হৃদয়ের কঠোরতা

তাওহীদের ডাক ডেস্ক 272 বার পঠিত

আল-কুরআনুল কারীম :

১- فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ-

(১) ‘বস্ত্তত আল্লাহর অনুগ্রহের কারণেই তুমি তাদের প্রতি কোমলহৃদয় হয়েছ। যদি তুমি রূঢ়ভাষী ও কঠিন হৃদয়ের হ’তে, তাহ’লে তারা তোমার পাশ থেকে সরে যেত। অতএব তুমি তাদের মার্জনা কর ও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর যরূরী বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ কর। অতঃপর যখন তুমি সংকল্পবদ্ধ হবে, তখন আল্লাহর উপর ভরসা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার উপর ভরসাকারীদের ভালবাসেন’ (আলে ইমরান ৩/১৫৯)।

২- فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَى خَائِنَةٍ مِنْهُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِنْهُمْ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ-

(২) ‘অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমরা তাদের উপর লা‘নত করি এবং তাদের অন্তরগুলিকে শক্ত করে দেই। তারা (তাওরাতের) শব্দসমূহকে (অর্থাৎ শেষনবী আগমনের শব্দসমূহকে) স্ব স্ব স্থান থেকে সরিয়ে নেয় এবং তাদেরকে যেসব বিষয় উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি তারা বিস্মৃত হয়। আর তুমি তাদেরকে সর্বদা খেয়ানত করতে দেখবে অল্প কিছু লোক ব্যতীত। অতএব তুমি তাদের মার্জনা কর ও ক্ষমা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন’ (মায়েদাহ ৫/১৩)। 

৩- وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى أُمَمٍ مِنْ قَبْلِكَ فَأَخَذْنَاهُمْ بِالْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ لَعَلَّهُمْ يَتَضَرَّعُونَ- فَلَوْلَا إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا تَضَرَّعُوا وَلَكِنْ قَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ-

(৩) ‘আর আমরা তোমার পূর্বে বহু জাতির নিকট রাসূল পাঠিয়েছিলাম। অতঃপর (তাদের অবিশ্বাসের কারণে) আমরা তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-ব্যাধি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম। যাতে তারা (আল্লাহর নিকট) কাকুতি-মিনতি করে’। ‘কিন্তু যখন তাদের কাছে আমাদের শাস্তি এসে গেল, তখন কেন তারা বিনীত হ’ল না? বরং তাদের অন্তরগুলি শক্ত হয়ে গেল এবং শয়তান তাদের কাজগুলিকে তাদের নিকটে শোভনীয় করে দেখালো’ (আন‘আম ৬/৪৩)।

৪- وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ فَيَنْسَخُ اللهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ ثُمَّ يُحْكِمُ اللهُ آيَاتِهِ وَاللهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ- لِيَجْعَلَ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِتْنَةً لِلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ وَالْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ-

(৪) ‘আমরা তোমার পূর্বে এমন কোন রাসূল ও নবী প্রেরণ করিনি যে, তারা যখনই কিছু পাঠ করেছে, তখনই শয়তান উক্ত পাঠে কিছু মিশিয়ে দেয়নি। তখন আল্লাহ দূর করে দেন শয়তান যা মিশিয়ে দেয়। অতঃপর আল্লাহ স্বীয় আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়’। ‘এটা এ জন্য যে, শয়তান যা মিশায়, তিনি তা পরীক্ষাস্বরূপ করে দেন তাদের জন্য যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যারা পাষাণ হৃদয়। বস্ত্তত অত্যাচারীরা দূরতম হঠকারিতার মধ্যে রয়েছে’ (হজ্জ ২২/৫২-৫৩)।

৫- أَفَمَنْ شَرَحَ اللهُ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ فَهُوَ عَلَى نُورٍ مِنْ رَبِّهِ فَوَيْلٌ لِلْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ مِنْ ذِكْرِ اللهِ أُولَئِكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ-

(৫) ‘ঐ ব্যক্তি যার বক্ষকে আল্লাহ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, আর সে তার প্রতিপালকের দেওয়া জ্যোতির মধ্যে রয়েছে, (সে কি অন্যের মত হ’তে পারে?)। অতএব দুর্ভোগ ঐসব লোকদের জন্য, যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে কঠিন হয়ে গেছে। তারা সুস্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে’ (যুমার ৩৯/৪)।

