এপস্টেইন ফাইলস : পাশ্চাত্য সভ্যতার মুখোশ উন্মোচন

হাসিবুর রশীদ 5 বার পঠিত

উপস্থাপনা : জেফরি এপস্টেইন ছিলেন গত কয়েক দশকের বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রভাবশালী সামাজিক বলয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক রহস্যময় ও ক্ষমতাধর নেটওয়ার্কের স্থপতি। যার অন্ধকার অন্দরমহল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারীতে ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর অধীনে প্রকাশিত হয়। যাতে ৩০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার নথির মাধ্যমে আজ বিশ্ববাসীর সামনে তা উন্মোচিত। এপস্টেইন প্রভাবশালীদের গোপন লালসাকে অস্ত্রে পরিণত করে এক অভেদ্য দায়মুক্তির রাজত্ব কায়েম করেছিল। যেখানে নথিতে থাকা প্রতিটি নাম, যোগাযোগ ও আর্থিক প্রবাহ আজ ক্ষমতা ও দুর্নীতির এক বহুমাত্রিক ও নগ্ন চিত্রকে জনসমক্ষে তুলে ধরেছে।

একটি বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র উন্মোচন : জেফরি এপস্টেইন কান্ডকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। বিশেষ করে ২০১৮ সালে দ্য ‘মায়ামি হেরাল্ড’-এর ধারাবাহিক প্রতিবেদন। যা ২০০৮ সালের বিতর্কিত ‘সমঝোতা চুক্তি’র অসংগতিগুলো উন্মোচন করে দেখায়, কীভাবে প্রভাবশালীরা ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।

এপস্টেইনের আর্থিক নেটওয়ার্ক, দাতব্য সংযোগ এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সামাজিক সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদ ঘটায়। যা জনআস্থার প্রশ্নটিকে আন্তর্জাতিক বিতর্কে পরিণত করে। সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে আসে, এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ‘গ্রুমিং’ কাঠামোর মাধ্যমে তরুণীদের আস্থায় নিতেন এবং ক্ষমতাকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে এক অভেদ্য সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছিলেন।

গণিত শিক্ষক থেকে ওয়াল স্ট্রিটের বিলিয়নিয়ার : তার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউ ইয়র্কের অভিজাত ডাল্টন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের একজন সাধারণ শিক্ষক হিসাবে। তবে তার উচ্চাকাংখা ছিল আকাশচুম্বী এবং লক্ষ্য ছিল অঢেল সম্পদ। ফলস্বরূপ এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মাধ্যমে ১৯৭৬ সালে তিনি ওয়াল স্ট্রিটের প্রভাবশালী বিনিয়োগ ব্যাংক ‘বিয়ার স্টিয়ার্নস’-এ প্রবেশ করেন। তার প্রখর বুদ্ধিমত্তা এবং মানুষকে দ্রুত প্রভাবিত করার জাদুকরী ক্ষমতা দেখে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মুগ্ধ হন। যার ফলে মাত্র চার বছরের মাথায় তিনি সেখানে পার্টনার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

১৯৮২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তার নিজস্ব সাম্রাজ্য ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কোম্পানী। যেখানে তিনি কেবল সেইসব অতি-ধনকুবেরদের অর্থ পরিচালনা করতেন, যাদের নিট সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারের বেশি ছিল। তদন্তকারীদের মতে, এই সম্পদ ব্যবস্থাপনা ছিল মূলত বিশ্ব রাজনীতির শীর্ষ প্রভাবশালী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলার এবং ক্ষমতার অন্দরমহলে প্রবেশের একটি সুনিপুণ কৌশল বা মোড়ক মাত্র।

ক্ষমতার লজিস্টিক পার্টনার : জেফরি এপস্টেইন তার অর্জিত সম্পদ ও আভিজাত্যকে সুকৌশলে ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের পরম বন্ধু এবং তাদের বিলাসিতার ‘লজিস্টিক পার্টনার’ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল। নববইয়ের দশকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা পাওয়া থেকে শুরু করে ২০০০-এর দশকের শুরুতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে নিয়ে আফ্রিকা সফর ছিল তার মার্কিন রাজনীতির সর্বোচ্চ স্তরে বিচরণ।

তার এই প্রভাব কেবল রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু ছিলেন তার সবচেয়ে বড় ‘ট্রফি ফ্রেন্ড’। এছাড়া বিল গেটসের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত ই-মেইল চালাচালি এবং ইলন মাস্কের মত প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।

