আচরণ করবেন’।[1]

৯- عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ- صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- فَقَالَ: الرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِلْمَغْنَمِ وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِلذِّكْرِ، وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِيُرَى مَكَانُهُ، فَمَنْ فِي سَبِيلِ اللهِ؟ قَالَ: مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللهِ هِيَ الْعُلْيَا فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ-

(৯) আবু মূসা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত এক বেদুঈন নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, এক ব্যক্তি গণীমতের মালের জন্য, এক ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য আর এক ব্যক্তি নিজ মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য জিহাদে অংশ গ্রহণ করল। তাদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে জিহাদ করল? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে উঁচু করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করল, সেই আল্লাহর পথে জিহাদ করল’।[2]

১০- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْإِيمَانُ يَمَانٍ وَالْكُفْرُ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالسَّكِينَةُ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ، وَالْفَخْرُ وَالرِّيَاءُ فِي الْفَدَّادِينَ أَهْلِ الْخَيْلِ وَالْوَبَرِ-

(১০) আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুললাহ (ছাঃ) বলেছেন, ঈমানের উৎস ইয়ামনীদের মধ্যে, কুফরের উৎস পূর্ব দিকে, নম্রতা বকরীওয়ালাদের মধ্যে আর অহংকার ও রিয়া চিৎকারকারী ঘোড়া ও উট পালকদের মধ্যে’।[3]

১১- عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ عَنِ النَّبِيِّ- صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- قَالَ: مَنْ أَكَلَ بِرَجُلٍ مُسْلِمٍ أُكْلَةً فَإِنَّ اللهَ يُطْعِمُهُ مِثْلَهَا مِنْ جَهَنَّمَ، وَمِنْ كُسِيَ ثَوْبًا بِرَجُلٍ مُسْلِمٍ فَإِنَّ اللهَ يَكْسُوهُ مِثْلَهُ مِنْ جَهَنَّمَ، وَمَنْ قَامَ بِرَجُلٍ مَقَامَ سُمْعَةٍ وَرِيَاءٍ فَإِنَّ اللهَ يَقُومُ لَهُ مَقَامَ سُمْعَةٍ وَرِيَاءٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ-

(১১) মুসতাওরিদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের পরোক্ষ নিন্দা করে এক গ্লাস খেল, আল্লাহ তাকে সে পরিমাণ জাহান্নামের আগুন খাওয়াবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের অপমানের বিনিময়ে কাপড় পরিধান করল, আল্লাহ সেটার বিনিময়ে তাকে সমপরিমাণ জাহান্নামের আগুনের পোশাক পরিধান করাবেন। আর যে ব্যক্তি কাউকে দাঁড় করায় বা নিজে দন্ডায়মান হয়ে লোকেদেরকে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখায়, ক্বিয়ামতের দিন স্বয়ং আল্লাহ তার ত্রুটি-বিচ্যুতি ও দুর্বলতা শোনানোর জন্য এবং দেখানোর জন্য তাকে দাঁড় করাবেন’।[4]

১২- عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ- صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الأَصْغَرُ. قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا الشِّرْكُ الأَصْغَرُ قَالَ الرِّيَاءُ إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ يَوْمَ تُجَازَى الْعِبَادُ بِأَعْمَالِهِمُ اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُمْ تُرَاءُونَ بِأَعْمَالِكُمْ فِى الدُّنْيَا فَانْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ عِنْدَهُمْ جَزَاءً -

(১২) মাহমূদ ইবনু লাবীদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, আমি তোমাদের জন্য যে ব্যাপারে সর্বাপেক্ষা বেশী আশঙ্কা করছি তাহ’ল ছোট শিরক। লোকেরা (ছাহাবীগণ) প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! ছোট শিরক কি? তিনি বললেন, লোক দেখানো আমল। আমলের বিনিময় প্রদানের দিন আল্লাহ ঐ সকল লোকেদেরকে বলবেন, তোমরা সেই সমস্ত লোকদের কাছে যাও, যাদেরকে দেখিয়ে দুনিয়াতে তোমরা আমল করেছিলে। আর লক্ষ্য করো তাদের নিকট থেকে কোন বিনিময় পাও কি-না?’।[5]

