জায়নবাদী ষড়যন্ত্রের ইতিবৃত্ত (তৃতীয় কিস্তি)

ডা. মুহাম্মাদ সাইফুর রহমান 5 বার পঠিত

ইউরোপে ইহূদীদের অবস্থা : সপ্তম শতকে মুসলমানরা তখনও ইউরোপজুড়ে সাম্রাজ্য বিস্তার করতে পারেনি। তাদের বিজয় তখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে ইউরোপের দেশগুলো বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের ন্যায় খৃষ্টান শাসনের অধীনেই ছিল। মুসলিম শাসনের আওতায় ইহূদীরা যেভাবে নাগরিক অধিকার এবং শান্তিতে বসবাস করেছে, খৃষ্টান ইউরোপে তারা তার ন্যূনতম কিছু পায়নি। ইউরোপে ইহূদীদের জীবন ছিল প্রায় গোলামীর মতো; তাদের গলা ও বুকে বিশেষ ব্যাজ লাগাতে হ’ত। ঘরের বাইরেও বিশেষ চিহ্ন দিতে বাধ্য করা হ’ত। যাতে ইহূদীদের বাড়িঘর সহজে চিনে নেওয়া যায়।

ইউরোপীয়রা ইহূদীদেরকে নিম্নস্তরের মানুষ মনে করত। ইহূদী বস্তির চারদিকে উঁচু দেয়াল তুলে রাখা হ’ত। রাতের বেলায় তারা নিজেদের এলাকা থেকে বের হ’তে পারত না। রবিবারসহ খৃষ্টানদের অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের দিনগুলোতেও ইহূদীদের শহরে বের হওয়া নিষিদ্ধ ছিল। এভাবে তাদের সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হ’ত। শহরে কোনো সমস্যা বা সংকট দেখা দিলেই তার দায় ইহূদীদের উপর পড়ত। তাদের বস্তিতে হামলা করা কিংবা আগুন লাগিয়ে দেওয়া এসব ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা’।[1]

ইউরোপে ইহূদীদের ঘেটো সমাজ ব্যবস্থা : রোমান ক্যাথলিক গীর্জা ইহূদীদেরকে ঈসা (আঃ)-এর হত্যাকারী মনে করত। সেই ধারাবাহিক অভিযোগের কারণে ইহূদীদেরকে ‘অভিশপ্ত’ ঘোষণা করা হয় এবং খৃষ্টান বসতিতে বসবাস করতে নিষেধ করা হয়। ফলে তাদেরকে খৃষ্টান জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন করে শহরের বাইরে আলাদা কলোনীতে থাকতে বাধ্য করা হয়। এই পৃথক কলোনিগুলো দেখতে ছিল ছোট ছোট ছিটমহলের মতো। ইতিহাসে এসব এলাকা ‘ইহূদীদের বাড়ি’ (Jewish Ghetto) নামে প্রসিদ্ধ হয়ে আছে’।[2]

১৫৫৫ সালে ইতালিতে পোপ পল চতুর্থ (Paul IV) প্রথম এই ব্যবস্থা চালু করেন। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল তথাকথিত ‘অভিশপ্ত’ ইহূদীদের সমাজের মূলধারা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা এবং তাদের ধর্মীয় ও নাগরিক কার্যক্রম কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া। ফলে ঘেটোবাসীদের পোশাক, ব্যবসা-বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন, ভ্রমণ সবকিছুতেই কঠোর নযরদারী ও বিধিনিষেধ ছিল। কোন পেশায় তারা যুক্ত হ’তে পারবে, কার সাথে ব্যবসা করতে পারবে, শহরে কোন পথ ধরে চলতে পারবে এসবও শাসকদের দ্বারা নির্ধারিত ছিল।

ঘেটো নামের উৎপত্তি : ঘেটো শব্দটির উৎপত্তি ভেনিস শহরের একটি পুরোনো লৌহকারখানা geto/gheto থেকে। যেখানে ১৫১৬ সালে প্রথমবার ইহূদীদের জোরপূর্বক পৃথকভাবে রাখা হয়। পরে এই শব্দটিই পুরো ইউরোপে ইহূদী-বিচ্ছিন্ন কলোনী হিসাবে পরিচিতি লাভ করে’।[3]