মোসাদ কানেকশন : এফবিআই-এর বিস্ফোরক তথ্য অনুযায়ী, সে ইস্রাঈলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একজন এজেন্ট ছিল এবং সাবেক ইস্রাঈলী প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তার এই গোয়েন্দা জগতের সংযোগ মূলত তৈরি হয়েছিল প্রাক্তন প্রেমিকা গিলেন ম্যাক্সওয়েলের বাবা কুখ্যাত মিডিয়া মোগল রবার্ট ম্যাক্সওয়েলের মাধ্যমে। যিনি নিজেই মোসাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত দ্বীপ ও প্রাসাদে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্য ‘হানি ট্র্যাপ’ বা যৌন ফাঁদ তৈরি করতেন এবং গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা সেই ফুটেজগুলো ব্ল্যাকমেইলের অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতেন। এহুদ বারাকের মত শীর্ষ নেতাদের তার অ্যাপার্টমেন্টে নিয়মিত যাতায়াত এবং তাকে ‘প্যালানটি’র মতো গোয়েন্দা সফটওয়্যার কোম্পানিতে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন। সব মিলিয়ে এটি স্পষ্ট যে, এপস্টেইন মোসাদ বা সিআইএ-র মতো সংস্থাগুলোর হয়ে প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণ করার একটি জটিল বৈশ্বিক ছায়া হিসাবে কাজ করত। যা তাকে দীর্ঘ সময় বিচার বিভাগীয় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে সাহায্য করেছিল।

ক্ষমতার আড়ালে এক বিভীষিকাময় ‘পাপের দ্বীপ’ : জেফরি এপস্টেইনের ক্ষমতার জৌলুসপূর্ণ আড়ালে লুকিয়ে ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার ও নির্যাতনের এক ভয়াবহ অন্ধকার সাম্রাজ্য। যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থিত তার ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’। ২০২৬ সালে হাউস ওভারসাইট কমিটির প্রকাশিত নতুন নথিপত্র ও ছবি অনুযায়ী, এই দ্বীপটি কেবল একটি বিলাসবহুল আবাস ছিল না, বরং এটি পরিচিতি পেয়েছিল ‘পেডোফাইল আইল্যান্ড’ বা ‘পাপের দ্বীপ’ হিসাবে। যেখানে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মনোরঞ্জনের জন্য অসহায় কিশোরীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হ’ত।

দ্বীপের সেই অদ্ভুত নীল-সাদা ডোরাকাটা ভবনের নিচে সন্ধান পাওয়া গেছে অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা সম্বলিত শব্দরোধী ভূগর্ভস্থ কক্ষের। যা মূলত ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ আড়াল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তার শয়নকক্ষের দেয়ালে ঝুলানো বিচিত্র ও বীভৎস সব মুখোশ এবং শিল্পকর্মের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এটি ছিল শিশুদের মানসিকভাবে আতঙ্কিত ও নিয়ন্ত্রণ করার একটি পরিকল্পিত টর্চার সেল। যেখানে সুপরিকল্পিত ক্ষমতার দাপটে মানবতাকে পদদলিত করা হ’ত।

অভিজাত শ্রেণির নৈতিক মুখোশ ও নগ্ন দ্বিচারিতা : প্রকৃত ক্ষমতাবানদের কাছে ভোগের চেয়েও বড় মর্যাদার নেশা। আর এই দর্শনকে পুঁজি করে জেফরি এপস্টেইন নিজেকে এক অঘোষিত দরজার প্রহরী বানিয়ে ভোগকে দীক্ষায় এবং সীমালঙ্ঘনকে আভিজাত্যের যোগ্যতায় পরিণত করেছিল। সবচেয়ে নির্মম সত্য হ’ল, এই একই প্রভাবশালী শ্রেণি এক দিকে নিজেদের বিশ্বজুড়ে নৈতিকতার মানদন্ড হিসাবে জাহির করে অন্য দেশগুলোকে ‘বর্বর’ বা ‘সহিংস’ বলে বিচার করে। আবার অন্যদিকে সেই একই নীতিকে তারা আধিপত্য ও দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে।

এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিগুলো এই ব্যবস্থার অন্ধকার দিকটি উন্মোচন করেছে। একইভাবে গাযার ধ্বংসযজ্ঞ তাদের সেই শোষক মানসিকতার প্রকাশ্য রূপটি দেখিয়ে দিচ্ছে। যা আসলে কোনো নৈতিক ব্যর্থতা নয়। বরং তাদের মূল দর্শনেরই চূড়ান্ত প্রকাশ। এই দু’টি প্রেক্ষাপট একত্রিত হয়ে আমাদের শেষ বিভ্রমটুকুও ভেঙে দেয় এবং উন্মোচিত হয় সেই অভিজাত শ্রেণির নগ্ন চেহারা। যারা পর্দার আড়ালে নিজেদের অন্দরমহলে নীরবে দুর্বলদের ওপর পাশবিকতা চালায়। আর পর্দার সামনে প্রকাশ্যে ধ্বংস করে দেয় অগণিত সাধারণ মানুষের জীবন।