১৩- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَنْ يَحْرُمُ عَلَى النَّارِ وَبِمَنْ تَحْرُمُ النَّارُ عَلَيْهِ؟ عَلَى كُلِّ هَيِّنٍ لَيِّنٍ قَرِيبٍ سَهْلٍ-

(১৩) মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেনঃ যুদ্ধ দু’প্রকার। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যুদ্ধ করে, ইমামের আনুগত্য করে, উত্তম জিনিস খরচ করে, সহকর্মীর সাথে কোমল ব্যবহার করে এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারী কাজ থেকে বিরত থাকে, তার নিদ্রা ও জাগরণ সব কিছুই ছওয়াবে পরিণত হয়। আর যে ব্যক্তি অহংকার, লোক দেখানো ও সুনামের জন্য যুদ্ধ করে, ইমামের অবাধ্য হয় এবং দুনিয়াতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে, সে জিহাদের সামান্য ছওয়াব নিয়েও বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করে না’।[6]

মনীষীদের বক্তব্য :

১. হযরত আলী বিন আবী ত্বালিব (রাঃ) বলেছেন, রিয়াকারীর তিনটি আলামত রয়েছে (১) যখন একা থাকে, তখন আলস্য তাকে গ্রাস করে (২) যখন মানুষের মাঝে থাকে, তখন কর্মঠ হয়ে ওঠে (৩) কেউ প্রশংসা করলে সে আমল বাড়িয়ে দেয়, আর নিন্দা করলে আমল কমিয়ে ফেলে’।[7]

২. সাহল বিন আব্দুল্লাহ (রহঃ) বলেন, ‘রিয়া চিনতে পারে কেবল মুখলেছ ব্যক্তি। নিফাক্ব চিনতে পারে কেবল ঈমানদার। অজ্ঞতাকে বোঝে কেবল জ্ঞানী। আর গোনাহ বোঝে কেবল সে, যে আল্লাহর আনুগত্যে নিবেদিত’।[8]

৩. ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, রিয়া হ’ল হৃদয়ের গাছের একটি শাখা। যার ফল পৃথিবীতে ভয়, দুশ্চিন্তা, মনোবেদনা এবং অন্তরে অন্ধকার নিয়ে আসে। আর আখিরাতে এর ফল হ’ল যাক্কুম এবং স্থায়ী যন্ত্রণা’।[9]

সারবস্ত্ত :

১. যে আমল শুধু লোক দেখানোর জন্য করা হয়, তার পুণ্য হারিয়ে যায়। অর্থাৎ এমন আমল যা কোনো ছওয়াব বয়ে আনে না। ২. রিয়া আল্লাহর কাছে ঘৃণ্য এবং এই ধরনের মানুষ ধ্বংস ও অভিশপ্ত ও আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত। ৩. আল্লাহ রিয়া করা ব্যক্তির দুর্বলতা প্রকাশ করেন এবং ক্বিয়ামতের দিন তার মন্দ আমলসমূহ উন্মুক্ত করে দিবেন। আল্লাহ সুবহানাহু তা‘আলা আমাদেরকেও রিয়া মুক্ত জীবন যাপনের তাওফীক দান করুন।-আমীন!


[1]. বুখারী হা/৬৪৯৯; মুসিলম হা/২৯৮৬; মিশকাত হা/৫৩১৬।

[2]. বুখারী হা/২৮১০; মুসলিম হা/১৯০৪; মিশকাত হা/৩৮১৪।

[3]. মুসলিম হা/৫২; তিরমিযী হা/২২৪৩; আহমাদ হা/৮৮৩৩।

[4]. আবুদাঊদ হা/৪৮৮১; মিশকাত হা/৫০৪৭; ছহীহুত তারগীব হা/২৮।

[5]. আহমাদ হা/২৩৬৮৬; মিশকাত হা/৫৩৩৪; ছহীহুত তারগীব হা/৩২।

[6]. আবুদাঊদ হা/২৫১৫; নাসাঈ হা/৩১৮৮; মিশকাত হা/৩৮৪৬।

[7]. ইয়াহইয়াঊ উলূমুদ্দীন ৩/২৯৬ পৃ.।

[8]. বায়হাক্বী, শো‘আবুল ঈমান হা/৬৪৮০, ৯/১৮৮ পৃ.।

[9]. ইবনুল ক্বাইয়িম, আল-ফাওয়ায়েদ ২২৬ পৃ.।



আরও