অতি চালাকির পরিণাম

নাজমুন নাঈম 497 বার পঠিত

১. জাপানের এক রেস্তোরাঁর মালিক ‘নিতেরো ইতো’ শহরের সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভোটারদের সহানুভূতি অর্জনের জন্য তিনি এক অভিনব পরিকল্পনা করেন। তিনি চারজন গুন্ডাকে ভাড়া করেন তাকে মারধর করার জন্য, যেন তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মানুষের সহানুভূতি লাভ করতে পারেন ও সেখান থেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেন।

গুন্ডারা এক রাতের ফ্রী ডিনারের বিনিময়ে তার প্রস্তাবে রাযী হয়। তাদের পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত। তার শরীরে এমনভাবে আঘাত করা হবে, যাতে তিনি আহত হন। কিন্তু মারাত্মক কোন ক্ষতি না হয়। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় ছিল না! মারধরের সময় একটি ঘুষি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে তিনি রেস্তোরাঁর সিঁড়িতে পড়ে যান এবং মাথায় প্রচন্ড আঘাত পান। অতঃপর কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি ব্রেইন হেমারেজে সেখানেই মারা যান!

২. ড্যান লুপে নামের এক ফরাসী যুবক এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। আশপাশের লোকেরা ভেবেছিল, তিনি হয়তো মারা গেছেন। লোকজন দ্রুত তার কাছে ছুটে আসে। ফলে তার চারপাশে ভিড় জমে যায়। কিন্তু দেখা যায় আশ্চর্যজনকভাবে তার কিছুই হয়নি। তিনি পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন। এমনকি তার শরীরে একটি আঁচড়ও লাগেনি।

তখন চারপাশে ভিড় জমানো লোকেদের মধ্য থেকে একজন তাকে একটি দারুণ বুদ্ধি দেয়। সে বলে, ভাই! আমরা সকলে দেখেছি, তুমি একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছ, যদিও তুমি এখন পুরোপুরি সুস্থ আছো। তুমি একটু জখম হওয়ার ভান কর। তাহ’লে বীমা কোম্পানী থেকে তুমি মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাবে।

ড্যান লুপের কাছে পরামর্শটা বেশ লোভনীয় মনে হ’ল। তাই তিনি গাড়ির সামনে শুয়ে গুরুতর আহত হওয়ার অভিনয় করতে থাকলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! হঠাৎ করেই গাড়িটি গড়িয়ে তার শরীরের উপর উঠে যায়। আর মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। তার পুরো শরীর পুড়ে একেবারে ঝলসে যায়!

শিক্ষা : উপরের ঘটনা দু’টি একত্রিত করলে আমরা একটিই বার্তা পাই। তা হ’ল অতি চালাকির পরিণাম কখনোই ভালো হয় না। লোভ ও ধূর্ততা অকল্যাণ বৈ কখনো কল্যাণ বয়ে আনে না। বরং নৈতিকতা, পরিশ্রম ও আল্লাহর উপর ভরসাই সফলতার দ্বার উন্মোচন করে।

[গল্পদ্বয় আরবী থেকে অনূদিত

মূল : মুহসিন জববার

অনুবাদ : নাজমুন নাঈম



আরও