ঘেটো ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা টিকে রাখার সংগ্রাম : ঘেটো দেখতে অনেকটা গ্রাম বা মহল্লার মতো হলেও সেখানে সংঘবদ্ধ উপায়ে ইহূদীরা বসবাস করতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় যে, যতদিন পর্যন্ত না ইহূদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে, ততদিন তারা এই উপায়ে বসবাস করবে। এ সম্পর্কে নিউইর্য়ক সেন্ট্রাল পার্কে অবস্থিত সিনাগাগটির র‌্যাবাই বলেন, ঘেটোভিত্তিক সমাজব্যবস্থা বাঁচিয়ে রাখা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক। ইহূদী জাতীয়তাবাদের প্রকৃত স্বাদ কেবল এই সমাজব্যবস্থার মাঝেই নিহীত। মুখে দাঁড়ি রাখা, মাথা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা, ধর্মীয় বই সঙ্গে রাখা, দ্রুত পদক্ষেপে রাস্তায় হাঁটা ও ছাববাতসহ সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়মিত পালন করা কেবল এই সমাজব্যবস্থার কল্যাণেই সম্ভব হচ্ছে’।[4]

নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতীয়তা টিকিয়ে রাখার অধিকার পৃথিবীর প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর আছে। কিন্তু সমস্যা হ’ল এই পৃথক জাতিসত্তা নীতি সহ্যের চরমসীমা অতিক্রম করে এবং স্বাধীন একটি সমাজব্যবস্থার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঘেটোভিত্তিক সমাজব্যবস্থা বাঁচিয়ে রাখার আন্দোলনে Israel Friedlaender হ’লেন অন্যতম এক পথিকৃৎ। ১৯০৯ সালে The problem of Judaism in America শিরোনামে তিনি একটি বক্তৃতা প্রদান করেন। তিনি বলেন, যেকোন স্বাধীন রাষ্ট্রে ইহূদীবাদ প্রতিষ্ঠার কিছু উপায় আছে- (১) অ্যান্টি-সেমিটিজম ছড়িয়ে দিতে হবে। (২) ইহূদী অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। (৩) স্বাধীন দেশগুলোতে ঘেটো সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে’।[5]

ক্রুসেড ঘোষণা ও জার্মানিতে ইহূদী নিপীড়ন : ১০৯৫ সালে পোপ দ্বিতীয় আর্বান যখন প্রথম ক্রুসেডের ঘোষণা দেন, তখন ইউরোপের বহু অঞ্চলে খৃষ্টীয় উগ্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিশেষ করে জার্মানির ওয়ার্মস (Worms) ও মাইনয (Mainz) শহরের ইহূদীরা নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। খৃষ্টীয় জনতা ধর্মযুদ্ধের উন্মাদনাকে উপলক্ষ্য বানিয়ে ইহূদী মহল্লাগুলোতে হামলা করে এবং জোরপূর্বক খৃষ্টধর্মে ধর্মান্তরের চেষ্টা চালায়। ইহূদীরা খৃষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার চেয়ে মৃত্যুবরণ করাকেই মর্যাদাকর মনে করে। ফলে বহু ইহূদী উন্মত্ত খৃষ্টানদের আক্রমণে নিহত হয়; আর অনেকে স্বেচ্ছায় আত্মাহুতি দেয়। এই সময়ের সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য ছিল, ইহূদী মায়েরা নিজ শিশুদের কোলে তুলে নিজ হাতেই হত্যা করত; তাদের বিশ্বাস ছিল, খৃষ্টানদের নির্মমতার শিকার হওয়ার চেয়ে শহীদ হওয়াই উত্তম’।[6]

