আতিথেয়তা
তাওহীদের ডাক ডেস্ক
তাওহীদের ডাক ডেস্ক 261 বার পঠিত
আল-কুরআনুল কারীম :
১- لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ-
(১) ‘দ্বীনের ব্যাপারে কোন যবরদস্তি নেই। নিশ্চয়ই সুপথ ভ্রান্তপথ হ’তে স্পষ্ট হয়ে গেছে। এক্ষণে যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে ও আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করে, সে এমন এক মযবুত হাতল অাঁকড়ে ধরল, যা কখনোই ভাঙ্গবার নয়। বস্ত্তত আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ’ (বাক্বারাহ ২/২৫৬)।
২- وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا وَلَوْ شَاءَ اللهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَكِنْ لِيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ إِلَى اللهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ-
(২) ‘আর আমরা তোমার নিকট এ কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছি সত্য সহকারে যা তার পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের সত্যায়নকারী ও হেফাযতকারী। অতএব তুমি তাদের মধ্যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফায়ছালা কর এবং তোমার কাছে যে সত্য এসেছে তা ছেড়ে ওদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আমরা পৃথক পৃথক বিধান ও পন্থা নির্ধারণ করেছি। আল্লাহ চাইলে তোমাদের সবাইকে তিনি এক দলভুক্ত করে দিতেন। কিন্তু তিনি চান তোমাদেরকে যে বিধানসমূহ দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নিতে। অতএব তোমরা আল্লাহর আনুগত্যের কর্মসমূহে প্রতিযোগিতা কর। (মনে রেখ) আল্লাহর নিকটেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন স্থল। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন যেসব বিষয়ে তোমরা মতভেদ করতে’ (মায়েদাহ ৫/৪৮)।
৩- وَلَوْ شَاءَ اللهُ مَا أَشْرَكُوا وَمَا جَعَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا وَمَا أَنْتَ عَلَيْهِمْ بِوَكِيلٍ- وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللهِ فَيَسُبُّوا اللهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ كَذَلِكَ زَيَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ عَمَلَهُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ مَرْجِعُهُمْ فَيُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ-
(৩) ‘যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তারা শিরক করত না। আর আমরা তোমাকে তাদের উপর পাহারাদার নিযুক্ত করিনি। আর তুমি তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নও’। ‘(হে বিশ্বাসীগণ!) তোমরা তাদের গালি দিয়োনা যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যকে আহবান করে। তাহ’লে ওরা অজ্ঞতাবশে বাড়াবাড়ি করে আল্লাহকে গালি দিবে। এভাবে আমরা (মুমিন-কাফের) প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিকট তাদের স্ব স্ব কর্মকে সুশোভিত করে দিয়েছি (পরীক্ষা স্বরূপ)। অবশেষে তাদেরকে তাদের প্রভুর নিকটেই ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন’ (আন‘আম ৬/০৬-১৮)।
৪- وَإِنْ كَانَ طَائِفَةٌ مِنْكُمْ آمَنُوا بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ وَطَائِفَةٌ لَمْ يُؤْمِنُوا فَاصْبِرُوا حَتَّى يَحْكُمَ اللهُ بَيْنَنَا وَهُوَ خَيْرُ الْحَاكِمِينَ-
(৪) ‘আর আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তা যদি তোমাদের একদল বিশ্বাস করে ও একদল অবিশ্বাস করে, তাহ’লে তোমরা ধৈর্যধারণ কর যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে ফায়ছালা করে দেন। কারণ তিনিই হ’লেন শ্রেষ্ঠ ফায়ছালাকারী’ (আ‘রাফ ৭/৮৭)।
৫- وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَآمَنَ مَنْ فِي الْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ- وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تُؤْمِنَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَجْعَلُ الرِّجْسَ عَلَى الَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ-
(৫) যদি তোমার প্রতিপালক চাইতেন, তাহ’লে পৃথিবীর সকল মানুষই ঈমান আনত। তবে কি তুমি লোকদের উপর যবরদস্তি করতে চাও যাতে তারা সবাই ঈমানদার হয়?’। ‘বস্ত্তত আল্লাহর হুকুম ব্যতীত কেউ ঈমান আনতে পারে না। আর তিনি (কুফরীর) অপবিত্রতা আরোপ করেন ঐসব লোকদের উপর যারা নির্বোধ’ (ইউনুস ১০/৯৯-১০০)।
৬- فَاصْبِرْ عَلَى مَا يَقُولُونَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا وَمِنْ آنَاءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضَى-
(৬) ‘অতএব এরা যা কিছু বলে, তাতে ধৈর্যধারণ কর এবং তোমার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে। আর পবিত্রতা বর্ণনা কর রাত্রিকালে ও দিবসের প্রান্তসমূহে। সম্ভবত তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যাবে’ (ত্বোয়াহা ২০/১৩০)।
৭- لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ فَلَا يُنَازِعُنَّكَ فِي الْأَمْرِ وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ إِنَّكَ لَعَلَى هُدًى مُسْتَقِيمٍ- وَإِنْ جَادَلُوكَ فَقُلِ اللهُ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ- اللهُ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ-
