ভোরের আলো ফোটার একটি সুযোগ দাও
নাজমুন নাঈম
একদিন এক তরুণ তার বাবাকে বলল, বাবা! আমি একটি মেয়েকে দেখেছি, তার সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ। তার চোখের মায়া আমাকে মোহিত করেছে। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। বাবা খুশি হয়ে বললেন, তাহ’লে চলো দেখি। কোথায় সেই মেয়ে? আমি তার জন্য তোমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাব।
কথামতো পরদিন বাবা ছেলেকে নিয়ে সেই মেয়ের বাড়িতে গেল। কিন্তু যখন বাবা মেয়েটিকে দেখলেন, তিনি নিজেই তার রূপে মুগ্ধ হয়ে পড়লেন। তখন তিনি ছেলেকে বললেন, শোন! এই মেয়েটি তোমার মতো বেকার তরুণের জন্য নয়। তুমি এখনো তাকে পাওয়ার উপযুক্ত নও। এই মেয়ের জন্য এমন একজন পুরুষ দরকার, যার আভিজাত্য আছে, ধন-সম্পদ আছে, যেমন আমি।
ছেলে বিস্মিত হয়ে বলল, বাবা! আমি তাকে আগে দেখেছি। আমি তাকে বিয়ে করব। এই নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়ে গেল। শেষমেশ সমস্যা সমাধানের জন্য তারা পুলিশের কাছে গেল। পুলিশ অফিসার সব শুনে বলল, মেয়েটিকে নিয়ে এসো, দেখি সে কাকে চায়? বাবা নাকি ছেলে?
অতঃপর যখন মেয়েটিকে নিয়ে আসা হ’ল, তাকে দেখে পুলিশ অফিসার নিজেই বিমোহিত হয়ে গেল। সে বলল, এই মেয়েটির জন্য তোমাদের কেউই উপযুক্ত নও। এরকম সুন্দরী তরুণীর বিবাহের জন্য কেবল শহরের একজন চাকুরীওয়ালা সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিই উপযুক্ত, যেমন আমি। ফলে তাদের মধ্যে আবার ঝগড়া শুরু হ’ল।
অবশেষে সুষ্ঠু বিচারের আশায় সবাই গেল মন্ত্রীর কাছে। মন্ত্রীও মেয়েটিকে দেখে বলল, ‘এই মেয়েকে তো শুধু মন্ত্রীর ন্যায় সম্মানিত মানুষই বিয়ে করতে পারে!’ সবাই আবার তর্কে মেতে উঠল। তখন মেয়েটি বলল, আমার কাছে একটা সমাধান আছে। আমি দৌঁড় দিব, তোমরা সবাই আমার পেছনে দৌঁড়াবে। যে প্রথমে আমাকে ধরতে পারবে, আমি তাকেই বিয়ে করব।
সবাই তার প্রস্তাবে রাযী হয়ে গেল। দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে হঠাৎ মেয়েটি একটি গভীর গর্তের কাছ দিয়ে চলে গেল। কিন্তু তারা কেউ সেটি খেয়াল করল না। তারা মোহগ্রস্ত হয়ে কেবল মেয়েটিকে লক্ষ্য করেই দৌঁড়াচ্ছিল। ফলে তারা সকলে গর্তে পড়ে গেল। তখন মেয়েটি গর্তের ধারে দাঁড়িয়ে উপর থেকে বলল, এখন কি তোমরা বুঝতে পেরেছ, আমি কে? আমি হ’লাম দুনিয়া, যার পিছনে সবাই দৌঁড়ায়।
শিক্ষা : এই দুনিয়ার মোহে পড়ে মানুষ তাদের রব থেকে গাফিল হয়ে যায়। অবশেষে একদিন কবরে গমনের মাধ্যমে সবকিছুর অবসান ঘটে। আল্লাহ বলেন, ‘অধিক পাওয়ার আকাংখা তোমাদের (পরকাল থেকে) গাফেল রাখে, যতক্ষণ না তোমরা কবরস্থানে উপনীত হও’ (তাকাছুর ১০২/১-২)।
মূল : মুহসিন জববার
অনুবাদ : নাজমুন নাঈম