ফযীলতপূর্ণ আমলসমূহ
মুহাম্মাদ আবুল কালাম
মুহাম্মাদ আরাফাত যামান 1503 বার পঠিত
ভূমিকা : শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী। ভারত উপমহাদেশের আধুনিক যুগের সংস্কারকদের মধ্যে তিনি সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য আলেম। তাকে The Inspiration of Ahle hadeeth Movement বলে আখ্যায়িত করা হয়। তিনিই প্রথম হাদীছে আরবাঈন লিখেন। তিনি বলেন, হামদ্ ও ছালাতের পর এই চল্লিশটি হাদীছ হ’ল নবী করীম (ছাঃ) হ’তে ধারাবাহিক এবং ছহীহ সনদে বর্ণিত’।[1] যার ব্যাখ্যা একই সাথে খুব প্রাঞ্জল এবং অর্থবহ। যা অধ্যয়নের মাধ্যমে কল্যাণের অভিযাত্রীরা প্রভূত উপকার লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :
নিঃসন্তান পিতা শাহ আব্দুর রহীম-এর ৬০ বৎসর বয়স পার হবার পরে নব পরীণীতা দ্বিতীয়া স্ত্রীর গর্ভে শাহ অলিউল্লাহ, আহ্লুল্লাহ ও হাবীবুল্লাহ নামক পর পর তিনটি পুত্র সন্তান জন্ম লাভ করে। ৭ বৎসর বয়সে শাহ অলিউল্লাহ পবিত্র কুরআনের হাফেয হন। ১০ বৎসর বয়সে ‘শারহে জামী’ শেষ করে পিতার নিকটে ফিক্বহ, উছূলে ফিক্বহ, তাফসীরে বায়যাভী, আক্বায়েদ, মানতিক, মিশকাত ও অন্যান্য কিতাব পড়তে শুরু করেন। এই সময় তাঁর অন্যান্য উস্তাদগণের মধ্যে মুহাম্মাদ আফযাল শিয়ালকোটি, অফ্দুল্লাহ মাক্কী, তাজুদ্দীন মাক্কী প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। ১১৪৩ হিজরীতে তিনি মদীনা গমন করেন এবং শায়েখ আবু তাহের কুর্দী (মৃ. ১১৪৫ হি.)-এর নিকটে ছহীহ বুখারীর পাঠ শুরু করেন। একই সময়ে তিনি তাঁর নিকট থেকে অন্যান্য হাদীছের পাঠ দানের ও সনদ প্রদানের অনুমতি লাভ করেন। উস্তাদ প্রায়ই বলতেন, ‘অলিউল্লাহ আমার নিকট থেকে শব্দের সনদ নিচ্ছে, আর আমি তার নিকট থেকে অর্থের সনদ নিচ্ছি’।
১৫ বৎসর বয়স থেকে বুযুর্গ পিতা তাঁকে আধ্যাত্মিকতার সবক দিতে শুরু করেন এবং ১৭ বৎসর বয়সে তাঁকে ‘বায়‘আত’ গ্রহণের অনুমতি দেন। সে বছরেই তিনি ইন্তেকাল করলে শাহ অলিউল্লাহ আমৃত্যু উক্ত ‘বায়‘আত ও ইরশাদ’-এর আসন অলংকৃত করেন’।[2]
হাদীছের সনদ :
উক্ত কিতাবের ৪০টি হাদীছ নিচের এই একটি সনদ দিয়েই বর্ণিত হয়েছে, তাই প্রতিবার একই সনদ বর্ণনা না করে তা প্রথমবারেই পূর্ণাঙ্গ আকারে দেওয়া হ’ল,
قَالَ الْفَقِيرُ وَلِىُ اللهِ على شَافَهَنِي ابُو الطَّاهِرِ الْمَدَنِي عَنْ أَبِيهِ الشيخ إِبْرَاهِيمُ الكُرْدِي عَنْ زَيْنِ الْعَابِدِينَ عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ الْقَادِرِ عَنْ جَدِهِ يَحْيَى عَنْ جَدِهِ الْمُحِبِّ عَنْ عَيْ أَبِيهِ أَبِي أَيْمَنِ عَنْ أَبِيْهِ شِهَابٍ أَحْمَدَ عَنْ أَبِيهِ رَضِي الدِّينِ عَنْ إِلَى الْقَاسِمِ عَنِ السَّيِّدِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَنْ وَالِدِهِ أَبِي الْحَسَنِ عَنْ وَالِدِهِ أَبِي طَالِبٍ عَنْ ابِي عَلَى عَنْ وَالِدِهِ مُحَمَّدِ زَاهِدٍ عَنْ وَالِدِهِ أَبِي عَلي عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ عَنْ وَالِدِهِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَنْ وَالِدِهِ الْحُسَيْنِ عَنْ وَالِدِهِ جَعْفَرَ عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ زَيْنِ الْعَابِدِينَ عَنْ أَبِيهِ الإِمَامِ الْحُسَيْنِ عَنْ أَبِيهِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :
আল্লাহর নগণ্য বান্দা শাহ অলিউল্লাহ বলেন, আবু তাহের মাদানী আমাকে সরাসরি শুনিয়েছেন তার বাবা শায়েখ ইব্রাহীম কুর্দীর বরাতে যায়নূল আবেদীন হ’তে, সে তার পিতা আব্দুল ক্বাদীর হ’তে, সে তার দাদা ইহইয়াহ হ’তে, সে তার দাদা মুহিব হ’তে, সে তার বাবার চাচা আবী আয়মান হ’তে, সে তার বাবা শিহাব আহমাদ হ’তে, সে তার বাবা রাযীউদ্দীন হ’তে, সে তার বাবা ক্বাসিম হ’তে, সে সাইয়িদ আবু মুহাম্মাদ হ’তে, সে তার পিতা আবুল হাসান হ’তে, সে তার বাবা আবু তালেব সে আবু আলী হ’তে, সে তার পিতা মুহাম্মাদ যাহিদ হ’তে, সে তার পিতা আবু অক্বী হ’তে, সে আবুল ক্বাসেম হ’তে, সে তার পিতা মুহাম্মাদ হ’তে, সে আল-হুসাইন হ’তে, সে তার পিতা জা‘ফর হ’তে, সে তার পিতা আব্দুল্লাহ হ’তে, সে তার পিতা যায়নূল আবেদীন, হ’তে সে তার পিতা হুসাইন (রাঃ) হ’তে, সে তার পিতা আলি ইবনু আবু তালেব (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
১. لَيْسَ الْخَبَرُ کَالْمُعَايَنَةِ ‘সংবাদ আর স্বচক্ষে দেখা সমান নয়’।[3] অর্থাৎ সরাসরি কোন বস্তু প্রত্যক্ষ করা, আর তা প্রত্যক্ষ ব্যতীত সে বিষয়ে শোনা একই প্রভাব ফেলে না। বরং স্বচক্ষে দেখার মাধ্যমে মানুষ বেশী প্রভাবিত হয়।[4]
২. الْحَرْبُ خُدَعَةٌ ‘যুদ্ধ হ’ল কৌশল’।[5] অর্থাৎ অস্ত্র দ্বারা সম্মুখ যুদ্ধে বিজিত হওয়ার চেয়ে বিনা রক্তপাতে যুদ্ধে বিজিত হওয়া অধিকতর কল্যাণকর। যা কখনও দুরদর্শী কূটনীতি ও চুক্তির মাধ্যমেও হয়ে থাকে।
৩. الْمُسْلِمُ مِرْآةُ الْمُسْلِمِ ‘এক মুসলিম অপর মুসলিমের আয়না স্বরূপ’।[6]
৪. الْمُسْتَشَارُ مُؤتَمَنٌ ‘যার নিকট পরামর্শ চাওয়া হয় সে (গোপনীয়তার) আমানতদার’।[7] অর্থাৎ পরামর্শ গ্রহীতার গোপন বিষয়াদি পরামর্শদাতার নিকট তা আমানত।
৫. الدَّالُّ عَلَی الْخَيْرِ کَفَاعِلِهِ ‘কল্যাণ কাজে উৎসাহ দানকারী সেই কাজের আমলকারীর সমান’।[8] অর্থাৎ শুধুমাত্র উৎসাহ দেওয়ার কারণে আল্লাহ উৎসাহ দানকারীকে আমলকারী সমপরিমাণ ছওয়াব দান করবেন।
৬. إِسْتَعِيْنُوْا عَلَی الْحَوَائِجِ بِالْکِتْمَانِ ‘প্রয়োজনীয় সাহায্য গোপনে নাও’।[9] অর্থাৎ নিজের দুর্বলতা বা প্রয়োনীয়তার কারণে কারো নিকট সাহায্য চাইলে তা গোপনে চাওয়া উচিত। কেননা মানুষ আপনার দুর্বলতাগুলো জানতে পারলে আপনাকে পরবর্তীতে হেয় প্রতিপন্ন করবে।
৭. إِتَّقُوْا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ ‘খেজুরের অংশের বিনিময়ে হলেও জাহান্নাম হ’তে বাঁচ’।[10] স্পষ্টত দুনিয়াবী জীবনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে জাহান্নাম হ’তে রক্ষা পাওয়ার কাজগুলো, যদিও তা ক্ষুদ্র হয়।