ইহূদীদের বহিষ্কার ও গণহত্যা : ১১০০-১৬০০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত ইতিহাসে ইহূদীদের গণহত্যা এবং খৃষ্টান দেশগুলো থেকে বহিষ্কার বা নির্বাসনের বহু দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। ১১৮২ সালে ফ্রান্সের রাজা ফিলিপ অগাস্টাস প্যারিস থেকে সকল ইহূদীকে বহিষ্কার করেন এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন। ১২৯০ সালে ইংল্যান্ড থেকেও পুরো ইহূদী সমাজকে দেশচ্যুত করা হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, যে ব্রিটেন ও ফ্রান্স অতীতে ইহূদীদের হত্যা, লুট ও নির্বাসনের নীতি অনুসরণ করেছিল, পরবর্তীকালে তারাই ওছমানীয় খেলাফত থেকে ফিলিস্তীন দখল করে সেখানে ইহূদীদের জন্য ইস্রাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে’।[7]

ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড ছাড়াও ইউরোপের আরও বহু দেশ বিভিন্ন সময়ে ইহূদীদেরকে অভিশপ্ত ঘোষণা করে দেশ থেকে বহিষ্কার করে। পর্তুগাল ১৪৯৭ সালে, স্পেন ১৪৯২ সালে, জার্মানি ১৩৪৮, ১৫১০ ও ১৫৫১ সালে, লিথুনিয়া ১৪৪৫ ও ১৪৯৫ সালে, অস্ট্রিয়া ১৪২১ সালে, হাঙ্গেরী ১৩৪৯ ও ১৩৬০ সালে এবং ক্রিমিয়া ১০১৬ ও ১৩৫০ সালে ইহূদীদের দেশছাড়া করে’।[8]

ইহূদীদের বহিষ্কার ও গণহত্যার প্রধান কারণ : তাদের দেশান্তর ও গণহত্যার এই ধারা সময়ে সময়ে পুরো ইউরোপেই সংঘটিত হয়েছে। এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ ছিল। (১) ক্রুসেড যুদ্ধ : ইউরোপের ক্রুসেডার বাহিনী যখন যুদ্ধের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করত, তখন তারা পথিমধ্যে যেসব এলাকায় ইহূদীদের পেত, সেখানেই হামলা চালাত এবং তাদের গণহত্যা করত। (২) মহামারী : ইউরোপে যখনই কোনো মহামারী ছড়িয়ে পড়ত, তখন এর জন্য ইহূদীদের দায়ী করা হ’ত। প্রায় সব দেশেই এই অযৌক্তিক অপবাদকে ভিত্তি করে ইহূদীদের উপর গণহত্যা চালানো হয়েছে। (৩) চক্রাকারে সূদী অর্থব্যবস্থা : সেই সময় ইউরোপে সূদ নিষিদ্ধ ছিল। ফলে ইহূদীরাই সূদী কারবার পরিচালনা করত। এতে ইউরোপীয় সমাজ ঋণের চাপে জর্জরিত হয়ে পড়েছিল। আর যখন তাদের সূদী নিপীড়ন সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছাত, তখন সমাজই ইহূদীদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাত, গণহত্যা করত এবং দেশত্যাগে বাধ্য করত। এ ধরনের দু’টি প্রসিদ্ধ গণহত্যা ও নির্বাসনের ঘটনা ঘটে। ফ্রান্সে বাদশাহ ফিলিপ দ্যা ফেয়ার এর শাসনামলে এবং ইংল্যান্ডে বাদশাহ এডওয়ার্ড-এর সময়’।[9]

ইহূদী সমাজের প্রতিরোধ ও ইউরোপীয় বিপ্লবের উদ্ভব : অপবাদ, দেশান্তর ও গণহত্যার চাপে অতিষ্ঠ ইহূদীরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নানা মতবাদ ও বিপ্লবী ধারা সৃষ্টি করে। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ষড়যন্ত্রে ইউরোপে বড় বড় বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং ইহূদীদের সম্পর্কে ইউরোপীয়দের দৃষ্টিভঙ্গিতেও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আসে। প্রায় দুই হাযার বছর ধরে খৃষ্টান পাদ্রী ও পুরোহিতরা নিজেদের ভোগবাদী স্বার্থের অনুকূলে ধর্মগ্রন্থে বারবার পরিবর্তন আনে এবং ধর্মের নামে সাধারণ জনগণের ওপর পৈশাচিক শাসন-শোষণ ও নির্যাতন চালায়। এর ফলে জনগণ ধীরে ধীরে ধর্মবিরোধী মনোভাব ধারণ করে এবং বিভিন্ন বিপ্লবের পথ সুগম হয়।

ইউরোপীয় রেনেসাঁ ও ইহূদীদের প্রভাব : ইউরোপীয় রেনেসাঁকে অনেক সময় কেবল মানব জাগরণের সূচনা হিসাবে দেখা হয়। কিন্তু ইতিহাসের কিছু ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি একই সঙ্গে ইহূদী প্রভাব ও ষড়যন্ত্রের একটি সূচনাও ছিল। রেনেসাঁর সময় ইহূদীরা তাদের কৌশল ও প্রভাব বিস্তার করে খৃষ্টানদের ঐক্য এবং রোমান সাম্রাজ্যকে দুর্বল ও বিভক্ত করে। এর ফলে খৃষ্টান সমাজে চিন্তাভাবনা, বিশ্বাস ও ধর্মীয় ধারণায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং একে একে তারা অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মধ্যে পড়ে। এতে বহু খৃষ্টান প্রাণ হারায় এবং সমাজ বহুধা বিভক্ত হয়। এছাড়াও ইহূদীরা প্রকাশ্য ও গোপন চক্রান্তের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে খৃষ্টান জনতার মধ্যে নিজস্ব সহযোগী ও অনুসারী তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা শত্রুদের কার্যক্ষমতা সীমিত করে। আর এজন্যই বর্তমানে ইউরোপীয় খৃষ্টান সমাজের অনেকাংশে ইহূদীদের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

প্রটেস্ট্যান্ট খৃষ্টান সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে দৃশ্যমান। ইহূদীদের অনুপ্রেরণায় তারা ল্যাটিন বা পশ্চিমা খৃষ্টধর্ম থেকে আলাদা হয়ে বহু শাখায় বিভক্ত হয়। যেমন মোরাভিয়া, লাথারিয়া, ক্যালভিনিয়া এবং প্রেসবাইটেরিয়ান সম্প্রদায়। এভাবেই গীর্জার ভেতরে বিভাজন ঘটে। আজকের চার্চ অব ইংল্যান্ডের নানা শাখা ব্যাপ্টিস্ট, কংগ্রেশনালিস্ট, মেথডিস্ট, মর্ডানিস্ট, ইভানজেলিকাল এবং এংলো-ক্যাথলিক এই বিভাজনের প্রমাণ বহন করে। বিশ্বব্যাপী রোমান ক্যাথলিকদের স্বতন্ত্র ধর্মীয় কেন্দ্র ‘হোলি সিটি’ (ভ্যাটিকান) গঠনেও ইহূদীদের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। রোমের একটি পাহাড়ে সীমিত কিছু জমিতে এই কেন্দ্র তাদের প্ররোচনায় প্রতিষ্ঠিত হয়’।[10]

-ডা. মুহাম্মাদ সাইফুর রহমান

 [সভাপতি, বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ, দিনাজপুর-পূর্ব সাংগঠনিক যেলা]

 

[1]. মুহাম্মাদ আতিক উল্লাহ, দ্য গ্রেট গেইম (মাকতাবাতুল আসহার প্রকাশন, প্রথম প্রকাশ ২০২৪), ১১৩ পৃ.।

[2]. ইতিহাসের আয়নায় বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ৫৫ পৃ.।

[3]. তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট।

[4]. সিক্রেটস অব জায়োনিজম, মূল: হেনরি ফোর্ড, ভাষান্তরঃ ফুয়াদ আল আজাদ, গার্ডিয়ান পাবলিকেশন, ৩য় সংস্করণ ২০২০ পৃ. ২৬৩।

[5]. প্রাগুক্ত ২৬৩-২৬৪ পৃ.।

[6]. ইসরাঈলের উত্থান-পতন ১৫১ পৃ.।

[7]. ইতিহাসের আয়নায় বিশ্বব্যবস্থা ১০৯ পৃ.।

[8]. সিক্রেম অব জায়োনিজম ৩৩ পৃ.।

[9]. ইতিহাসের আয়নায় বিশ্বব্যবস্থা ১০৯ পৃ.।

[10]. জায়নাবাদ : সূচনা ও ক্রমবিকাশ ৫৭-৫৯ পৃ.।



আরও