ইলম অন্বেষণের পিপাসা : সেকাল-একাল
মুহাম্মাদ আব্দুন নূর
ভূমিকা : ইতিবাচক দিক বিবেচনা করলে বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তির এক স্বর্ণশিখরে অবস্থান করছে। আধুনিক বিজ্ঞান মানুষের জীবনযাত্রাকে আমূল বদলে দিয়েছে। এক সময় যে কাজ করতে মাসাধিকাল সময় লাগত, আজ তা মুহূর্তের মধ্যেই সম্পন্ন হচ্ছে। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তিগুলো এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলামের একটি অন্যতম সৌন্দর্য হ’ল এটি সর্বজনীন এবং সর্বকালীন। ইসলাম কখনোই বিজ্ঞানের বিরোধী নয়। বরং ইসলাম বিজ্ঞানের সঠিক ও কল্যাণকর ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান করে। মনে রাখা আবশ্যক যে, বিজ্ঞান ইসলামের অনুগামী। যা অহি-র আলোকে ব্যাখ্যা করতে হবে। বর্তমান যুগে দ্বীনী বা ধর্মীয় কাজে ইলেকট্রনিক্স বা ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সঠিক নিয়তে এসব ডিভাইসের ব্যবহার যেমন ব্যক্তিগত আমলে সাহায্য করে, তেমনি বিশ্বব্যাপী ইসলামের সঠিক দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার কাজকে করেছে বহুগুণ ত্বরান্বিত।
ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের ধারণা ও বিকাশ : ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বলতে সাধারণত এমন সব আধুনিক যন্ত্রপাতিকে বুঝায় যা অর্ধপরিবাহী এবং বৈদ্যুতিক শক্তির মাধ্যমে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও আদান-প্রদান করে। ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স উভয়ই বিদ্যুতের সাথে সম্পর্কিত থাকলেও তাদের কাজের ধরন ও উদ্দেশ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইলেকট্রিক্যাল বলতে সাধারণত বিদ্যুৎ শক্তির উৎপাদন, পরিবহন এবং ব্যবহারকে বুঝায়। এতে বড় পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহৃত হয় এবং এর প্রধান উদ্দেশ্য হ’ল বিভিন্ন যন্ত্র বা মেশিন চালানো। যেমন- বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার, ফ্যান, লাইট ইত্যাদি ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রের উদাহরণ। অন্যদিকে ইলেকট্রনিক্স বলতে এমন প্রযুক্তিকে বুঝায় যেখানে খুব কম পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিদ্যুতের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে তথ্য বা সিগন্যাল প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। এতে ট্রানজিস্টর, ডায়োড, আই.সি. ইত্যাদি ক্ষুদ্র উপাদান ব্যবহার করা হয়। যেমন- মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও ইত্যাদি ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের উদাহরণ। ইলেকট্রিক্যাল মূলত বিদ্যুৎ শক্তি নিয়ে কাজ করে, আর ইলেকট্রনিক্স সেই বিদ্যুৎ প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন তথ্য ও সিগন্যাল প্রক্রিয়াকরণ করে।
ইলেকট্রনিক্স ও ডিজিটাল সম্পর্ক : মোবাইল ও কম্পিউটার আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। যা একই সাথে ইলেকট্রনিক্স এবং ডিজিটাল ডিভাইস হিসাবে পরিচিত। এগুলো বিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই এগুলো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি এই ডিভাইসগুলো তথ্যকে ০ এবং ১ (বাইনারি) আকারে প্রক্রিয়া করে। যার কারণে এগুলো ডিজিটাল ডিভাইস হিসাবেও গণ্য হয়। বর্তমান যুগে যোগাযোগ, শিক্ষা, গবেষণা এবং দ্বীনী কাজে মোবাইল ও কম্পিউটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দ্বীনী জ্ঞান অর্জনে ডিজিটাল ডিভাইস
বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ, যেখানে স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। এই ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে একজন মানুষ খুব সহজেই কুরআন তেলাওয়াত শুনতে পারে, তাজবীদ শিখতে পারে এবং বিভিন্ন ভাষার তাফসীর পড়তে পারে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অসংখ্য ইসলামিক লেকচার, আলোচনা ও শিক্ষামূলক ভিডিও পাওয়া যায়। যা আমাদের ইল্ম বৃদ্ধিতে সহায়ক। এছাড়া অ্যাপের মাধ্যমে কুরআন পড়া, অনুবাদ জানা এবং অডিও তেলাওয়াত শোনা যায়। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হ’ল যেকোন সময় এবং যেকোন স্থানে বসেই ইল্ম অর্জন করা যায়। এতে সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হয়। একইভাবে হাদীছ সহজেই পড়া ও বুঝা সম্ভব হচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি কিছু সতর্কতাও প্রয়োজন। ইন্টারনেটে অনেক ভ্রান্ত বা ভুল তথ্য থাকে। তাই সচেতন থাকতে হবে যেন এইসব প্ল্যাটফর্মগুলো নির্ভরযোগ্য ও উৎসসমৃদ্ধ হয়।
ডিজিটাল কুরআন : এখন আর বিশাল বিশাল ভলিউমের কুরআন সব জায়গায় বহন করতে হয় না। একটি ছোট স্মার্টফোনে পুরো কুরআন মাজীদ, তাফসীর গ্রন্থ রাখা সম্ভব। ‘আল-কুরআন’ বা ‘হাদীছ বিডি’র মতো অ্যাপগুলো আয়াত বা বিষয়ভিত্তিক সার্চ করার সুবিধা দেয়, যা আগে ছিল অকল্পনীয়। একজন আলোচক কোন দ্বীনী আলোচনায় হঠাৎ কোন কুরআনের আয়াত সাথে সাথে তার স্মার্টফোনে ডিজিটাল টেক্সট ভিত্তিক কুরআন অ্যাপ থেকে বের করতে সক্ষম হচ্ছেন। যেমন, কেউ যদি সার্চ বারে গিয়ে ২/২৫৫ অনুযায়ী সার্চ করেন, তাহ’লে তিনি ২ নং সূরা বাক্বারাহর ২৫৫ নং আয়াত খুঁজে পাবেন। আবার কেউ যদি পারা ভিত্তিক পৃষ্ঠা বের করতে চান তাহ’লে সেখানে ১৫:৯ লিখলে তা কুরআনের ১৫ নং পারার ৯ নং পৃষ্ঠায় নিয়ে যাবে। এভাবে খুব সহজে ডিজিটাল কুরআন ব্যবহার করা যেতে পারে।
ডিজিটাল হাদীছ : ডিজিটাল হাদীছ বলতে এমন হাদীছের সংগ্রহকে বুঝায় যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, সফটওয়্যার বা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পড়া ও সংরক্ষণ করা যায়। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন খুব সহজেই হাদীছ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। বিভিন্ন ইসলামিক অ্যাপ, অনলাইন লাইব্রেরী ও ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট শব্দ বা বিষয় লিখে সার্চ করলে সংশ্লিষ্ট হাদীছ দ্রুত পাওয়া যায়। এতে হাদীছের আরবী মূল পাঠ, বাংলা বা অন্যান্য ভাষার অনুবাদ এবং অনেক সময় ব্যাখ্যাও দেওয়া থাকে। ডিজিটাল হাদীছ শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাধারণ মানুষের জন্য খুবই উপকারী, কারণ এর মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজে হাদীছ অধ্যয়ন করা যায়। দৈনন্দিন জীবনে নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ, ইসলামিক বিধান জানা এবং অন্যদের মাঝে অহি-র বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ডিজিটাল হাদীছ মাধ্যমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে হাদীছ ব্যবহার করার সময় অবশ্যই নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে নেওয়া উচিত এবং নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা অনুযায়ী বুঝে তা জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। তেমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট হ’ল www.sunnah.com, www.shamela.ws
অডিও তেলাওয়াত ও তাজবীদ শিক্ষা : বিশ্বের প্রখ্যাত ক্বারীদের তেলাওয়াত এখন হাতের নাগালে। এর মাধ্যমে একজন মুমিন ব্যক্তি নিজের তেলাওয়াত শুদ্ধ করতে পারেন এবং তাজবীদের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো শিখতে পারেন। বর্তমানে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্বারীর সুন্দর তেলাওয়াত সহজেই শোনা যায়। এর ফলে একজন কুরআন শিক্ষাকারী সঠিক উচ্চারণ, মাখরাজ ও তাজবীদের নিয়ম অনুসরণ করে কুরআন তেলাওয়াত শিখতে পারে। অনেক ইসলামিক অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে তাজবীদের নিয়মসহ অডিও তেলাওয়াত দেওয়া থাকে, যা শুনে শুনে অনুশীলন করা যায়। উদাহরণ হিসাবে www.qurancentral.com, www.quran.com এতে ঘরে বসে সহজেই কুরআন তেলাওয়াত শেখা সম্ভব হয়।