৮. الدُّنْياَ سِجْنُ الْمُؤمِنِ وَجَنَّةُ الْکَافِرِ ‘দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফেরের জন্য জান্নাত’।[11] কাফেররা তাদের দুনিয়ার ভাল কর্মগুলোর প্রতিদান দুনিয়াতেই পেয়ে যায়। পক্ষান্তরে মুমিনদের জন্য আখেরাতের নাজ-নে‘মত অপেক্ষমান। আর সেটাই তার চূড়ান্ত সফলতা।
৯. الْحَيَاءُ خَيْرٌ کُلُّهُ ‘লজ্জা হ’ল সকল ভালো কাজের মূল’।[12] যার লজ্জা নেই সে যেকোন মন্দ কাজ করতে পারে। ফলে লজ্জাশীল ব্যক্তি তার লজ্জার কারণে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে। ফলে লজ্জাই তার জন্য কল্যাণকর হয়।
১০. عِدَةُ الْمُؤمِنِ کَاَخْذِ الْکَفِّ ‘মুমিনের অঙ্গীকার হাতের বন্ধনের ন্যায় দৃঢ়’।[13] অর্থাৎ সে অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না।
১১. لَا يَحِلُّ لِلْمُؤْمِنِ أَنْ يَّهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ‘মুমিন ব্যক্তির জন্য জায়েয নয়, তিন দিনের অধিক তার ভাইয়ের সাথে কথা না বলে থাকা’।[14] অর্থাৎ রাগ বা অভিমানের কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে তিন দিনের বেশী কথা না বলে থাকা জায়েয নয়।
১২. لَيْسَ مِنَّا مَنْ غَشَّنَا ‘যে ধোঁকা দেয় সে আমাদের (উম্মতের) অন্তর্ভুক্ত নয়’।[15]
১৩. مَا قَلَّ وَكَفَى خَيْرٌ مِمَّا كَثُرَ وَأَلْهَى ‘যা অল্প এবং যথেষ্ট তা উত্তম, তা হ’তে যার অধিকতায় ভ্রষ্টতা রয়েছে’।[16] দুনিয়ার জীবনে অধিক পাওয়ার আশা মানুষকে আল্লাহ বিমুখ করে দেয়। তাই বেশী পাওয়ার চেয়ে অল্প পেলেই জান্নাতে যাওয়ার রাস্তা সুগম হয়।
১৪. الرَّاجِعُ فِيْ هِبَتِهِ کَالرَّاجِعِ فِيْ قَيْئِهِ ‘দান করে তা ফেরৎ নেওয়া নিজের বমি খাওয়ার ন্যায়’।[17] আপনার দানের মাল আপনার জন্য বৈধ নয়। যদিও আপনি তা দান গ্রহীতার কাছ হ’তে কিনে নেন।
১৫. الْبَلَاءُ مُوَکِّلٌ بِالْمَنْطِقِ ‘বিপদ আসে অনর্থক কথার কারণে’। আলবানী হাদীছটিকে ‘যঈফ’ বলেছেন (যঈফুল জামে‘ হা/৬১২৯)।
১৬. النَّاسُ کَأسْنَانِ الْمُشْطِ ‘মানুষ চিরুণীর দাঁতের ন্যায়’। হাদীছটি ‘জাল’ (ইবনে আদী, আল-কামিল হা/৪-২২৫)।
১৭. الْغِنَى غِنَى النَّفْسِ ‘অন্তরের ধনীই প্রকৃত ধনী’।[18]
১৮. الْسَّعِيْدُ مَنْ وُّعِظَ بِغَيْرِهِ ‘সেই সৌভাগ্যবান যাকে পরামর্শ দেওয়া হয়’।[19] অর্থাৎ অন্যদের থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজের ভুলগুলো এড়ানো যায়।
১৯. وَإِنَّ مِنَ الشِّعْرِ لَحِکْمَةً وَاِنَّ مِنَ الْبَيَانِ لَسِحْرًا ‘কিছু কবিতার মাঝে প্রজ্ঞা রয়েছে এবং কিছু বক্তব্যে যাদু রয়েছে’।[20] অর্থাৎ কবিতার মাধ্যমে কল্যাণকর অনেক শিক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু অধিক পরিমাণে কবিতা চর্চার বিষয়ে নবী করীম (ছাঃ) কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর ‘বক্তব্যের মাঝে যাদু’ বলতে এর দ্বারা মানুষের অন্তর আকর্ষিত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
২০. عَفْوُ الْمُلُوْكِ إِبْقَاءٌ لِلْمُلْكِ ‘শাসকের ক্ষমা প্রদর্শনই রাজ্যকে রক্ষা করে’। আলবানী হাদীছটিকে ‘যঈফ’ বলেছেন (যঈফাহ হা/৫৯০৮)।