বিচারের আড়ালে দায়মুক্তির ইতিহাস : ২০০৫ সালে ফ্লোরিডার এক কিশোরীর অভিযোগের মাধ্যমে জেফরি এপস্টেইনের অপরাধের সাম্রাজ্যে প্রথম ফাটল ধরে। ২০০৮ সালে সে লাভ করেছিল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও অদ্ভুত এক ‘নন-প্রসিকিউশন এগ্রিমেন্ট’। তৎকালীন ফেডারেল প্রসিকিউটর অ্যালেক্সান্ডার অ্যাকোস্টা (যিনি পরবর্তীতে ট্রাম্পের শ্রমমন্ত্রী হন) এমন এক সমঝোতা চুক্তি করেন, যার ফলে আজীবন কারাদন্ডের পরিবর্তে এপস্টেইন মাত্র ১৩ মাসের জেল এবং দিনের বেলা কাজের জন্য বাইরে যাওয়ার অভাবনীয় সুযোগ পায়। যা ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ হিসাবে কুখ্যাত হয়ে আছে।

তবে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর ২০১৯ সালে পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিউইয়র্কের কারাগারে তার রহস্যময় মৃত্যু ঘটে। যদিও সরকারিভাবে একে ‘আত্মহত্যা’ বলা হয়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ উধাও হওয়া এবং প্রহরীদের দায়িত্বহীনতা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ রয়েছে। অনেকের মতে, প্রভাবশালী ও বিশ্ব ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অন্ধকার গোপন তথ্য ফাঁস হওয়া ঠেকাতেই হয়তো পরিকল্পিতভাবে এই মৃত্যুর পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। যাতে বিচারের কাঠগড়ায় তার পরিচিত নেটওয়ার্কের মুখগুলো চিরতরে আড়ালেই থেকে যায়।

তদন্ত, পদত্যাগ ও বিতর্কে প্রভাবশালীরা : যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার জেফরি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এতে প্রভাবশালী রাজনীতিক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বহু ব্যক্তির নাম উঠে আসায় অনেকে অস্বস্তিতে পড়েছেন। কেউ সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। কেউ অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। আবার কারও বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে বা পদত্যাগ করতে হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত চলছে। কেউ সাময়িক অব্যাহতি বা বোর্ড থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের নাম অপসারণ করা হয়েছে। ফলে এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নতুন করে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

উপসংহার : জেফরি এপস্টেইনের এই সামগ্রিক আখ্যান কেবল একজন অপরাধীর উত্থান-পতনের গল্প নয়। এটি আধুনিক বিশ্বের ক্ষমতা, রাজনীতি এবং বিচারব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা এক গভীর পচনের দলীল। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অদম্য লড়াই এবং ২০২৬ সালের নথিপত্র আমাদের সামনে এই রূঢ় সত্যটিই উন্মোচন করেছে। যা অতি-ক্ষমতাশালীরা নিজেদের সুরক্ষার জন্য একটি সমান্তরাল দায়মুক্তির জগত গড়ে তুলেছিল। যেখানে নৈতিকতা ছিল কেবল অন্যদের শাসন করার একটি মুখোশ। এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জীবনের পাশবিকতা আর গাযার মতো প্রকাশ্য ধ্বংসযজ্ঞ আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। যা প্রমাণ করে যে, একদল সুবিধাবাদী অভিজাত শ্রেণি ঘরের ভেতরে দুর্বলকে শোষণ করে। আর বাইরে ন্যায়বিচারের বুলি আউড়ে সভ্যতাকে শাসন করে। পরিশেষে, এপস্টেইন ফাইলস আমাদের শেষ বিভ্রমটুকুও ভেঙে দেয়। এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে সত্য যত গভীরেই চাপা থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত তা বেরিয়ে আসে। যদিও এই সত্য উন্মোচনের পথে হারিয়ে যাওয়া শৈশব আর ছিন্ন হওয়া মানবতাকে হয়তো আর কখনোই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

-হাসিবুর রশীদ

[২য় বর্ষ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, প্রযুক্তি ইউনিট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]



বিষয়সমূহ: ইসলামের সৌন্দর্য
আরও