ফৎওয়া ও মাসায়েল : দৈনন্দিন জীবনের জটিল সমস্যার সমাধান পেতে এখন আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আলেমদের কাছে যেতে হয় না; নির্ভরযোগ্য ও সঠিক আক্বীদা, মানহায ভিত্তিক অনলাইন ফৎওয়া পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ওয়েব ব্রাউজারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মূল শব্দ বা (Root word) সংক্ষেপে লিখে সার্চ দিলে হুবহু বা কাছাকাছি বিষয়ের সমাধান পাওয়া যেতে পারে। যেমন : www.islamqa.com, www.at-tahreek.com
দো‘আ মুখস্তকরণে স্মার্ট পদ্ধতি : দো‘আ মুখস্তকরণে স্মার্ট পদ্ধতি হিসাবে ফোনের ওয়ালপেপার ব্যবহার করা একটি খুবই সহজ ও কার্যকর উপায়। আমরা প্রতিদিন অসংখ্যবার মোবাইল ফোন দেখি, তাই যদি ওয়ালপেপারে গুরুত্বপূর্ণ দো‘আ, ছোট সূরা বা যিকর লিখে রাখা হয়, তাহ’লে তা বারবার চোখে পড়বে এবং মনের অজান্তেই মুখস্ত হয়ে যাবে। এটি বিশেষ করে তাদের জন্য উপকারী, যারা আলাদা করে সময় বের করতে পারেন না। এই পদ্ধতিতে প্রথমে একটি ছোট ও গুরুত্বপূর্ণ দো‘আ নির্বাচন করে (যেমন ঘুমের দো‘আ, খাওয়ার দো‘আ বা দৈনন্দিন জীবনের যিক্র) তা সুন্দরভাবে আরবী, উচ্চারণ ও অর্থসহ একটি ছবি তৈরি করে সেটিকে ফোনের ওয়ালপেপার হিসাবে সেট করা যায়। এতে করে শুধু মুখস্তই নয়, দো‘আর অর্থও বুাঝা সহজ হয়। এভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই দ্বীনী আমল বৃদ্ধি করা সম্ভব। নিয়মিত চোখে পড়ার কারণে দো‘আ দ্রুত মনে থাকে এবং তা দৈনন্দিন জীবনে আমল করাও সহজ হয়ে যায়।
ই-বুক বা পিডিএফ সংস্করণ বই : ই-বুক (e-Book) বা ইলেকট্রনিক বই হ’ল এমন একটি বই যা কাগজে না ছাপিয়ে ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষিত থাকে এবং মোবাইল, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারের মাধ্যমে পড়া যায়। অন্যদিকে পিডিএফ (PDF) হ’ল একটি জনপ্রিয় ফাইল ফরম্যাট, যার পূর্ণরূপ Portable Document Format; এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে যেকোনো ডিভাইসে একই রকমভাবে লেখা, ছবি ও বিন্যাস দেখা যায়। বর্তমানে ই-বুক ও পিডিএফ বই পড়া খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কারণ এতে একসাথে অনেক বই সহজে বহন করা যায় এবং প্রয়োজন মতো দ্রুত বই খুঁজে তা পড়ার পাশাপাশি লেখা কপি করে অন্য কাজে ব্যবহার করা যায়। ডিজিটাল বইয়ের আরেকটি বড় সুবিধা হ’ল এতে লেখার ফন্টের আকার ছোট-বড় করা, গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাইলাইট করা এবং দ্রুত নির্দিষ্ট শব্দ বা বিষয় সার্চ করা যায়। তবে সেটির জন্য পিডিএফটি Text based হ’তে হবে। স্ক্যান করা ফাইলে এমন সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়। আবার ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন লাইব্রেরী ও ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে বা কম খরচে অসংখ্য বই সংগ্রহ করা যায়। দ্বীনী ইল্ম অর্জনের ক্ষেত্রেও ই-বুক বা পিডিএফ অত্যন্ত সহায়ক। বর্তমানে অনেক প্রকাশক ধর্মীয় বই-পত্র, ম্যাগাজিন, থিসিস পেপার প্রভৃতি পিডিএফ সংস্করণে প্রকাশ করে থাকেন। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের একটি বিষয় স্মরণে রাখা আবশ্যক যে, প্রকাশক কর্তৃক আরোপিত বিধি-নিষেধ মেনে ই-বুক বা পিডিএফ থেকে সুবিধা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় কপিরাইট নিয়ম অনুযায়ী তা বে-আইনী হিসাব গণ্য হবে।
দাওয়াত প্রচারে ডিজিটাল ডিভাইস :