৬- أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ-

(৬) ‘মুমিনদের কি সে সময় আসেনি যে, তাদের হৃদয় সমূহ বিগলিত হবে আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য নাযিল হয়েছে, তার কারণে? এবং তারা তাদের মত হবে না যাদেরকে ইতিপূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর তাদের উপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে। ফলে তাদের হৃদয়সমূহ শক্ত হয়ে গেছে এবং তাদের বহু লোক পাপাচারী হয়েছে? (হাদীদ ৫৭/১৬)।

৭- يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُمْ مِنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ-

(৭) ‘হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ কর। যেন তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করতে পারে। আর জেনে রেখ যে, আল্লাহ সর্বদা মুত্তাক্বীদের সঙ্গে থাকেন’ (তওবা ৯/১২৩)।

হাদীছের বাণী :

৮- عَنْ أَبِى مَسْعُودٍ أَنَّ النَّبِىَّ ــ قَالَ : الإِيمَانُ هَا هُنَا. وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى الْيَمَنِ وَالْجَفَاءُ وَغِلَظُ الْقُلُوبِ فِى الْفَدَّادِينَ، عِنْدَ أُصُولِ أَذْنَابِ الإِبِلِ مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنَا الشَّيْطَانِ رَبِيعَةَ وَمُضَرَ-

(৮) হযরত আবু মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ঈমান এখানে (ইয়েমেনের দিকে) এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইয়েমেনের দিকে ইশারা করলেন। আর রুক্ষতা ও কঠোর হৃদয় হ’ল উচ্চস্বরে চিৎকারকারী (উটওয়ালা) কৃষক-রাখালদের মধ্যে, উটের লেজের গোড়ার দিকে, যেখান থেকে শয়তানের দুই শিং উদিত হয় রবী‘আ ও মুদার (গোত্রদ্বয়ের মধ্যে)’।[1] 

৯- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الحَيَاءُ مِنَ الإِيمَانِ، وَالإِيمَانُ فِي الجَنَّةِ، وَالبَذَاءُ مِنَ الجَفَاءِ، وَالجَفَاءُ فِي النَّارِ-

(৯) আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, লজ্জাশীলতা ঈমানের অংশ, আর ঈমান জান্নাতে (নিয়ে যায়)। আর অশ্লীল কথাবার্তা রূঢ়তার অংশ, আর রূঢ়তা জাহান্নামে (নিয়ে যায়)’।[2] 

১০- عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ــ مَنْ بَدَا جَفَا وَمَنْ تَبِعَ الصَّيْدَ غَفَلَ وَمَنْ أَتَى أَبْوَابَ السُّلْطَانِ افْتُتِنَ وَمَا ازْدَادَ عَبْدٌ مِنَ السُّلْطَانِ قُرْباً إِلاَّ ازْدَادَ مِنَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ بُعْداً-

(১০) আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি গ্রামে বা মরুভূমিতে বসবাস করে সে কঠোর স্বভাবের হয়; যে ব্যক্তি শিকারের পেছনে ছোটে সে গাফেল (উদাসীন) হয়ে পড়ে এবং যে ব্যক্তি সুলতান বা শাসকের দরবারে যাতায়াত করে সে ফিতনায় নিপতিত হয়। কোনো বান্দা শাসকের যতটা নৈকট্য লাভ করে, মহান আল্লাহর কাছ থেকে সে ততটাই দূরে সরে যায়’।[3]

১১- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْمُؤْمِنُ غِرٌّ كَرِيمٌ، وَالْفَاجِرُ خِبٌّ لَئِيمٌ-

(১১) আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলছেন, মুমিন ব্যক্তি সরল ও ভদ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে, কিন্তু পাপীষ্ঠ ব্যক্তি ধোঁকাবাজ ও নির্লজ্জ হয়’।

১২- عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلاً شَكَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- قَسْوَةَ قَلْبِهِ فَقَالَ لَهُ إِنْ أَرَدْتَ أَنْ يَلِينَ قَلْبُكَ فَأَطْعِمِ الْمِسْكِينَ وَامْسَحْ رَأْسَ الْيَتِيمِ-

(১২) আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে তার হৃদয়ের কঠোরতার অভিযোগ করলে, তিনি তাকে বললেন, তুমি যদি তোমার হৃদয়কে নরম করতে চাও, তাহ’লে মিসকীনকে খাদ্য দান করো এবং ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলাও’।[4]

১৩- عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ- صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- رَجُلٌ يَشْكُو قَسْوَةَ قَلْبِهِ، قَالَ: أَتُحِبُّ أَنْ يَلِينَ قَلْبُكَ وَتُدْرَكَ حَاجَتُكَ؟ ارْحَمِ الْيَتِيمَ، وَامْسَحْ رَأْسَهُ، وَأَطْعِمْهُ مِنْ طَعَامِكَ، يَلِنْ قَلْبُكَ وَتُدْرِكْ حَاجَتَكَ-

(১৩) আবুদ্দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে এসে তার মনের কঠোরতা সম্পর্কে অনুযোগ করল। তখন তিনি তাকে বললেন, ‘তুমি কি চাও যে তোমার মন নরম হোক এবং তোমার প্রয়োজন পূরণ হোক? তাহ’লে তুমি ইয়াতীমের উপর দয়া করো, তার মাথায় হাত বুলাও এবং তোমার খাদ্য থেকে ইয়াতীমকে খেতে দাও। এতে তোমার মন নরম হবে এবং তোমার প্রয়োজন পূরণ হবে’।[5]

মনীষীদের বক্তব্য :

১. মালিক ইবনে দীনার (রাঃ) বলেন, কোনো বান্দাকে হৃদয়ের কঠোরতার চেয়ে বড় শাস্তি দিয়ে আঘাত করা হয়নি। আর আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি রাগান্বিত হলে তাদের হৃদয় থেকে রহমত (দয়া-করুণা) ছিনিয়ে নেন’।[6]

২. আবু ইসহাক (রাঃ) হৃদয়ের কঠোরতার অর্থ হ’ল হৃদয় থেকে কোমলতা, দয়া ও বিনম্রতা দূর হয়ে যাওয়া’।[7] 

৩. ইয়াহইয়া ইবনে মু‘আয বলেন, হৃদয়ের কঠোরতার কারণেই কেবল চোখের পানি শুকিয়ে যায়, আর পাপের আধিক্যের কারণেই কেবল হৃদয় কঠোর হয়ে পড়ে। আবার নিজের দোষ-ত্রুটি ও উদাসীনতার প্রাচুর্যের কারণেই কেবল পাপ বৃদ্ধি পায়’।[8]

সারবস্ত্ত :

১. কঠোরতা অন্তর থেকে কোমলতা, দয়া ও বিনম্রতা দূর করে দেয়। ২. যার অন্তর কঠোর, সে আল্লাহ থেকে দূরে, মানুষ থেকেও দূরে। ৩. কঠোরতা নে‘মত বিলুপ্ত করে এবং বিপদ-মুছীবত নেমে আসার কারণ হয়। ৪. মুসলিমদের সাথে রূঢ় আচরণ ও কঠোর হৃদয়ের মধ্যে এমন ক্ষতি নিহিত আছে, যা তাদের ঐক্য বিনষ্ট করে এবং শত্রুকে তাদের ব্যাপারে লোভী করে তোলে। আল্লাহ সুবাহানাহু তা‘আলা আমাদেরকে হৃদয়ের কঠোরতা থেকে বেঁচে থাকার এবং কোমল হৃদয়ের অধিকারী হওয়ার তাওফীক দান করুন।-আমীন!


[1]. বুখারী হা/৩৪৯৮; মুসিলম হা/৫১; মিশকাত হা/৬২৬০।

[2]. তিরমিযী হা/২০০৯; ইবনু মাজাহ হা/৪১৮৪; মিশকাত হা/৫০৭৭।

[3]. আহমাদ হা/৯৬৮১; ছহীহাহ হা/১২৭২; মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/৯২৫৬।

[4]. আহমাদ হা/৭৫৬৬; ছহীহাহ হা/৮৫৪।

[5]. মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/১৩৫০৯; ছহীহুত তারগীব হা/২৫৪৪।

[6]. তাফসীর কুরতুবী ১৫/৬১ পৃ.।

[7]. লিসানুল আরব ১৫/১৮১ পৃ.।

[8]. শো‘আবুল ঈমান ৯/৩৮৩ পৃ.।



বিষয়সমূহ: বিবিধ
আরও