ChatGPT-এর মাধ্যমে লিলি জে-র ইসলাম গ্রহণ

তাওহীদের ডাক ডেস্ক 8 বার পঠিত

[আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিনেত্রী ও গায়িকা হিসাবে পরিচিত লিলি জে (৩২) অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইউনিটি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। ২০২৪ সালের শেষের দিকে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইনস্ট্রাগ্রামে তার ২.৩ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে। বর্তমানে তিনি Lily Jay Foundation: (www.lilyjayfoundation.com)-এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দাতব্য কাজ পরিচালনা করছেন। তিনি তার ইউটিউব এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ইসলামী জীবনধারা প্রচার করছেন। বিশেষ করে অমুসলিমদের ইসলামের প্রতি আগ্রহী করতে তিনি বিভিন্ন শিক্ষণীয় ভিডিও তৈরি করেন। তার 'ChatGPT and Islam' এবং 'Jesus in Islam' সংক্রান্ত ভিডিওগুলো এখনও অত্যন্ত জনপ্রিয়।]

শান্তির ধর্ম ইসলামের টানে মুগ্ধ হয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত অভিনেত্রী, গায়িকা এবং ইউটিউবার লিলি জে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তবে তার এই আধ্যাত্মিক যাত্রার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হ’ল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-এর সাথে তার কথোপকথন। প্রযুক্তির যুক্তি আর ইসলামের সত্যতার মেলবন্ধনে লিলি জে-এর এই রূপান্তর এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

চ্যাটজিপিটির সাথে সেই ভাইরাল কথোপকথন : লিলি জে কৌতূহলবশত চ্যাটজিপিটিকে ইসলাম এবং খ্রিস্টধর্মের পার্থক্য, পবিত্র কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা এবং বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। এআই-এর উত্তরগুলো ছিল সোজাসাপ্টা ও যুক্তিপূর্ণ।

চ্যাটজিপিটি কুরআনকে বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বই হিসেবে চিহ্নিত করে। ইসলাম নাকি খ্রিস্টধর্ম কোনটি সঠিক? এই প্রশ্নে এআই ইসলামের সত্যতার পক্ষে প্রমাণ তুলে ধরে। অর্থপূর্ণ জীবনের জন্য চ্যাটজিপিটি তাকে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও ইসলামের পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

লিলি আরও কিছু সূক্ষ্ম বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, ১৪০০ বছর আগের একটি বই কীভাবে আধুনিক বিজ্ঞানের কথা বলতে পারে? চ্যাটজিপিটি তখন ভ্রূণতত্ত্ব, পর্বতের ভূ-তাত্ত্বিক ভূমিকা এবং সমুদ্রের পানি বিভাজনের মতো কুরআনিক আয়াতগুলো রেফারেন্সসহ তুলে ধরে। এটি লিলিকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়।

খৃস্টান পরিবারে বড় হওয়া লিলি জিজ্ঞেস করেছিলেন, যিশু কি ঈশ্বর নাকি নবী? চ্যাটজিপিটি বাইবেল এবং কুরআন উভয় শাস্ত্রের তুলনা করে ইসলামের তাওহীদ (একত্ববাদ) এবং ঈসা (আ.)-কে একজন সম্মানিত নবী হিসাবে উপস্থাপনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে।

লিলি যখন প্রশ্ন করেন, চ্যাটজিপিটি যদি মানুষ হ’ত তবে ইসলাম গ্রহণ করত কি না। উত্তর আসে, হ্যাঁ। কারণ প্রমাণগুলো ইসলামের সত্যতাকেই সমর্থন করে।

ইসলাম গ্রহণের পর তিনি যখন হিজাব পরা শুরু করেন, তখন তিনি একে ‘নারীর স্বাধীনতা ও সুরক্ষা’ হিসাবে বর্ণনা করেন। পশ্চিমা মিডিয়াতে হিজাব বা মুসলিম নারীদের নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তিনি তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তা খন্ডন করেন। তিনি বলেন যে, হিজাব তাকে কেবল শালীনতাই দেয়নি। বরং তাকে একজন মানুষ হিসাবে অনেক বেশি আত্মমর্যাদাশীল করেছে।