ইসলামের মূল বাণী দাওয়াতের মাধ্যমে প্রচার না করলে অজানা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাবে না। নবী-রাসূলগণ মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী দাওয়াতের মাধ্যমে পৌঁছে দিতেন। সেই সময় দাওয়াতের জন্য পায়ে হেঁটে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে হ’ত। কিন্তু বর্তমানে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস যেমন, মোবাইল ও কম্পিউটারের কল্যাণে আমরা ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এর সুযোগ পাচ্ছি। দাওয়াতী ক্ষেত্রে যেসকল বিষয় বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে তা হ’ল-
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম : ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টুইটার ইনস্ট্রাগ্রাম এমনকি হোয়াট্সঅ্যাপের মতো সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহার করে বর্তমানে বিভিন্ন ছবি, অডিও ক্লিপ, ভিডিও ক্লিপ, ক্যাপশন, স্ট্যাটাস এমনকি লেখনীসহ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ছোট ছোট ক্লিপ বা ‘রিলস্’ এর মাধ্যমে ইসলামের নৈতিক শিক্ষাগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
লাইভ স্ট্রিমিং : বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের দ্বীনী মাহফীল বা জুম‘আর খুৎবা এখন ভিডিওর মাধ্যেম সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। এর ফলে ঘরে বসেই মানুষ ইল্মী মজলিসের নেকী ও জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ পাচ্ছেন।
ইউটিউব : YouTube বর্তমানে দ্বীনী কাজের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে কুরআন তেলাওয়াত এবং বিভিন্ন ইসলামিক লেকচার খুব সহজেই শোনা ও দেখা যায়। বিশ্ববিখ্যাত আলেমদের বক্তব্য এখন ঘরে বসেই শোনা সম্ভব, যা আগে অনেক কঠিন ছিল। ইউটিউবের মাধ্যমে ছালাতের সঠিক পদ্ধতি ব্যবহারিকভাবে জানা এবং বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিতভাবে বুঝা যায়। অনেক ইসলামিক চ্যানেল নিয়মিত শিক্ষামূলক ভিডিও আপলোড করে, যা আমাদের ইল্ম বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এছাড়া শিশুদের জন্যও ইসলামিক শিক্ষামূলক ভিডিও রয়েছে, যা তাদের ছোটবেলা থেকেই দ্বীনের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
মূলত সকল কাজই নিয়ত অনুযায়ী। এইসকল প্ল্যাটফর্মে যদি কেউ কোন বিষয় শেয়ার করে এবং তাতে করে তার ফলোয়ারদের মাঝে একজনও যদি হেদায়েতের পথে ফিরে আসে তাহ’লে তিনি ছাদাক্বায়ে জারিয়াহর নেকী অর্জনের সুযোগ লাভ করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। তবে ইউটিউব ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকা যরূরী। সব ভিডিও যে সঠিক হবে এমন নয়, তাই নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত চ্যানেল বেছে নেওয়া উচিত। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ইউটিউব দ্বীনী ইল্ম অর্জনের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ও সহজ মাধ্যম হ’তে পারে।
প্রাতিষ্ঠানিক ও অনলাইন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে প্রযুক্তি
বর্তমান যুগে প্রযুক্তি ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও অনলাইন উভয় ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের কাছে দ্বীনী ইল্মকে সহজ, দ্রুত এবং বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দিচ্ছে। আগে যেখানে ইল্ম অর্জনের জন্য মাদ্রাসা বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকা যরূরী ছিল, এখন প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই সেই সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে তা বিকল্প হিসাবে নয়। স্মার্ট বোর্ড, প্রজেক্টর এবং কম্পিউটারের মাধ্যমে কুরআন, হাদীছ, তাফসীর ও ফিক্বহ সহজভাবে উপস্থাপন করা যায়। অডিও-ভিডিওর মাধ্যমে তেলাওয়াত, তাজবীদ ও উচ্চারণ শুদ্ধভাবে শেখা সম্ভব হয়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এছাড়া ডিজিটাল লাইব্রেরীর মাধ্যমে বিভিন্ন ইসলামিক গ্রন্থ সহজেই সংগ্রহ ও অধ্যয়ন করা যায়। সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রযুক্তি, ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তারে এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। যেমন-