২১. اَلْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ ‘কোন ব্যক্তি (আখিরাতে) তার সাথেই থাকবে যাকে সে ভালোবাসে’।[21]
২২. مَا هَلَكَ إمْرُؤٌ عَرَفَ قَدْرَهُ ‘যে তার নিজের মর্যাদা ও সক্ষমতা চিনতে পারল, সে ধ্বংস হবে না’। বিন বায (রহঃ) বলেন, আমার নিকট এমন কোন হাদীছ পৌঁছায়নি, বরং আমি এই কথাটিকে মানুষের মাঝে প্রচলিত প্রবাদ হিসাবেই জানি।
২৩. اَلْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَ لِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ ‘বিছানা যার, সন্তান তার। ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর বা রজম’।[22]
২৪. الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى ‘উপরের হাত নিচের হাত হ’তে উত্তম’।[23]
২৫. لَا شَکَرَ اللهَ مَنْ لَّا يَشْکُرُ النَّاسَ ‘যে মানুষের শুকরিয়া আদায় করে না, সে আল্লাহর শুকরিয়াও আদায় করে না’।[24]
২৬. حُبُّكَ الشَّيْءَ يُعْمِي وَيُصِمُّ ‘কোন কিছুর প্রতি ভালোবাসা (আপনাকে) অন্ধ এবং বধির করতে পারে’। আলবানী হাদীছটিকে ‘যঈফ’ বলেছেন (আবুদাঊদ হা/৫১৩০)।
২৭. جُبِلَتِ الْقُلُوبُ عَلی حُبَّ مَنْ اَحْسَنَ اِلَيْهَا وَ بُغْضِ مَنْ اَسَاءَ اِلَيْهَا ‘মানুষের অন্তর এমনভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে যে, যে তার প্রতি ভালো আচরণ করবে সে তাকে ভালোবাসবে এবং যে তার প্রতি মন্দ করবে সে তাকে ঘৃণা করবে’। আলবানী বলেন, হাদীছটি ‘জাল’ (যঈফাহ হা/৬০০)।
২৮. الْتَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ کَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ ‘পাপ হ’তে তওবাকারী এমন যে, তার পূর্বের কোন পাপই ছিল না’।[25]
২৯. الشَّاهِدُ يَرَی مَا لَا يَرَاهُ الْغَائِبُ ‘উপস্থিত ব্যক্তি যা দেখতে পায় (বুঝে) অনুপস্থিত ব্যক্তি তা দেখতে পায় না’।[26] কোন ঘটনায় উপস্থিত আর অনুপস্থিত ব্যক্তির ঔ ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার যোগ্যতা বুঝানো হচ্ছে।
৩০. اِذا جَاءَکُمْ کَرِيْمُ قَوْمٍ فَاَکْرِمُوهُ ‘যদি তোমাদের নিকট কোন সম্মানিত মানুষ আসে, তাহ’লে তাকে সম্মান কর’।[27]
৩১. الْيَمِيْنُ الْفَاجِرَةُ تَدَعُ الدِّيَارَ الْبَلَاقِعَ ‘মিথ্যা কসম নগরসমূহ উজাড় করে দেয়’।[28] অর্থাৎ যে জাতির মাঝে মিথ্যা কসমের রেওয়াজ রয়েছে সেই জাতির ধ্বংস অনিবার্য।
৩২. مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيْدٌ ‘যে তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ’।[29]
৩৩. الْاَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ ‘প্রত্যেক কাজ তার নিয়তের উপর নির্ভরশীল’।[30]
৩৪. سَيِّدُ الْقَوْمِ خَادِمُهُمْ ‘ক্বওমের নেতা সেই ক্বওমের খাদেম’। আলবানী হাদীছটিকে ‘যঈফ’ বলেছেন (যঈফুল জামে‘ হা/৩৩২৩)।
৩৫. خَيْرُ الْأُمُوْرِ أَوْسَطُهَا ‘সর্বোত্তম আমল হ’ল যার মাঝে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা হয়’। আলবানী হাদীছটিকে ‘যঈফ’ বলেছেন (যঈফুল জামে‘ হা/১২৫২)।