(৭) ‘প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমরা ইবাদতের পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি, যা তারা পালন করে থাকে। অতএব তারা যেন এ ব্যাপারে তোমার সাথে বিতন্ডা না করে। আর তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের দিকে আহবান কর। নিশ্চয়ই তুমি সরল পথের উপর প্রতিষ্ঠিত’। ‘আর যদি তারা তোমার সাথে ঝগড়া করে, তবে বলে দাও যে, তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে সর্বাধিক অবগত’। ‘যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছ, সে বিষয়ে আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে ফায়ছালা করে দিবেন’ (হজ্জ ২২/৬৭-৬৯)।
৮- فَلِذَلِكَ فَادْعُ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَقُلْ آمَنْتُ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ مِنْ كِتَابٍ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ اللهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ لَا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ اللهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ-
(৮) ‘সুতরাং দ্বীনের জন্যই তুমি তাদেরকে আহবান কর এবং তুমি অবিচল থাক যেভাবে তুমি আদিষ্ট হয়েছ। তুমি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। তুমি বল, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন তাতে আমি বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আর আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক। আমাদের জন্য আমাদের কর্ম ও তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম। আমাদের ও তোমাদের মাঝে কোন ঝগড়া নেই। আল্লাহ আমাদের একত্রিত করবেন। আর তাঁর দিকেই হবে সকলের প্রত্যাবর্তন’ (শূরা ৪২/১৫)।
হাদীছের বাণী :
৯- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قِيلَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَىُّ الأَدْيَانِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ قَالَ الْحَنِيفِيَّةُ السَّمْحَةُ-
(৯) ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হ’ল, কোন্ দ্বীন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশী পসন্দনীয়? তিনি বললেন, সেই সরল দ্বীন, যা একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের উপর প্রতিষ্ঠিত’।[1]
১০- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْمَحْ يُسْمَحْ لَكَ-
(১০) ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, তুমি উদার হও, তোমার সঙ্গেও উদারতা করা হবে’।[2]
১১- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ- صلى الله عليه وسلم- دَخَلَ رَجُلٌ الْجَنَّةَ بِسَمَاحَتِهِ قَاضِياً وَمُتَقَاضِياً-
(১১) আব্দুল্লাহ বিন ‘আমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করেছে তার উদারতার কারণে, সে বিচারক হিসাবেও উদার ছিল এবং নিজের পাওনা চাওয়ার ক্ষেত্রেও সহনশীল ছিল’।[3]
১২- عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: رَحِمَ اللهُ رَجُلاً سَمْحًا إِذَا بَاعَ وَإِذَا اشْتَرَى وَإِذَا اقْتَضَى-
(১২) জাবের (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করেন, যে ব্যক্তি উদার; যখন সে ক্রয় করে, যখন সে বিক্রয় করে এবং যখন সে পাওনা তলব করে’।[4]
১৩- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَنْ يَحْرُمُ عَلَى النَّارِ وَبِمَنْ تَحْرُمُ النَّارُ عَلَيْهِ؟ عَلَى كُلِّ هَيِّنٍ لَيِّنٍ قَرِيبٍ سَهْلٍ-
(১৩) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকের সংবাদ দিব না, যার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যায়, আর আগুনও তাকে স্পর্শ করতে পারবে না? এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যার মেযাজ নরম, স্বভাব কোমল, মানুষের নিকটতম (মিশুক) এবং আচরণ সরল-সহজ’।[5]
মনীষীদের বক্তব্য :
১. হাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ) বলেন, ‘আল্লাহ যখন কোনো জাতির মঙ্গল কামনা করেন, তখন তিনি তাদের শাসক হিসাবে সেরা ও সৎ মানুষদের নিয়োগ দেন। আর তাদের জীবিকার দায়িত্ব দেন উদার লোকদের হাতে’।[6]
২. ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, ‘তুমি মানুষের সাথে ভদ্রভাবে চলাফেরা কর। তোমার সাথে যে খারাপ আচরণ করে, তাকেও ক্ষমা কর। আর যদি প্রতিরোধ করতে হয়, তবে তা উত্তমভাবে করা’।[7]
৩. ইবনু মুকবিল (রহঃ) বলেছেন, ‘যখন কোন অভাবী মানুষ আমার কাছে সাহায্য চাইতে আসে, তখন সহায়তা করা সঠিক ও সহজ জেনেও কোনো অজুহাত দেখাতে আমার লজ্জা লাগে’।[8]
সারবস্ত্ত :
১. উদারতা মানুষকে স্বীয় পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, ভাই-বোন ও অন্যের প্রতি উত্তম আচরণ করতে এবং বিনম্র হ’তে শেখায়। ২. উদারতার মাধ্যমে অন্যের হৃদয়ে স্থায়ী আসন তৈরী করা যায়। ৩. সালাফে ছালেহীন ক্ষমা ও উদারতার মাধ্যমে স্বীয় দ্বীনী আদর্শ অপরের নিকট তুলে ধরেছেন।
[1]. আহমাদ হা/২১০৭; ছহীহাহ হা/৮৮১।
[2]. আহমাদ হা/২২৩৩; মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/৬৩১০; ছহীহাহ হা/১৪৫৬।
[3]. আহমাদ হা/৬৯৬৩, হাদীছ ‘হাসান’ আরনাউত্ব।
[4]. বুখারী হা/২০৭৬; মিশকাত হা/২৭৯০।
[5]. আহমাদ, তিরমিযী, হা/২৪৮৮; মিশকাত হা/৫০৮৪, সনদ ছহীহ।
[6]. আল-মুসতাত্বরিফ ১/২৭২ পৃ.।
[7]. দিওয়ানুশ শাফেঈ ১১৯ পৃ.।
[8]. লিসানুল আরাব ২/৪৯০ পৃ.।