শয়তানের নিঃশ্বাস (ডেভিল’স ব্রেথ) : মানুষকে সম্মোহন করে সবকিছু নিয়ে যাচ্ছে!
হাসীবুর রশীদ
হাসীবুর রশীদ 1208 বার পঠিত
ডেভিলস ব্রেথ (Devil’s Breath) বা স্কোপোলামাইন (Scopolamine) বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর মাদক হিসাবে পরিচিত। এই মাদক ব্যবহার করে অপরাধীরা ভুক্তভোগীদের মস্তিষ্কে এমন প্রভাব ফেলে, যার ফলে তারা (ভুক্তভোগী) নিজের ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং অপরাধীদের ইচ্ছামতো কাজ করতে বাধ্য হয়। বর্তমানে বাংলাদেশেও এই মাদক ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। মানুষকে সম্মোহন করে সবকিছু নিয়ে যাচ্ছে কেউ অথবা আপনি কারো কথামত সবকিছু তার হাতে তুলে দিচ্ছেন কোনরকম প্রতিবাদ না করেই। অনেকটা যাদু-টোনা করার মত অবস্থা। এগুলো শুরুতে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা মনে হলেও ইদানিং ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই ঘটনাগুলোর পেছনে যাদু-টোনা বা তন্ত্রমন্ত্র কিছুই নেই, এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে ডেভিলস ব্রেথ বা ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত একটি ভয়ঙ্কর ড্রাগ (Drug) স্কোপোলামাইন।
দক্ষিণ আমেরিকার বহু অপরাধের জন্য দায়ী একটি মাদক হ’ল এই স্কোপোলামাইন। এই মাদককে বিশ্বে সবচেয়ে ‘ভয়ঙ্কর মাদক’ হিসাবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েক বছর আগে প্যারিসে রাস্তার ডাকাতিতে এর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। এই মাদকের প্রভাব এতটাই ভয়ঙ্কর যে, এটি মানুষকে নিজের ইচ্ছাশক্তি হারাতে বাধ্য করতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে এই ভয়াবহ গল্পগুলো কতটা সত্যি আর কতটা মিথ্যা, তা বোঝা কঠিন। বিজ্ঞানীরা এই গল্পগুলো নিয়ে সন্দিহান রয়েছেন’।[1]
বাংলাদেশে সম্প্রতি সাধারণ মানুষকে লুটে নিতে ব্যবহার করা হচ্ছে স্কোপোলামাইন (Scopolamine) নামের এই ভয়ঙ্কর ড্রাগটি। এটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘হায়োসিসিন (hyoscine)’ ছাড়াও আরো কয়েকটি নাম রয়েছে যার মধ্যে বুরুন্ডাঙ্গা, কলম্বিয়ান ডেভিল’স ব্রেথ, রোবট ড্রাগ, বা জম্বি ড্রাগ উল্লেখযোগ্য। স্কোপোলোমিন আমাদের দেশের জন্য একেবারেই নতুন, ড্রাগটি দেশে ব্যাপকহারে ব্যবহার না হলেও যেটুকু ব্যবহার এখন পর্যন্ত হয়েছে তাতে সর্বশান্ত হয়েছে বেশ কিছু মানুষ। ভয়ংকর মাদক ডেভিল’স ব্রেথ বা স্কোপোলামাইন নিয়ে সতর্কতামূলক কিছু তথ্য পাঠকদের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হ’ল।
ডেভিল’স ব্রেথ (Devil’s Breath) এর উৎপত্তি :
ডেভিলস ব্রেথ মূলত কলম্বিয়ার একটি গুল্মজাত উদ্ভিদ ‘বোরাচেরো’-র ফুল থেকে প্রাপ্ত। এই উদ্ভিদের বীজ থেকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ‘বুরানডাঙ্গা’ নামের এক যৌগ তৈরি হয়, যা স্কোপোলামিন নামক রাসায়নিকের অনুরূপ। স্কোপোলামিন একধরনের সিনথেটিক ড্রাগ। এর মূল উপাদান আসে ধুতরা ফুল থেকে। প্রাচীন আমলে দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসীরা এটি তাদের আধ্যাত্মিক আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহার করত। এই রাসায়নিকটি হ্যালুসিনেশন, ভয়ঙ্কর ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা এবং ইচ্ছাশক্তি হ্রাস ঘটাতে পারে। পাশাপাশি এটি স্মৃতিভ্রংশ ঘটিয়ে অপরাধীদের সহজ শিকার বানায়।
ল্যাটিন আমেরিকার কলম্বিয়ায় ছাড়াও ইকুয়েডর ও ভেনিজুয়েলাতেও এই মাদকটির যথেষ্ট বিস্তার রয়েছে। বাংলাদেশের ধুতরা ফুলের মতোই দেখতে এবং একই প্রজাতির সুন্দর স্কোপোলামাইন মুলত নাইটশেড পরিবারভুক্ত ফুলের গাছ। বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই গাছের বীজ থেকেই আসে এই ভয়ংকর ড্রাগটি। ড্রাগটি দেখতে হুবহু কোকেন পাউডারের মতই সাদা। তবে এর ক্ষতির মাত্রা কোকেন থেকে বহুগুণে বেশি। মূলত এই ভয়ংকর ব্যাপারটা যুক্ত হয়েছে এর তীব্রতার কারণে। মাত্র ১ গ্রাম স্কোপোলামিন দিয়ে প্রায় এক ডজনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা সম্ভব!