৩৬. اَللَّهُمَّ بَارِكْ فِیْ أُمَّتِیْ فِی بُکُوْرِهَا يِوْمَ الْخَمِيْسِ ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের বৃহস্পতিবারের ভোরে বরকত দিন’।[31]
৩৭. کَادَ الْفَقْرُ أَنْ يَکُوْنَ کُفْرًا ‘দরিদ্রতা প্রায়ই কুফরীতে পরিণত হয়’। আলবানী হাদীছটিকে ‘যঈফ’ বলেছেন (যঈফুল জামে‘ হা/৪১৪৮)।
৩৮. الْسَّفَرُ قِطْعَةٌ مِّنَ الْعَذَابِ ‘সফর (ভ্রমণ) আযাবের একটি অংশ’।[32] কেননা সফররত অবস্থায় মানুষের ইবাদত, ঘুম, ক্ষুধা এবং অন্যান্য স্বাভাবিক কাজের ব্যাঘাত ঘটে।
৩৯. خَيْرُ زَّادِ الْتَّقْوَی ‘সর্বোত্তম পাথেয় হ’ল তাক্বওয়া’।[33] অর্থাৎ দুনিয়ার যেকোন সফরে যেমন পাথেয় নিয়ে রওনা দেওয়া হয়, ঠিক একই ভাবে আখিরাতের সর্বোত্তম পাথেয় হ’ল আল্লাহভীতি।
৪০. الْمَجَالِسُ بِالأَمَانَةِ ‘বৈঠকসমূহ আমানতের দাবীদার’।[34]
অর্থাৎ পূর্বে বর্ণিত হাদীছের ন্যায় উক্ত হাদীছেও গোপন কথোপকথনের আমানত রক্ষা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তার সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ (ছাঃ), তার পরিবার এবং সকল ছাহাবীর উপর রহমত করুন-আমীন।
[কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক, বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ]
[1]. শাহ অলিউল্লাহ (রহঃ)-এর ৪০ হাদীছের অধিকাংশই ছহীহ হলেও ২টি জাল এবং কিছু যঈফ হাদীছ রয়েছে। যা অন্যান্য হাদীছগ্রন্থ দ্বারা তাখরীজ করা হয়েছে।
[2]. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষিতসহ’ (থিসিস), ২৫১-২৫৪ পৃ.।
[3]. আহমাদ হা/১৮৪২; মিশকাত হা/৫৭৩৮, আলবানী-ছহীহ।
[4]. হাদীছের সংযুক্ত ব্যাখ্যা পাঠকের বুঝার সুবিধার্থে যুক্ত করা হয়েছে।
[5]. বুখারী হা/৩০৩০।
[6]. ছহীহ আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১৭৮।
[7]. ছহীহ আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১৯৩।
[8]. আলবানী, ছহীহ আত-তিরিমিযী হা/২৬৭০।
[9]. ছহীহাহ হা/১৪৫৩।
[10]. বুখারী হা/৬৫৪০।
[11]. মুসলিম হা/২৯৫৬।
[12]. বুখারী হা/৬১১৭।
[13]. মুসনাদ আদ-দায়লামী হা/৩৯৩০।
[14]. মুসলিম হা/৬৪২৬।
[15]. মুসলিম/১৮৪।
[16]. ছহীহাহ হা/৪৪৩।
[17]. বুখারী হা/২৬২১।
[18]. বুখারী হা/ ৬৪৬৬।
[19]. মুসলিম হা/২৬৪৫।
[20]. ছহীহ আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৬৬৯।
[21]. বুখারী হা/৬১৬৮-৬১৭০।
[22]. বুখারী হা/২০৫৩।
[23]. বুখারী হা/১৪২৯।
[24]. আবু দাঊদ হা/৪৮১১ ছহীহ-আলবানী।
[25]. শারহুস সুন্নাহ, মিশকাত হা/২৩৬৩ হাসান-আলবানী।
[26]. আহমাদ হা/৬২৮ হাসান-আরনাউত্ব।
[27]. ইবনু মাজাহ হা/৩৭১২ হাসান-আলবানী।
[28]. মোল্লা আলী ক্বারী, শারহ মুসনাদে আবু হানীফা হা/৫৩৫ হাসান।
[29]. মুসলিম হা/১৪১।
[30]. বুখারী হা/১, মিশকাত হা/১।
[31]. হাসান, তিরমিযী হা/১২১২; কিন্তু তাতে বৃহস্পতিবার উল্লেখ নেই।
[32]. বুখারী হা/১৮০৪।
[33]. এটি কুরআনের সূরা হজ্জ-এর ১৯৭ নং আয়াত, যার শানে নুযুল ছহীহ বুখারীর ১৫২৩ নং হাদীছে উল্লেখিত হয়েছে।
[34]. আবু দাঊদ হা/৪৮৬৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৭৭৮।