অনলাইন মাদ্রাসা ও কোর্স : বর্তমানে অসংখ্য অনলাইন মাদ্রাসা পরিচালিত হচ্ছে যেখানে দূরশিখণ (Distance Learning) পদ্ধতিতে কুরআন শিক্ষা, আরবী ভাষা শিক্ষা এবং হিফয সম্পন্ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী ও কর্ম ব্যস্তদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
ওয়েবিনার ও কনফারেন্স : জুম (Zoom) বা গুগল মিট (Google Meet) এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বড় বড় ইসলামিক সেমিনার আয়োজন করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন দেশের স্কলাররা যুক্ত হয়ে ইল্ম বিনিময় করছেন।
স্মার্ট ক্লাসরুম : বর্তমানের আধুনিক মাদ্রাসাগুলোতে প্রজেক্টর এবং ইন্টার¨vক্টিভ বোর্ডের মাধ্যমে গ্রাফিক্যালি বিভিন্ন জটিল বিষয় শেখানো হচ্ছে। তেমনইভাবে সীরাত বা ইসলামের ইতিহাস পড়ানো হচেছ, যা শিক্ষার্থীদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলছে।
ডিজিটাল ডিভাইসে আরবী ভাষা সংযোজন সংক্রান্ত :
কম্পিউটার সিস্টেমে ‘আরবী’ হ’ল কমপ্লেক্স স্ক্রিপ্টের এক প্রকার জটিল ভাষা। একটা সময় ডিজিটাল ডিভাইসগুলোতে শুধু ল্যাটিন বর্ণগুলো ব্যবহৃত হ’ত। যাকে ASCII (American Standard Code for Information Interchange) কোডের বর্ণ বলা হয়। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে জটিল গঠনের ভাষাগুলো ডিজিটাল ডিভাইসে সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য Unicode (Universal Code) আবিষ্কার হয় এবং তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। Unicode হ’ল একটি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় সব ভাষার অক্ষর একই কোডে সংরক্ষণ করা হয়। এর ফলে আরবীসহ বাংলা লেখাও মোবাইল, কম্পিউটার বা ইন্টারনেটে ঠিকভাবে দেখা যায় এবং ভেঙে যায় না। আগে আরবী বা বাংলা লেখার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা হ’ত। ফন্ট না থাকলে লেখা বিকৃত দেখাতো বা ঠিকভাবে পড়া যেত না। কিন্তু Unicode ব্যবহারের কারণে এখন আরবী ভাষার প্রতিটি অক্ষরের নির্দিষ্ট কোড রয়েছে, তাই যেকোনো ডিভাইসে একইভাবে প্রদর্শিত হয়। ফলে কুরআন, হাদীছ, দো‘আ ও অন্যান্য ইসলামিক লেখা সহজে পড়া ও শেয়ার করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন কিবোর্ড অ্যাপ বা সফটওয়্যার ব্যবহার করে খুব সহজেই আরবী টাইপ করা যায়। এর ফলে দ্বীনী জ্ঞান অর্জন, কুরআন অধ্যয়ন এবং ইসলামিক বই পড়া আরও সহজ ও কার্যকর হয়েছে।
ডিজিটাল লাইব্রেরী ও জার্নাল :
বই পড়ার অভ্যাস আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে। এই সকল ডিভাইসের মাধ্যমে ইসলামী সাহিত্যের এক বিশাল ভান্ডার আমাদের সামনে উন্মুক্ত হয়েছে। যেমন-
মাকতাবাতু শামেলা : এটি হ’ল একটি বিখ্যাত ইসলামিক ডিজিটাল লাইব্রেরী সফটওয়্যার, যেখানে হাজার হাজার আরবী কিতাব একসাথে সংরক্ষিত থাকে। এটি বিশেষভাবে আলেম, ছাত্র ও গবেষকদের জন্য খুবই উপকারী একটি মাধ্যম, কারণ এর মাধ্যমে একই জায়গা থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক গ্রন্থ পড়া ও অনুসন্ধান করা যায়। এই সফটওয়্যারে কুরআনের তাফসীর, হাদীছের কিতাব, ফিক্হ, আক্বীদা, ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ের অসংখ্য বই পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হ’ল- এতে সার্চ অপশন রয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শব্দ বা বিষয় খুব দ্রুত খুঁজে বের করা যায় এবং ব্যবহারকারীর লেখা কোন কিতাব সংযোজনও করা যায়। ফলে গবেষণা ও অধ্যয়ন অনেক সহজ হয়ে গেছে। মাকতাবা শামেলার মাধ্যমে আরবী ভাষায় মূল কিতাব পড়ার সুযোগ তৈরি হয়, যা দ্বীনী ইল্ম গভীরভাবে অর্জনে সহায়ক। এটি অফলাইনেও ব্যবহার করা যায়, তাই ইন্টারনেট ছাড়াও কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। বর্তমানে বাংলাভাষী ব্যবহারকারীদের জন্য সফটওয়্যারটির ওয়েব বাংলা সংস্করণও উন্মুক্ত হয়েছে।
ইসলামিক জার্নাল ও গবেষণা : ইন্টারনেটে থাকা বিভিন্ন ইসলামিক রিসার্চ পোর্টালে আধুনিক বিশ্বের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ এবং সেগুলোর শারঈ সমাধান নিয়ে হাজার হাজার প্রবন্ধ পড়া সম্ভব হচ্ছে। এমনকি অনেক উন্মুক্ত Citation ব্যবহার করে কেউ তার গবেষণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারছেন।
ইবাদতে সহায়তাকারী স্মার্ট টুলস
ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসগুলো দৈনন্দিন ইবাদতের ক্ষেত্রেও আমাদের রুটিন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। যেমন-
(১) আযান ও ছালাতের ওয়াক্ত : আযান ও ছালাতের ওয়াক্ত নির্ধারণে ডিজিটাল ডিভাইসের ভূমিকা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন মোবাইল, কম্পিউটার ও ডিজিটাল ঘড়ির মাধ্যমে খুব সহজেই ছালাতের সঠিক সময় জানা যায়। বিভিন্ন ইসলামিক অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট এলাকার সময় অনুযায়ী আযান দিয়ে থাকে, ফলে সঠিক সময়ে ছালাত আদায়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও কমে গেছে।
(২) সাহারী ও ইফতারের সময়সূচী : রামাযান ও রামাযানের বাহিরে ফরজ ও নফল ছিয়াম থাকার জন্য সাহারী ও ইফতারের সময় জানা খুবই যরূরী। এই নির্দিষ্ট সময়গুলো এখন চার্ট আকারে ডিজিটাল ডিভাইসে পাওয়া যাচ্ছে। তাই এখন আর মসজিদের আযানের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।
(৩) ক্বিবলা কম্পাস : অপরিচিত কোন স্থানে গেলে বা ভ্রমণে থাকলে ফোনের সেন্সর ব্যবহার করে সহজেই ক্বিবলার দিক নির্ণয় করা যায়।
ডিজিটাল তাসবীহ ও সতর্কতা : অনেকে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করে তাসবীহ গণনা করে থাকেন। মূলত তাসবীহ হাতের আঙ্গুলেই গণনা করতে হবে (ছহীহ তিরমিযী হা/৩৫৮৩; মিশকাত হা/২৩১৬, সনদ হাসান)। আঙ্গুল ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে তাসবীহ গণনা করার যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তার সনদ ছহীহ নয় (যঈফ তিরমিযী হা/৩৫৬৮; ৩৫৫৪, মিশকাত হা/২৩১১)। তাসবীহ গণনায় ভুল হ’লে বা সন্দেহ হ’লে কোন দোষ নেই। সম্ভবপর সঠিক করার চেষ্টা করতে হবে। আঙ্গলু বিচারের মাঠে তার পক্ষে কথা বলবে। আর সুন্নাত মোতাবেক আমল করলেই কেবল নেকী পাওয়া যায়।
অনেকে মনে করেন বর্তমান যুগের আবিষ্কৃত প্রযুক্তির ব্যবহার ইবাদতের ক্ষেত্রে বিদ‘আত হিসাবে গণ্য হয়। এ ধারণা ভুল। কেননা কেউ এগুলোর ব্যবহার অধিক নেকীর আশায় করে না। তাছাড়া এগুলো মুআমালাত-এর অন্তর্ভুক্ত।
ডিভাইসের সঠিক ব্যবহারে সতর্কতা :
যেকোনো বিষয়ের দু’টি দিক থাকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক। বিশুদ্ধ নিয়তের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে যেমন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব, তেমনি এর অপব্যবহার একজন মানুষকে বিপথে নিয়ে যেতে পারে।
(১) সময় অপচয় রোধ : ডিভাইস ব্যবহারের সময় আমাদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে যেন এটি আমাদের মূল ইবাদত থেকে বিচ্যুত না করে। অনেক সময় আমরা অপ্রয়োজনীয় ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া বা বিনোদনের মধ্যে বেশি সময় ব্যয় করে ফেলি, যা আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে এবং ইবাদতে গাফেলতি সৃষ্টি করে। তাই নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে ডিভাইস ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করা বাঞ্চনীয়। প্রযুক্তিকে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যেন তা আমাদের ইবাদতের বাধা নয়, সহায়ক হয়।
(২) সঠিক উৎস যাচাই : ইন্টারনেটে ইসলামের নামে অনেক ভুল তথ্য, দুর্বল হাদীছ ও বিভ্রান্তিকর কিতাব ছড়িয়ে রয়েছে। তাই কোন কিছু গ্রহণ করার আগে অবশ্যই তা নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে এসেছে কিনা যাচাই করা প্রয়োজন। তাক্বওয়াশীল আলেম, বিশ্বস্ত ইসলামিক ওয়েবসাইট এবং নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ থেকে ইল্ম অর্জন করা উচিত। অজানা বা সন্দেহজনক উৎস থেকে তথ্য নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে এবং অন্যদেরও সতর্ক করতে হবে।
(৩) নৈতিকতা রক্ষা : ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় অশ্লীল, অনৈতিক বা হারাম বিষয়বস্ত্ত থেকে নিজেকে হেফাযতে রাখতে হবে। এছাড়া মিথ্যা তথ্য প্রচার, অন্যকে কটূক্তি করা বা সময় নষ্টকারী কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অনলাইনে বাস্তব জীবনের মতোই সততা, শালীনতা ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখা যরূরী। প্রযুক্তিকে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে, যাতে তা আমাদের চরিত্রকে উত্তমরূপে গঠন করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হয়।
(৪) ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা : ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহারের সময় নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড বা গুরুত্বপূর্ণ ডাটা নিরাপদ রাখা অত্যন্ত যরূরী। অনলাইনে অজানা ব্যক্তি বা অবিশ্বস্ত ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে প্রতারণা বা ক্ষতির সম্ভাবনা কমে এবং নিরাপদভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়।
(৫) উপকারী কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া : ডিভাইস ব্যবহার করার সময় সবসময় এমন কাজকে প্রাধান্য দিতে হবে, যা আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করে এবং দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। অপ্রয়োজনীয় বিনোদনের পরিবর্তে কুরআন তেলাওয়াত, ইসলামিক লেকচার শোনা বা শিক্ষামূলক কনটেন্ট পড়া বেশি উপকারী। এতে সময়ের সঠিক ব্যবহার হয় এবং জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
(৬) আত্মনিয়ন্ত্রণ : ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের মনোযোগ নষ্ট করে, ঘুমে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং ইবাদত ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে ব্যবহার করা, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং প্রয়োজন হ’লে বিরতি নেওয়া উচিত। আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব না হ’লে এটি আমাদের উপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
উপসংহার : আধুনিক যুগে ডিজিটাল ডিভাইস আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি দ্বীনী ইল্ম অর্জন, শিক্ষা, যোগাযোগ এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এসকল ডিভাইস আধুনিক যুগের এক মহান নেয়ামত। এটি মূলত একটি ধারালো ছুরির মতো, যা দিয়ে ফলও কাটা যায় আবার হাতও কাটা যায়। আমরা যদি বিশুদ্ধ নিয়তে এবং পরিকল্পিতভাবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করি, তবে তা আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ ও আখিরাতে নাজাতের অসীলা হবে ইনশাআল্লাহ। বর্তমান যুগে দ্বীনী ইল্ম অর্জন ও প্রচারের জন্য ডিভাইসগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই; বরং এগুলোকে ইসলামের খেদমতে আরও বেশি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা উচিত। আল্লাহ আমাদেরকে প্রযুক্তির সঠিক ও দ্বীনী কাজে ব্যবহারের তৌফিক দান করুন- আমীন।
হাসীবুর রশীদ
[২য় বর্ষ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, প্রযুক্তি ইউনিট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]