স্কোপোলামাইন (Scopolamine) এর ব্যবহার :
১৯৯০ সালের দিকে অ্যানেসথেসিয়ার জন্য প্রথম স্কোপোলামাইন ব্যবহার শুরু হয়। অ্যানেসথেসিয়ার জন্য প্রথমে এককভাবে স্কোপোলামাইন ব্যবহারের প্রস্তাব করা হলেও পরে স্কোপোলামাইন এবং মরফিনের সংমিশ্রণে ব্যবহার করা হয়। যা প্রসবকালীন অ্যামনেসিয়া এবং সিনারজিস্টিক ব্যাথা কমানোর জন্য বছরের পর বছর ব্যবহার করা হ’ত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইন্টারোগেশন সেলে শত্রুপক্ষের আটককৃত সৈন্যদের কাছ থেকে তথ্য আদায় করার জন্য স্কোপোলামাইন ব্যবহার করা হ’ত। এটা ব্যবহারের ফলে ভিকটিমের চিন্তাশক্তির নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে থাকে না। ফলে ব্রেন তখন কোন মিথ্যা বলতে পারে না। তবে কতটুকু সত্যি বলে তা নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্যও রয়েছে। কারণ এর যথাযোগ্যতা ৪৪ শতাংশ। তবে চামড়ার মাধ্যমে স্কোপোলামাইন দেহে প্রবেশ করালে এটার প্রতিক্রিয়া শুরু হ’তে ২০ মিনিট সময় লাগে এবং ৮ ঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ী হ’তে পারে। এই সময়ের মধ্যে যিনি স্কোপোলামাইন গ্রহণ করলেন তিনি থাকেন ‘গোধুলী ঘুম’ বা টুইলাইট স্লিপে। আর এই সময়ের মধ্যে তাকে দিয়ে সব কিছুই করানো সম্ভব। এটা মন ও শরীরকে এতোটাই আচ্ছন্ন করে ফেলে যে, এতে ব্যক্তি নিজের চিন্তা শক্তি হারিয়ে অন্যের কথা মতো কাজ করতে থাকে। এমনকি নিজেকে নিজে খুন করার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটতে পারে অনায়েসেই। কিন্তু যখন এই মাদকের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়, তখন ভিকটিম তার সাথে ঘটে যাওয়া কিছুই মনে করতে পারে না। তাই প্রতিকার পাওয়ারও কোন পথ থাকেনা’।[2]
বাংলাদেশে স্কোপোলামাইন আতঙ্ক :
ঘটনাসমূহ :
১. দাদুর কাছে হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ২০২৪ সালের ৮ জুলাই সোমবার বিকেল ৩টায় বাসা থেকে বের হয় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আনাস আমীন। কাছেই হাসপাতাল হওয়ায় হেঁটেই যাওয়ার সময় এক অটোরিকশাসহ দুই আরোহী আনাসকে সামনে নামিয়ে দেয়ার কথা বলে আগবাড়িয়ে সাহায্য করতে আসেন। যেতে অসম্মতি জানিয়ে ‘টাকা আনিনি’ বললে তারা জানায় সমস্যা নেই, ভাড়া দেয়া লাগবেনা। চাচার বয়সী গুরুজনের পিড়াপিড়িতে আনাস তাদের সঙ্গে অটোরিকশায় উঠেন। কথা বলার একপর্যায়ে তার মুখের সামনে একটি কাগজের নোট ঘুরিয়ে দিলে এক অদ্ভুত ও ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র আনাস। পরে উপস্থিত বুদ্ধির মাধ্যমে সে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হয়’।[4]
২. রাজধানীর মাদারটেক আযীয স্কুল মহল্লার বাসিন্দা রঞ্জু মনোয়ারা। তিনি ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারী অনলাইনে পুরাতন ফ্রিজ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। ফ্রিজ কেনার কথা বলে আশিক নামের এক ক্রেতা তার বাড়িতে আসে। ফ্রিজ দেখে তার মোটামুটি পছন্দ হয়। পরদিন সে তার স্ত্রী পরিচয়ে এক মহিলাকে সাথে নিয়ে আসে। তারা রঞ্জু মনোয়ারার ড্রয়িংরুমে বসে কথা বলছিল। এক সময় রঞ্জু মনোয়ারা ওই মহিলার হাতে তুলে দেন তার গলা ও হাতের অলংকার, ঘরে রাখা নগদ টাকাসহ কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার। কিছুক্ষণ পর তারা ওই বাসা থেকে বিদায় নেয়। তাদের এগিয়েও দেন রঞ্জু মনোয়ারা। তবে কিছু সময় পর পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসায় এসে সবকিছু এলোমেলো দেখে প্রশ্ন করতেই তিনি বেহুঁশ হয়ে যান। হুঁশ ফেরার পর একে একে তার মনে পড়তে থাকে আগের ঘটে যাওয়া সব দৃশ্য। তবে ততক্ষণে সব শেষ’।[5]
৩. ঢাকার তাহমিনা বেগম (ছদ্মনাম) কিছুদিন আগে ‘অদ্ভূত’ এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন। বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার সময় হঠাৎ তার পথ আগলে দাঁড়ায় অপরিচিত এক নারী। সেই নারী তার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে জানতে চান কোন একটি ঠিকানা। এরপরই সামনে আসে আরেক যুবক। মাত্র দুই/তিন মিনিট কথার পরই তাহমিনার কী যেন হয়ে যায়। তাহমিনা বলছিলেন, ব্যাপারটা অদ্ভূত এবং ভয়ংকর। লোকটা আমার কাছে জানতে চায় এলাকায় পরিচিত কোন গরীব কিংবা এতিম আছে কি না। সে তাকে সাহায্য করবে। এরকম একটা গরীব পরিবার আমার বাড়ির কাছে ছিল। তাই আমি বিস্তারিত জানতে চাই। ওদের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলি। এরপরই কী যেন হয়ে গেল, আমার আর বুদ্ধি কাজ করছিল না। একপর্যায়ে তাহমিনা বেগম অপরিচিত ঐ নারী ও যুবকের কথা মতো তার কানের দুল, গলার চেইন এবং সঙ্গে থাকা কয়েক হাযার নগদ টাকা তুলে দেন। ওরা বলল, আন্টি আপনার গয়না আর টাকাগুলো ব্যাগে রাখেন। নইলে হারিয়ে যেতে পারে। আমি ঠিক সেটাই করলাম। আমার মাথায় আসল না যে কেন আমি এগুলো খুলব, কেন হারিয়ে যাবে বা কেন ব্যাগে রাখব? তারপর ছেলেটা বলল, আমার সঙ্গে আসেন। তখন আমি আমার ব্যাগ মেয়েটার কাছে দিয়ে ছেলেটার পেছনে হাঁটতে শুরু করি। কিছুদূর হাঁটার পরই তাহমিনা বেগমের সম্বিত ফিরে আসে। তখন তিনি ছেলেটাকে আর দেখতে পাচ্ছিলেন না। ফেরত এসে মেয়েটাকেও আর পাননি। সেদিনের সেই ঘটনায় তিনি তার সোয়া ভরি স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, নগদ টাকা এবং মোবাইল খুইয়ে আসেন। তিনি বলেন, আমি এখনও বুঝতে পারি না কীভাবে কী হয়ে গেল। ওরা আমাকে কিছুই করেনি। শুধু কাছাকাছি ছিল এবং মেয়েটা মুখের সামনে হাত নেড়ে একটা ঠিকানা জিজ্ঞেস করেছিল’।[6]
৪. গত বছরের ২২শে মে অপরাধী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজে পুলিশ দেখতে পায়, ফাতেমা বেগম নামের এক নারী মুহাম্মাদ জনি ও তাঁর সঙ্গীদের পেছন পেছন হেঁটে যাচ্ছেন। তাদের নির্দেশমতো নিজের কানের দুল, গলার চেইন খুলে দিচ্ছেন, যার মূল্য প্রায় ৮০ হাযার টাকা। এ ছাড়া ফাতেমা বেগম মুঠোফোন ও বাজারের ব্যাগও অপরাধীদের হাতে স্বেচ্ছায় তুলে দেন। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটা ঘোরের মধ্যে তিনি এসব করে যাচ্ছিলেন। ঘোর কেটে গেলে বুঝতে পারেন অপরাধীরা ফুঁ দিয়ে একধরনের পাউডার তার নাকের কাছে ছড়িয়ে দিয়েছিল, সেই পাউডার তার নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করতেই তিনি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপরাধীদের কথামতো কাজ করতে থাকেন’।[7]
সতর্কতা ও করণীয় :
বর্তমান সময়ে মানুষ চেনা খুবই কঠিন। মানুষের মাঝে আমানতদারিতা হারিয়ে যাচ্ছে। নেই কোন আল্লাহভীতি। ফলে মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হয়ে অন্য মানুষকে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমাদের সর্বদা আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যদিয়ে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হবে। উপরিউক্ত ঘটনা থেকে রেহাই পেতে আমাদের যেসকল কাজ করা প্রয়োজন তা হ’ল-
১. বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় দো‘আ পাঠ করতে হবে।بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ- ‘বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কাল্তু ‘আলাল্লা-হি ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ’ (আমি আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, তাঁর উপরে ভরসা করছি। নেই কোনক্ষমতা নেই কোন শক্তি আল্লাহ ব্যতীত)।[8]
بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لاَ يَضُرُّ مَعَ إِسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ- ‘বিস্মিল্লা-হিল্লাযী লা-ইয়াযুর্রু মা‘আ ইসমিহী শাইয়ুন ফিল্ আর্যি ওয়ালা ফিসসামা-ই ওয়া হুয়াস সামী‘উল ‘আলীম’ (আমি ঐ আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামে শুরু করলে আসমান ও যমীনের কোন বস্ত্তই কোনরূপ ক্ষতিসাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি উক্ত দো‘আ সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার করে পড়ে, কোন বালা-মুছীবত তাকে স্পর্শ করবে না’। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘সন্ধ্যায় পড়লে সকাল পর্যন্ত এবং সকালে পড়লে সন্ধ্যা পর্যন্ত আকস্মিক কোন বিপদ তার উপরে আপতিত হবে না’।[9]
২. এই সময়ে সব থেকে বেশি জরুরী নিজের সাবধানতা। তাই রাস্তাঘাটে অপরিচিত সকলের থেকে সবসময় সতর্কতা অবলম্বন করুন। বিশেষ করে জুয়েলারি ও ব্যাংক থেকে বের হবার সময় সাবধান থাকুন। রিক্সার যাত্রী ও পথচারী হবার সময়েও কড়া নযর রাখুন।
৩. বৈশ্বিক এয়ার ইনডেক্সের টপলিস্টে থাকা বসবাসের অযোগ্য দূষিত ও ধুলাময় শহরগুলোয় ডাস্ট অ্যালার্জি, মলম পার্টি, ক্লোরোফর্ম, কোডিভ ১৯ ও ডেভিল’স ব্রেথ পার্টিসহ আরো যত বায়ু বাহিত অজানা সব বিপদ রয়েছে তা থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক ব্যবহার করুন। মাক্স পড়ার সুবিধা হ’ল দুষ্কৃতিকারীরা আপনাকে সহজে টার্গেট করবে না এবং টার্গেট করলেও মাস্ক আপনাকে প্রটেকশন দিবে এবং সচেতন হলে ততক্ষণে আপনি বুঝে যাবেন যে আপনার সাথে কী হ’তে যাচ্ছে’!
৪. রাস্তায় বা যানবাহনে চলাচলের সময় অপরিচিত কারও কাছ থেকে কোনো খাবার বা পানীয় খাওয়া যাবে না।
৫. অপরিচিত কেউ ভিজিটিং কার্ড বা কাগজ মুখের সামনে ধরার চেষ্টা করলে সাবধান হ’তে হবে।
৬. সমস্যায় পড়লে নিকটস্থ থানা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে।
৭. মাত্রাতিরিক্ত মনে হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।[10]
হাসীবুর রশীদ
[১ম বর্ষ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল,
ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, প্রযুক্তি ইউনিট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।]
[1]. দৈনিক ইনকিলাব, ২৮ জানুয়ারি ২০২৫।
[2]. মুক্তপ্রাণ (তথ্য ভিত্তিক বাংলা ব্লগ)।
[3]. নিউজ ডেস্ক, আমাদের সময়, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১।
[4]. ডেইলি ক্যাম্পাস, ০৯ জুলাই ২০২৪।
[5]. যুগান্তর, ২৩ জানুয়ারি ২০২৩।
[6]. বিবিসি নিউজ বাংলা, ১০ই মে ২০২৪।
[7]. প্রথম আলো, ৩রা জুন, ২০২৫।
[8]. তিরমিযী হা/৩৪২৬; আবুদাঊদ হা/৫০৯৫; মিশকাত হা/২৪৪৩।
[9]. তিরমিযী হা/৩৩৮৮, আবুদাঊদ হা/৫০৮৮, মিশকাত হা/২৩৯১।
[10]. প্রথম আলো, ১৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৫।