পশ্চিমাদের ইসলামভীতির কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি লিখেন, মদ, জুয়া, সূদ এবং অবৈধ সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো ইসলামে নিষিদ্ধ। যেহেতু পশ্চিমা সমাজ এগুলো ছাড়া চলতে পারে না, তাই তারা ইসলামের সাথে সহাবস্থান করতে ভয় পায়।

লিলি জে-এর কিছু আলোচিত উক্তি : তার ইসলাম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলাকালীন তিনি বেশ কিছু স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন যা ভাইরাল হয়। ‘আমি নাস্তিক ছিলাম, কারণ আমি কোনো ধর্মে যুক্তি খুঁজে পাইনি। কিন্তু যখন আমি নিরপেক্ষভাবে ইসলামের দলীলগুলো দেখে বুঝতে পারলাম, এটি কোনো অন্ধ বিশ্বাস নয়। বরং এটিই একমাত্র যৌক্তিক জীবনবিধান’।

আরেকটি পোস্টে তিনি পশ্চিমা সংস্কৃতির সমালোচনা করে লিখেন, আমরা স্বাধীনতা বলতে নগ্নতা আর বিশৃংখলাকে বুঝি। কিন্তু ইসলামে আমি দেখেছি সত্যিকারের মানসিক শান্তি এবং আত্মমর্যাদার সংজ্ঞা। পর্দা বা হিজাব কোনো বন্দিত্ব নয়। বরং এটি একজন নারীর ব্যক্তিগত সম্মানের দুর্গ’।

ইসলাম গ্রহণের পর লিলি জে বারবার একটি শব্দের ওপর জোর দিয়েছেন Peace (শান্তি)। তিনি তাঁর ভিডিওগুলোতে উল্লেখ করেছেন যে, গ্ল্যামার জগত, গান এবং নাচের ক্যারিয়ারে অনেক খ্যাতি ও অর্থ থাকলেও তাঁর মনে এক ধরণের শূন্যতা ছিল। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি সেই শূন্যতা পূরণ হতে অনুভব করেন এবং জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য খুঁজে পান।

সূরা ফাতিহা পাঠের সেই মুহূর্ত : লিলি জে যখন প্রথমবার সূরা ফাতিহা পাঠের ভিডিও আপলোড করেন, তখন তিনি ক্যাপশনে লিখেছিলেন, আমি যখন এই আয়াতগুলো পড়ি, আমার মনে হয় আমি আমার সৃষ্টিকর্তার সাথে সরাসরি কথা বলছি। এই শান্তি আমি আগে কখনও অনুভব করিনি’।

ভক্তদের প্রতিক্রিয়ায় লিলির জবাব : তার লক্ষ লক্ষ অনুসারীর মধ্যে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। জনৈক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে লিলি বলেছিলেন, মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি কেন সব ছেড়ে দিচ্ছি। আমি বলি, আমি কিছুই ছাড়ছি না। বরং আমি যা হারিয়েছিলাম (সত্য) তা খুঁজে পেয়েছি। মদ বা জুয়া ছাড়া জীবন কাটানো ত্যাগের কাজ নয়। বরং এটি একটি সুস্থ জীবনের শুরু’।

লিলি জে-এর এই রূপান্তরটি বর্তমান বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় বার্তা। প্রযুক্তির চরম শিখরে থেকেও মানুষ যখন তার আত্মার খোরাক খুঁজে পায় না, তখন ইসলামের শ্বাশত বাণীই তাকে শান্তির পথ দেখায়। লিলি জে এখন তার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইসলামের সৌন্দর্য প্রচার করছেন।

[তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট



আরও