পাপ থেকে আত্মরক্ষা

নাজমুন নাঈম 589 বার পঠিত

বেশ হ্যান্ডসাম দেখতে এক যুবক বাড়ি বাড়ি ফেরী করে ছোট ঝড় ফ্যান বিক্রি করতেন। একদিন এক সুন্দরী মহিলা তার কাছে একটি ফ্যান কিনলেন। তারপর আরও একটি কিনলেন। কিছুক্ষণ পর বললেন, আমার ঘরে এসো, আমি নিজের হাতে বেছে আরো কয়েকটি নিতে চাই।

যুবক কোন চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই ভেতরে ঢুকলেন। হঠাৎ মহিলাটি ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলেন! তিনি যুবককে তার সাথে পাপে লিপ্ত হওয়ার আহবান করলেন। তিনি বললেন, আমার সঙ্গে পাপ কর, তা না হ’লে আমি চিৎকার করব এবং প্রতিবেশীদের বলব তুমি আমাকে জোর করতে এসেছিলে!

যুবক মহিলার কুমতলব বুঝতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে গেলেন। কিন্তু তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে। তার তখন কিছুই করার ছিল না। তিনি তার নৈতিকতা রক্ষা করতে চান। কিন্তু কোন উপায় খুঁজে পেলেন না। কারণ এই অবস্থায় কোনো যুক্তিই কাজে আসবে না। নিরূপায় হয়ে যুবক আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলেন।

হঠাৎ তার মাথায় একটি বুদ্ধি খেলে গেল! তিনি বললেন, ঠিক আছে, আমি তোমার প্রস্তাবে রাযী। কিন্তু আগে আমাকে বাথরুম দেখিয়ে দাও। আমি গোসল করে ফ্রেশ হয়ে আসি। তার কথায় খুশি হয়ে মহিলা তাকে বাথরুম দেখিয়ে দিলেন। যুবক বাথরুমে গিয়ে নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেললেন। তিনি বাথরুম থেকে ময়লা (পায়খানা) তুলে নিজের মুখ ও সারা শরীরে মেখে নিলেন! তারপর দরজা খুলে বললেন, আমি প্রস্ত্তত! তুমি কি প্রস্ত্তত?

মহিলা তখন পুরোপুরি সেজেগুজে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু যখন তিনি সারা শরীরে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত যুবককে দেখলেন, তিনি ঘৃণা ও রাগে চিৎকার করে বললেন, বের হও! এখনই বের হও আমার ঘর থেকে। যুবক এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি অবিলম্বে বের হয়ে নিজেকে বাঁচালেন!

বাড়িতে ফিরে তিনি ভালো করে গোসল করলেন। তারপর নিজেকে সুগন্ধি আতরে ভরে নিলেন। এরপর এই সুগন্ধি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার শরীরে স্থায়ী হয়ে গিয়েছিল! যখনই তিনি কোথাও যেতেন, তার দেহ থেকে এত সুঘ্রাণ বের হত যে মানুষ দূর থেকেই বুঝতে পারত, এখানে তিনি গিয়েছিলেন! পাপের সুযোগ পেয়েও সেখান থেকে আত্মরক্ষার কারণে আল্লাহ তাকে এভাবেই সম্মানিত করেছিলেন।

শিক্ষা : দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, নৈতিকতা ও আল্লাহর উপর ভরসা থাকলে কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহ পথ বের করে দেন। আর আত্মসংযম ধরে রাখতে পারলে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করবেন।

[গল্পদ্বয় আরবী থেকে অনূদিত

মূল : মুহসিন জববার

অনুবাদ : নাজমুন নাঈম



আরও