হলিউড অভিনেতা জিয়ানকার্লোর ইসলাম গ্রহণ
তাওহীদের ডাক ডেস্ক
তাওহীদের ডাক ডেস্ক 4 বার পঠিত
[জিয়ানকার্লো জুসেপ্পে আলেসান্দ্রো এসপোসিতো (৬৮) ১৯৫৮ সালের ২৬ এপ্রিল ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত ইতালির রোমে বসবাস করেন। পরবর্তীতে তার পরিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায় এবং নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি উভয় দেশেরই নাগরিকত্ব ধারণ করেন। তার মা ছিলেন আফ্রিকান-আমেরিকান প্রোটেস্ট্যান্ট এবং বাবা ছিলেন ইতালীয় রোমান ক্যাথলিক। ছোটবেলা থেকেই তিনি ক্যাথলিক চার্চের সংস্কৃতি ও প্রার্থনার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট ছিলেন। কৈশোরে তিনি এতটাই ধর্মানুরাগী ছিলেন যে একপর্যায়ে যাজক হওয়ার কথাও গুরুত্বের সঙ্গে ভেবেছিলেন। এই দিক থেকে তাকে ছোটবেলা থেকেই একজন আত্ম-অনুসন্ধানকারী ও গভীর ভাবুক মানুষ হিসাবে দেখা যায়। মাত্র ৮ বছর বয়সে ১৯৬৬ সালে ব্রডওয়ে থিয়েটারের ‘ম্যাগি ফ্লিন’ নামক মিউজিক্যাল নাটকে শিশুশিল্পী হিসাবে তার অভিনয় জীবনের শুভসূচনা হয়। বছরের পর বছর মঞ্চে কাজ করে তিনি নিজের অভিনয়কে ধারালো করেন এবং থিয়েটারে অসামান্য অবদানের জন্য সম্মানজনক ‘ওবি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালে স্পাইক লি পরিচালিত ‘স্কুল ডেজ’ চলচ্চিত্রে কৃষ্ণাঙ্গ ফ্র্যাটার্নিটি ‘গামা ফি গামা’-র নেতা ‘ডিন বিগ ব্রাদার অলমাইটি’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রথম বড় পরিচিতি পান। এরপর পরবর্তী চার বছরে স্পাইক লির সাথে তিনি আরও তিনটি চলচ্চিত্রে কাজ করেন। ১৯৯০-এর দশকে তিনি প্রশংসিত ইনডি চলচ্চিত্র ‘নাইট অন আর্থ’, ‘ফ্রেশ’ এবং ‘স্মোক’ ও এর সিক্যুয়েল ‘ব্লু ইন দ্য ফেস’-এ অভিনয় করেন। এছাড়া তিনি শুধু ক্যামেরার সামনেই নয়, ‘গসপেল হিল’ ও ‘দ্য শো’-এর মতো চলচ্চিত্রের পরিচালক ও প্রযোজক হিসাবে ক্যামেরার পেছনেও কাজ করেছেন। তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান এএমসি-র অপরাধ-ড্রামা সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’ (২০০৯-২০১১)-এ গুস্তাভো ফ্রিং চরিত্রে অভিনয় করে এবং পরে স্পিন-অফ সিরিজ ‘বেটার কল সল’ (২০১৭-২০২২)-এও তিনি এই চরিত্রে ফিরে আসেন। এই চরিত্রটিই তাকে বিশ্বব্যাপী তারকাখ্যাতি এনে দেয় এবং একাধিক এমি মনোনয়ন এনে দেয়। এছাড়াও তিনি অভিনয়ের কৃতিত্ব স্বরূপ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন]
সঊদী আরবের বিনোদন খাত ‘জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটি’-র চেয়ারম্যান তুর্কি আল-শেখ গত ২০শে জুন ২০২৬ (শনিবার) তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ভিডিও শেয়ার করে এই ঘোষণা দেন যে, ‘7 ডগস’-এ অভিনয় কালে মার্কিন অভিনেতা জিয়ানকার্লো এসপোসিতো ইসলাম গ্রহণ করেছে।
মরক্কান-বেলজিয়ান পরিচালক আদিল এল-আরবী ও বেলাল ফাল্লাহ পরিচালনায় সঊদী আরবে বড় বাজেটের আরবী-ভাষার অ্যাকশন চলচ্চিত্র ‘7 ডগস’ নির্মাণ করছেন। যেখানে ‘রোমান’ নামের একটি প্রাচীন নিদর্শন ব্যবসায়ীর চরিত্রে হলিউডের জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে আইকনিক চরিত্র ‘গাস ফ্রিং’ ভূমিকার জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত জিয়ানকার্লো এসপোসিতো অভিনয় করেন। শুটিং চলাকালীন সউদী আরব ও মরক্কোতে অবস্থানকালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এসপোসিতোর সাথে মিসরের অভিনেতা আহমেদ ইজ ও করীম আবদেল আযীয সহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক তারকা যুক্ত রয়েছে।
জিয়ানকার্লো এসপোসিতো শুটিং চলাকালীন ‘সিলা’ (Sela) প্রোডাকশন টিমের সদস্যদের সাথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হয়ে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস বা শাহাদাহ পাঠ করেন এবং পরবর্তীতে সহকর্মীদের সঙ্গে জামা‘আতে ছালাত আদায় করেন। অনেকে বলেছেন, ছালাত আদায়ের ভিডিওটি মরক্কোর হাসান দ্বিতীয় জামে মসজিদে ধারণকৃত। জুলাইয়ের শেষ নাগাদ তুর্কি আল-শেখ-এর এক্সে ছালাত আদায়ের দৃশ্য সংবলিত আপলোডকৃত ভিডিওটি ১৩.১ মিলিয়ন ভিউ হয়েছে।
জিয়ানকার্লো এসপোসিতো সঊদী আরবে অবস্থানকালে সেখানে স্থানীয় সাধারণ মানুষের আতিথেয়তা, সংস্কৃতি ও শুটিং চলাকালে মুসলিম সহপাঠীদের সাথে মেলামেশা করে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং তাদের বিনয়ী আচরণের প্রশংসা করেন। আর এই আচরণই তার উপর গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে ও তাকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করে। এসপোসিতো এই প্রোডাকশন থেকে ইসলাম গ্রহণকারী দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব। এর আগে ব্রিটিশ প্রযোজক সাইরাস প্যাটেলও শুটিং শেষে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য যে, কাসাব্লাঙ্কায় চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারে ম্যাগাজিন লাল্লা ফাতেমাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মরক্কো সফরে তার প্রথম গন্তব্যই ছিল একটি মসজিদ, যেখানে তিনি প্রার্থনা করেন।
এছাড়াও লালগালিচায় প্রচারণাকালে রেডিও আব্রাহামকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ধর্মীয় নিষ্ঠা নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, তার দেশে যেমন নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) সবকিছু, তার কাছেও নিষ্ঠা বা ভক্তি একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, একজনই ঈশ্বর বা আল্লাহ আছেন। এই বোধ বুঝাই আমার কাছে মুখ্য। তিনি মরক্কোর মানুষদের সততা ও কল্যাণের প্রতি নিষ্ঠাকে প্রশংসা করেন এবং বলেন, এই দেশ ভ্রমণের সময় আমি যেন নিজের একটি আয়না খুঁজে পেয়েছি। যার মাধ্যমে আমি ‘সত্যকে’ প্রত্যক্ষ করছি।
[তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট]