আল্লাহ্ নিকট ক্ষমা প্রার্থনা
তাওহীদের ডাক ডেস্ক
তাওহীদের ডাক ডেস্ক 4 বার পঠিত
আল-কুরআনুল কারীম :
1- إِنَّ الَّذِيْنَ قَالُوْا رَبُّنَا اللهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوْا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوْا وَلَا تَحْزَنُوْا وَأَبْشِرُوْا بِالْجَنَّةِ الَّتِيْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ-
(১) ‘নিশ্চয়ই যারা বলে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। অতঃপর তার উপর দৃঢ় থাকে, তাদের উপর ফেরেশতামন্ডলী নাযিল হয় এবং বলে যে, তোমরা ভয় পেয়ো না ও চিন্তান্বিত হয়ো না। আর তোমরা জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল’ (হামীম সাজদাহ ৪১/৩০)।
2- إِنَّ الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدًّا- فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الْمُتَّقِينَ وَتُنْذِرَ بِهِ قَوْمًا لُدًّا-
(২) ‘নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে, তাদের জন্য দয়াময় সৃষ্টি করে দিবেন পরস্পরে ভালবাসা’। ‘আমরা তো কুরআনকে তোমার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে তুমি তার মাধ্যমে মুত্তাক্বীদের সুসংবাদ দিতে পার এবং কলহ পরায়ণ সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার’ (মারিয়াম ১৯/৯৬-৯৭)।
3- وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا لِيَذْكُرُوْا اسْمَ اللهِ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ فَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوْا وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ-
(৩) ‘প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমরা কুরবানীর বিধান রেখেছিলাম, যাতে তারা যবহ করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে এজন্য যে, তিনি চতুষ্পদ গবাদিপশু থেকে তাদের জন্য রিযিক নির্ধারণ করেছেন। আর তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন। অতএব তাঁর নিকটে তোমরা আত্মসমর্পণ কর এবং তুমি বিনয়ীদের সুসংবাদ দাও’ (হজ্জ ২২/৩৪)।
4- وَالَّذِينَ اجْتَنَبُوا الطَّاغُوتَ أَنْ يَعْبُدُوهَا وَأَنَابُوا إِلَى اللهِ لَهُمُ الْبُشْرَى فَبَشِّرْ عِبَادِ- الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ-
(৪) ‘আর যারা তাগূতের পূজা হ’তে বিরত হয় এবং আল্লাহর দিকে রুজূ হয়, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদের’। ‘যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে, অতঃপর তার মধ্যে উত্তমটির অনুসরণ করে। তাদেরকে আল্লাহ সুপথে পরিচালিত করেন এবং তারাই হ’ল জ্ঞানী’ (যুমার ৩৯/১৭-১৮)।
5- إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا-
(৫) ‘নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথের নির্দেশনা দেয় যা সবচাইতে সরল। আর তা সৎকর্মশীল মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার’ (বনু ইস্রাঈল ১৭/৯)।
6- إِنَّ اللهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ-
(৬) ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও মাল খরীদ করে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। তারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে। অতঃপর হত্যা করে অথবা নিহত হয়। এই অঙ্গীকারকে তিনি নিজের উপর অবধারিত করে নিয়েছেন তাওরাতে, ইনজীলে ও কুরআনে। আর আল্লাহর চাইতে নিজের অঙ্গীকার অধিক পূরণকারী আর কে আছে? অতএব তোমরা এই ক্রয়-বিক্রয়ের বিনিময়ে (জান্নাতের) সুসংবাদ গ্রহণ কর যা তোমরা তাঁর সাথে করেছ। আর এটাই হ’ল মহা সফলতা’ (তওবা ৯/১১১)।
7- أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ- الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ- لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ-
(৭) ‘মনে রেখ (আখেরাতে) আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তান্বিত হবে না’। ‘যারা ঈমান আনে ও সর্বদা আল্লাহকে ভয় করে’। ‘তাদের জন্যই সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তন নেই। আর (মুমিনের জন্য) এটাই হ’ল বড় সফলতা’ (ইউনুস ১০/৬২-৬৪)।
হাদীছের বাণী :
(8) عَنْ أَبِي بُرْدَةَ قَالَ: بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَدَّهُ أَبَا مُوسَى وَمُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ: يَسِّرَا وَلَا تُعَسِّرَا، وَبَشِّرَا وَلَا تُنَفِّرَا، وَتَطَاوَعَا وَلَا تَخْتَلِفَا-
(৮) (তাবেঈ) আবু বুরদাহ (রহঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) তার দাদা আবু মূসা আশ‘আরী এবং মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামেনে (দ্বীন প্রচার ও শাসকরূপে) প্রেরণ করার সময় নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘তোমরা (মানুষের জন্য সবকিছু) সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, বিতৃষ্ণ করো না। আর তোমরা পরস্পর একমত হয়ে চলো, দ্বিমত পোষণ করো না’।[1]
(9) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ تَكَدْ رُؤْيَا الْمُسْلِمِ تَكْذِبُ وَأَصْدَقُكُمْ رُؤْيَا أَصْدَقُكُمْ حَدِيثًا وَرُؤْيَا الْمُسْلِمِ جُزْءٌ مِنْ خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ وَالرُّؤْيَا ثَلَاثَةٌ: فَرُؤْيَا الصَّالِحَةِ بُشْرَى مِنَ اللهِ، وَرُؤْيَا تَحْزِينٌ مِنَ الشَّيْطَانِ، وَرُؤْيَا مِمَّا يُحَدِّثُ الْمَرْءُ نَفْسَهُ-
(৯) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত নবী করীম (ছাঃ) ইরশাদ করেছেন, ‘ক্বিয়ামত যখন নিকটবর্তী হবে, তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। আর তোমাদের মধ্যে যার কথা যত বেশি সত্য, তার স্বপ্নও তত বেশি সত্য হবে। মুমিনের স্বপ্ন নবুঅতের ৪৫ ভাগের এক ভাগ। স্বপ্ন তিন প্রকার। (১) নেক বা ভালো স্বপ্ন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ (২) শয়তানের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তা সৃষ্টিকারী স্বপ্ন (৩) মানুষের নিজের মনে মনে চিন্তা করা কোনো বিষয় যা স্বপ্নে ফুটে ওঠে’।[2]
(10) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الدِّينَ يُسْرٌ وَلَنْ يُشَادَّ الدِّينَ أَحَدٌ إِلَّا غَلَبَهُ، فَسَدِّدُوا وَقَارِبُوا، وَأَبْشِرُوا، وَاسْتَعِينُوا بِالْغَدْوَةِ وَالرَّوْحَةِ وَشَيْءٍ مِنَ الدُّلْجَةِ -
(১০) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই দ্বীন (ইসলাম) সহজ। যে কেউ দ্বীনকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে, দ্বীন তার ওপর প্রবল হয়ে যাবে। অতএব তোমরা সঠিক পথে থাকো, সঠিকের নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা করো, সুসংবাদ গ্রহণ করো, আর সকাল-সন্ধ্যা এবং রাতের শেষভাগের কিছু অংশ ইবাদতের মাধ্যমে সাহায্য চাও’।[3]
(11) عَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَشِّرِ الْمَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ-
(১১) হযরত বুরায়দা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘অন্ধকারের মধ্যে মসজিদের দিকে হেঁটে যাতায়াতকারীদের ক্বিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও’।[4]
(12) عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَشِّرْ هَذِهِ الأُمَّةَ بِالسَّنَاءِ وَالرِّفْعَةِ وَالنَّصْرِ وَالتَّمْكِينِ فِى الأَرْضِ فَمَنْ عَمِلَ مِنْهُمْ عَمَلَ الآخِرَةِ لِلدُّنْيَا لَمْ يَكُنْ لَهُ فِى الآخِرَةِ نَصِيبٌ
(১২) হযরত উবাই বিন কা‘ব (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ইরশাদ করেছেন, ‘এই উম্মতকে সুসংবাদ দাও উচ্চ মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, বিজয় এবং যমীনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার। তবে তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে আখিরাতের (পরকালের) কোনো আমল করবে, পরকালে তার জন্য (পুরস্কারের) কোনো অংশ থাকবে না’।[5]
(13) عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سَدِّدُوا وَقَارِبُوا وَأَبْشِرُوا فَإِنَّهُ لَنْ يُدْخِلَ الْجَنَّةَ أَحَدًا عَمَلُهُ قَالُوا: وَلَا أَنْتَ؟ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: وَلَا أَنَا إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِيَ اللهُ مِنْهُ بِرَحْمَةٍ وَاعْلَمُوا أَنَّ أَحَبَّ الْعَمَلِ إِلَى اللهِ أَدْوَمُهُ وَإِنْ قَلَّ-
(১৩) নবী করীম (ছাঃ)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর, এর কাছাকাছি পথে থেকো এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। কারো আমলই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না’। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও কি না? তিনি বললেন, ‘আমিও না। তবে যদি আল্লাহ আমাকে তার রহমত দ্বারা ঢেকে নেন। তোমরা জেনে রাখো, নিয়মিত আমলই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশী পসন্দের, যদিও তা পরিমাণে কম হয়’।[6]
(14) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا أَهَلَّ مُهِلٌّ قَطُّ إِلَّا بُشِّرَ وَلَا كَبَّرَ مُكَبِّرٌ قَطُّ إِلَّا بُشِّرَ قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ
بِالْجَنَّةِ؟ قَالَ: نَعَمْ-
(১৪) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখনই কোন ব্যক্তি উচ্চকণ্ঠে তালবিয়া পাঠ করে, তাকে অবশ্যই সুসংবাদ দেওয়া হয়। আর যখনই কোন ব্যক্তি তাকবীর ধ্বনি দেয়, তাকে অবশ্যই সুসংবাদ দেওয়া হয়’। বলা হ’ল, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’।[7]
(১৫) হযরত ওবাদাহ বিন ছামেত (রাঃ) হ’তে বর্ণিত নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করাকে পসন্দ করে, আল্লাহ তার সাথে সাক্ষাৎ করাকে পসন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করাকে অপসন্দ করে, আল্লাহ তার সাথে সাক্ষাৎ করাকে অপসন্দ করেন। তখন আয়েশা (রাঃ) অথবা তাঁর কোন এক স্ত্রী বললেন, আমরা তো মৃত্যুকে অপসন্দ করি? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘বিষয়টি সেরকম নয়; বরং মুমিন ব্যক্তির যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর বিশেষ মর্যাদার সুসংবাদ দেওয়া হয়। ফলে তার সামনে যা রয়েছে, তার চেয়ে প্রিয় আর কিছুই থাকে না। তখন সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করাকে ভালোবেসে ফেলে এবং আল্লাহর তার সাথে সাক্ষাৎ করাকে পসন্দ করেন’।[8]
মনীষীদের বক্তব্য :
(১) হাসান বাছরী (রহঃ) বলেন, ‘তোমরা তিনটি জিনিসের মধ্যে ইবাদতের মধুর স্বাদ অনুসন্ধান করো। ছালাত, কুরআন তেলাওয়াত এবং যিকিরে। যদি তা খুঁজে পাও, তবে অবিচল থাকো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো। আর যদি তা খুঁজে না পাও, তবে জেনে রেখো, তোমার (অন্তরের) দুয়ার বন্ধ রয়েছে’।[9]
(২) ইমাম গাযালী (রহঃ) বলেন, ‘ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যার মৃত্যুর সাথে সাথে তার গুনাহগুলোও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। আর আফসোস ও ধ্বংস ঐ ব্যক্তির জন্য, যে মৃত্যুবরণ করেছে, অথচ তার পাপ সমূহ শত বছর বা তার চেয়ে বেশী সময় পর্যন্ত অবশিষ্ট রয়ে গেছে। এ কারণে তাকে কবরে আযাব দেওয়া হবে যতদিন তার এই গুনাহ বিলুপ্ত না হবে’।[10]
(৩) ইমাম রাফেঈ (রহঃ) বলেন, ‘আমার বিছানা যখন মাটির কবর হবে আর আমি দয়াময় প্রভুর প্রতিবেশী হব, তখন হে প্রিয়জনেরা, তোমরা আমাকে এই বলে অভিনন্দন জানিও যে, তোমার জন্য সুসংবাদ, তুমি এক পরম দয়ালু সত্তার দরবারে এসেছ![11]
সারবস্ত্ত :
(১) যারা মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রেখে হকের ওপর অবিচল থাকে এবং সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাত, পরস্পরের ভালোবাসা ও মহা পুরস্কারের সুসংবাদ দিয়েছেন। (২) মানুষের কেবল নিজস্ব আমল জান্নাতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। বরং আল্লাহর রহমত ও তাঁর সাথে সাক্ষাতের আকাংখাই বান্দাকে জান্নাতের সুসংবাদ ও পরম সফলতা এনে দেয়। (৩) সুতরাং প্রকৃত সুসংবাদপ্রাপ্ত তো সেই ব্যক্তি, যার দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সাথে সাথে তার সমস্ত গুনাহের খাতাও চিরতরে মুছে যায়। আল্লাহ আমাদের সকলকেই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফীক দান করুন।-আমীন!
[1]. বুখারী হা/৩০৩৮; মুসলিম হা/১৭৩৩; মিশকাত হা/৩৭২৪।
[2]. মুসলিম হা/২২৬৩।
[3]. বুখারী হা/৩৯, ৫৬৬৩; মিশকাত হা/১২৪৬।
[4]. তিরমিযী হা/২২৩; আবুদাঊদ হা/৫৬১; মিশকাত হা/৭২১।
[5]. আহমাদ হা/২১২৬০; সনদ হাসান-শো‘আইব আরনাঊত্ব।
[6]. মুসলিম হা/২৮১৮।
[7]. মু‘জামুল ওয়াসীত্ব হা/৭৭৭৯; ছহীহাহ হা/১৬২১।
[8]. বুখারী হা/৬৫০৭; মুসলিম হা/১৬৬৪; মিশকাত হা/১৬০১।
[9]. আবু নু‘আইম ইস্পহানী, হিলয়াতুল আওলিয়া ৬/১৭১ পৃ.।
[10]. গাযালী, ইহয়াউ উলূমিদ্দীন ২/৭৪ পৃ.।
[11]. মুহাম্মাদ আলী ইবনু ‘আল্লান, দালীলুল ফালিহীন ২/৩৬১ পৃ.।