দোষ-গুণের তারতম্য

নাজমুন নাঈম 268 বার পঠিত

এক বৃদ্ধের চারটি ছেলে ছিল। তিনি তাদের সকলকে একটি শিক্ষা দিতে চাইলেন। এজন্য তিনি তাদেরকে দূরের একটি স্থানে পাঠালেন, যেখানে একটি বড় গাছ ছিল। তিনি চাইলেন, প্রত্যেক ছেলে পৃথক পৃথক সময়ে সেখানে যাক এবং গাছটি দেখে এসে নিজের মতো করে বর্ণনা দিক।

বৃদ্ধের কথা মতো বড় ছেলে গেল শীতকালে, মেজো ছেলে গেল বসন্তকালে, সেজো ছেলে গ্রীষ্মকালে আর ছোট ছেলে গেল শরৎকালে। যখন তারা সবাই তাদের সফর থেকে ফিরে আসলো, তখন বৃদ্ধ তাদের ডাকলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন,  তোমরা গাছটি কেমন দেখলে?

বড় ছেলে বলল, আমি সেখানে একটি মৃতপ্রায় রুক্ষ ও শুকনো গাছ দেখেছি। কেবল ক’খানা পাতাহীন মৃত ডাল-পালা ছাড়া কিছু নেই। মেজো ছেলে অবাক হয়ে বলল, আমি তো দেখেছি গাছটি একেবারে তাজা ও সবুজ পত্র-পল্লবে সুসজ্জিত।

সেজো ছেলে বলল, আমি তো গাছটিকে দারুণ সুন্দর, ফুলে ফুলে সুশোভিত দেখেছি। আর ফুলগুলো থেকে অপূর্ব সুন্দর ঘ্রাণ বের হচ্ছিল। ছোট ছেলে বলল, আমি যখন গিয়েছিলাম, তখন গাছটি ছিল টসটসে পাকা ফলে ভরপুর আর চারদিক মিষ্টি গন্ধে ম-ম করছিল।

তখন বৃদ্ধ তাদেরকে বললেন, তোমরা সবাই ঠিক বলেছ। গাছ ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন রূপ লাভ করে। তেমনি একজন মানুষও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে। কখনো হাসিতে গড়িয়ে পড়ে, কখনো বা কান্নায় ভেঙে পড়ে, কখনো আনন্দে লাফিয়ে ওঠে, আবার কখনো হতাশায় মুষড়ে পড়ে, কখনো রাগে ফেটে পড়ে আবার কখনো ভালোবেসে আপন করে নেয়। এজন্যই একজন মানুষ বা অন্য কোনো কিছুকে শুধু উপরিভাগ থেকে এক নযর দেখেই বিচার করা উচিত নয়। বরং সময় নিয়ে ভালোভাবে যাচাই করতে হয়। তাহ’লেই তার প্রকৃত রূপ চেনা যায়।

শিক্ষা : গল্পটিতে একটি প্রত্যক্ষ ও একটি পরোক্ষ শিক্ষা রয়েছে। প্রত্যক্ষ শিক্ষাটি হ’ল, কাউকে একটিমাত্র মুহূর্ত বা চেহারার ভিত্তিতে বিচার করো না। নাহ’লে তার সম্পর্কে ভুল ধারণা হ’তে পারে। আর পরোক্ষ শিক্ষা হ’ল, জীবনে উত্থান-পতন, ঘাত-প্রতিঘাত আসবেই। পরক্ষণে আনন্দের মুহূর্তও আসবে। যদি শীতকালে তুমি হাল ছেড়ে দাও, তাহলে তুমি বসন্তের সৌন্দর্য, গ্রীষ্মের উষ্ণ অনুভূতি আর শরতের ফলময় জীবনের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হবে। তাই চেষ্টা করো কঠিন পরিস্থিতি আর তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলোকে অতিক্রম করে যেতে। হয়তো আল্লাহ তোমার জন্য সুন্দর সময় আর উন্নততর জীবন প্রস্ত্তত করে রেখেছেন।

মূল : মুহসিন জববার

অনুবাদ : নাজমুন নাঈম

 



আরও